আজহার মাহমুদ »
ক্লাসের সবচেয়ে নীরব ছেলে ইমন। সে ক্লাস ফোরে পড়ে। স্কুল শেষে বাসায় ফিরে ছাদে উঠে একা একা খেলে। ছাদে সে মাঝেমাঝে মেঘের দিকে তাকিয়ে ভাবে, “ইশ! যদি আমি উড়তে পারতাম…”
ইমনের ইচ্ছে সে কার্টুনদের মতো উড়বে। কিন্তু তার মা তাকে বলে, এভাবে মানুষ উড়তে পারে না। কিন্তু ইমন বলে, মানুষ কেন উড়তে পারে না? মানুষের পাখা নেই কেন?
ইমনের এসব প্রশ্নের উত্তর তার মা দিতে পারে না।
প্রতিদিনের মতো আজও ইমন স্কুল শেষে ছাদে একা একা খেলছে। তখন হঠাৎ ইমনের চোখ পড়লো ছাদের এক কোণে একটা ছাতা পড়ে আছে। ছাতাটা দেখতে খুব অদ্ভুত, লাল-নীল রঙের, হাতলে ছোট্ট সোনালি বোতাম।
ইমন ছাতাটার দিকে তাকিয়ে বলল, “এটা তো আমাদের ছাতা না, কে রেখে গেল?”
সে ছাতাটা হাতে নিতেই টুক করে একটা শব্দ হলো। যেন ছাতাটা চোখ খুলে জেগে উঠেছে! ইমন একটু ভয় পেল, আবার কৌতূহলও হলো। সে ধীরে ধীরে বোতামে চাপ দিল। সাথে সাথে ছাতাটা ঘুরতে লাগল, আর ইমন হাওয়ায় উড়তে শুরু করল!
উড়তে গিয়ে সে চিৎকার করে বলল, আম্মু! আমি উড়ছি! আমি উড়ছি!
ইমন উড়ে উড়ে এসে নামল এক অদ্ভুত জায়গায়। চারপাশে উড়ছে পাখির মতো মানুষ! তাদের পেছনে ছোট পাখার মতো কিছু, তারা কথা বলছে, হাসছে আর চকোলেটের গাছের নিচে বসে আছে।
একটা ছোট পাখি এগিয়ে এসে বলল, তুমি ইমন? তুমি তো আমাদের যাদুকরী ছাতায় চেপে চলে এসেছো!
ইমন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, তোমরা কথা বলতে পারো? আমাদের ছাদে যখন উড়তে আসো তখন কথা বলো না কেন?
পাখিটা বলল, আমরা আমাদের শহরের বাইরে কথা বলতে পারি না। এখানেই আমরা কথা বলতে পারি শুধু। তুমি এখানে এসেছো, কিন্তু আজ আমাদের মন খারাপ।
ইমন বলল, কেন? কী হয়েছে?
পাখিটা বলল, আমাদের শহরের যাদুর ডিমটি হারিয়ে গেছে। সেটাই আমাদের আলো দিত। তুমি কি সাহায্য করতে পারো?
ইমন বলল, আমি তো শুধু ক্লাস ফোরে পড়ি, কিন্তু চেষ্টা করতে পারি।
সব পাখিরা খুশি হয়ে বলল, তুমি যদি ডিমটা খুঁজে দাও, আমরা তোমাকে ছাতাটা পুরস্কার হিসেবে দিয়ে দেব!
ইমন ছাতাটা নিয়ে বন পেরিয়ে চলে গেল এক গহীন জায়গায়। সেখানে দেখতে পেল, একটা দুষ্টু বানর সেই ডিমটা নিয়ে খেলছে। ইমন গিয়ে বলল, ভাই বানর, এটা তোমার না। এটা ফেরত দিতে হবে।
বানর রেগে গিয়ে বলল, এই ডিমটা আমার বন্ধু, আমি ওকে দিব না।
ইমন ভাবল, একে যদি ভয় দেখাই, ও রেগে যাবে। বরং কথা বলেই চেষ্টা করি।
সে শান্তভাবে বলল, তোমার কি আর বন্ধু নাই?
বানর বলল না, আমি একা থাকি এই বনে। আমার কোনো বন্ধু নাই।
ইমন বলল, তুমি চাইলে আমি তোমার বন্ধু হবো। কিন্তু ওই ডিমটা আমাকে দিতে হবে।
বানর অনেক চিন্তা করে বলল, তুমি সত্যি বন্ধু হতে হবে?
ইমন মাথা নেড়ে জাবাব দিলো, হ্যাঁ।
বানর খুশিতে খুশিতে ডিমটা হাতে দিল আর বলল, তুমি খুব ভালো, আর তুমি আমার প্রথম বন্ধু।
ইমনও খুশি হয়ে ডিমটা নিয়ে ফিরল পাখিদের শহরে। সবাই আনন্দে নাচতে লাগল।
পাখিটা এসে বলল, তুমি অনেক উপকারী বন্ধু। ছাতাটা তোমার, এখন তুমি ঘরে ফিরে যাও বন্ধু।
ইমন ছাতার বোতামে আবার চাপ দিল। চোখ বন্ধ করল, চোখ খুলে দেখে সে নিজের ঘরের বিছানায়। বাইরে ঝিরঝিরে বৃষ্টি। জানালার পাশে সেই ছাতাটা রাখা, এক কোণে সোনালি বোতামটা আস্তে আস্তে জ্বলছে।
মা দরজা খুলে বললেন, ইমন, ওঠো বাবা, স্কুলে যেতে হবে।
ইমন আনন্দে আনন্দে ঘুম থেকে উঠে। আর মনে মনে বলে, স্কুল থেকে এসে আজকে আবার ছাদে যাবো। ছাতাটা নিয়ে আবার উড়বো।
শিক্ষা : সাহস, বন্ধুত্ব আর ভালো ব্যবহার দিয়ে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।