ইরান যুদ্ধে মার্কিন হামলার কঠোর সমালোচনা করলেন বার্নি স্যান্ডার্স

সুপ্রভাত ডেস্ক »

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের চলমান সামরিক অভিযানের বিশাল ব্যয়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

বুধবার (১৮ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যন্ত প্রায় ২২ দশমিক ৮ বিলিয়ন (২ হাজার ২৮০ কোটি) মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে।

স্যান্ডার্স ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ যুদ্ধের পরিবর্তে মার্কিন জনগণের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে ব্যবহার করা যেত। আঞ্চলিক উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখন সামরিক খাতে এমন ব্যয়কে তিনি জনস্বার্থবিরোধী বলে অভিহিত করেছেন।

সিনেটর স্যান্ডার্স তার বক্তব্যে সামরিক বাজেটের বিকল্প ব্যবহারের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ২২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার দিয়ে প্রায় ৬৮ লাখ শিশুর জন্য স্বাস্থ্যবিমা বা মেডিকেড সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো।

এ ছাড়া এই অর্থ দিয়ে ২৬ লাখ পাবলিক হাউজিং ইউনিট নির্মাণ, ১৩ লাখ শিশুর জন্য প্রি-স্কুল শিক্ষা কর্মসূচি ‘হেড স্টার্ট’ পরিচালনা অথবা ২ লাখ ৪০ হাজার নতুন শিক্ষক নিয়োগ করা যেত। এমনকি ১০ লাখ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের ২০ হাজার ডলার করে শিক্ষা ঋণ মকুব করাও এই অর্থ দিয়ে সম্ভব ছিল বলে তিনি দাবি করেন। স্যান্ডার্সের মতে, যুদ্ধের পেছনে অর্থ ঢালার চেয়ে জনসেবা ও শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির অনেক শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিত্ব রয়েছেন।

এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তেহরান ইতিমধ্যে ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজার ও বিমান চলাচল ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।

বার্নি স্যান্ডার্স শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছেন এবং বারবার অভ্যন্তরীণ সংকটের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, মার্কিন করদাতাদের অর্থ এভাবে বিদেশের মাটিতে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

তার এই সমালোচনামূলক বক্তব্য ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে যখন দেশটির সাধারণ মানুষ আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। যুদ্ধের এই দীর্ঘসূত্রতা মার্কিন অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে স্যান্ডার্স সতর্ক করে দিয়েছেন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি