কাঠুরের মেয়ের বিয়ে

হানিফ রাজা »

এক বনের ধারে থাকত এক গরীব কাঠুরে। তার একটাই মেয়ে রূপা। মেয়ে যেমন সুন্দর, তেমনি দয়ালু। বাবা কাঠ কেটে এনে বাজারে বিক্রি করত, তাতে অল্প টাকাই পেত।
ওই গ্রামে ছিল এক জাদুকরী গরু। দেখতে সাধারণ গরুর মতো হলেও, সে আসলে মানুষের রূপ নিতে পারত। কিন্তু অভিশাপে আটকে ছিল গরুর শরীরে। দিনে সে ঘাস খেত, আর রাতে জঙ্গলের পাশে মন খারাপ করে বসে থাকতো।
একদিন রূপা জঙ্গলে কাঠ কুড়োতে গিয়ে গরুটিকে দেখে। গরুটি দুঃখী চোখে রূপার দিকে তাকিয়ে ছিল। রূপা সেদিকে খেয়াল না করে কাঠ কুড়াতে ব্যস্ত। হঠাৎ সে শুনতে পেলো পিছন থেকে কে যেনো তাকে ডাকছে, আর বলছে ‘আমাকে সাহায্য করো।’ তারপর সে চারপাশে তাকিয়ে দেখে গরুটি ছাড়া আর কেউ নেই সেখানে।
তখন সে খেয়াল করে দেখলো গরুটি আবার বলছে ‘আমাকে সাহায্য করো।” প্রথমে সে অবাক হলো আর ভাবতে লাগলো- গরু কি কখনো কথা বলতে পারে?
এরপর সে গরুটির কাছে জিজ্ঞেস করলো- ‘ওমা তুমি কথা বলতে পারো?’
সে আরো দেখলো গরুটির চোখ দিয়ে অঝরো পানি ঝরছে।
তখন রূপা জিজ্ঞেস করল
“তুমি এভাবে কাঁদছ কেন?”
গরু উত্তর দিল
“আমি আসলে মানুষ। এক দুষ্ট জাদুকরের অভিশাপে গরু হয়ে আছি। যে মেয়ে আমাকে ভালোবাসবে, কেবল তাকেই বিয়ে করলে অভিশাপ ভাঙবে।”
রূপা অবাক হলো, কিন্তু তার মায়াবী মন বলল
“আমি তোমার কষ্ট বুঝতে পারছি। যদি আমার ভালোবাসায় তোমার অভিশাপ ভাঙে, তবে আমি রাজি।”
তারপর রূপা গরুটিকে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসে এবং তার বাবাকে বিস্তারিত খুলে বলে।
পরের দিন গ্রামে হৈচৈ পড়ে গেল কাঠুরের মেয়ের গরুর সাথে বিয়ে হচ্ছে! সবাই হাসাহাসি করল। কিন্তু রূপা গরুকে সবার সামনে মালা পরিয়ে দিল।
হঠাৎ আকাশে বজ্রপাত হল, ঝড় বয়ে গেল। আর তারপরই বিস্ময়কর ঘটনা গরুটির রূপ বদলাল। সোনার মুকুট মাথায় এক রাজপুত্র দাঁড়িয়ে রইল!
রাজপুত্র আনন্দে রূপার হাত ধরল
“তুমি আমার জীবন বাঁচালে। এখন থেকে তুমি হবে আমার রানি।”
এই বলে রাজপুত্র রূপাকে নিয়ে তার রাজপ্রাসাদে ফিরে গেলো।
গ্রামের সবাই অবাক হয়ে চেয়ে রইল। কাঠুরের কুঁড়েঘর থেকে রূপা হয়ে গেল এক রাজকন্যা।
আর তারা সুখে-শান্তিতে রাজপ্রাসাদে বাস করতে লাগলো এবং রাজ্যে রাজ্যে ঘুরে বেড়াতে লাগলো।
এ গল্পটি থেকে আমরা শিখতে পাই-
সত্যিকারের ভালবাসা কেবল চোখে দেখা নয়, মন দিয়ে বোঝা। আর দয়া ও সাহস থাকলে অসম্ভবও সম্ভব হয়ে যায়।