কৃষ্ণচূড়ার কীর্তন
বিটুল দেব
কলি থেকে মুক্তি পেলে
দুই হাত তুলে গায় কৃষ্ণচূড়া কীর্তন।
আর তোমরা মূর্খ গার্গী
কুসংস্কারে রটাও বেনামি পদাবলি।
তোমার অবাক বোধ
মাসুদ আনোয়ার
তোমার বোধের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে খুব ইচ্ছে হয়
কী করে যে ভাব তুমি আকাশের চাঁদ এসে তোমার ব্যালকনিতে
লুটোপুটি খায় দুধসাদা বেড়ালের মতো অথবা সর্ষেফুল
কালো রাতে সোনালি ফুটকি তোলে!
তোমার অবাক বোধ আমাকে রোদের মতো পরিব্যাপ্ত করে
গহীন ছায়ার মতো বিভ্রমের আচ্ছাদন, আলোকিত অন্ধকার, নীল।
নীল কি বেদনা হয়! কারা যে এমন
অর্থহীন উপমায় নীলাকাশ দূরে ঠেলে দেয়
আর আমি আজীবন পেরোই আলোকবর্ষ তোমার মুখের কাছে যেতে
পারি না, অঞ্জলি পেতে শেষে আকাশকে তুলে ধরি, চেয়ে থাকি….
গম্ভীর দুপুর তুমি নিজের ভেতরে নিয়ে লোফালুফি করো উদাসী খেয়ালে
ঘুঘুর করুণ ডাকে জেগে ওঠে মেঘনা যমুনা পাড়ে শুয়ে থাকা গ্রাম
শহরের ধূসর দেয়াল ভেঙে নিজের ভেতর থেকে উঁকি দাও
দেখ মানুষেরা খেলা করে…মানুষের মতো
আর তুমি অনুপম বোধে একটু জানালা খুলে চেয়ে থাক
আকাশ, ব্রহ্মাণ্ড জুড়ে আচ্ছন্ন করে রাখ আমাদের অন্ধকার
আমাদের ফুল-পাখি, বৃষ্টির সঙ্গীত।
তোমার ভেতরে ঘাস, ফুল ফোটে, সঙ্গীতের মতো বাজে সুরের সরোদ
আমাকে গ্রহণ করো রাতের নীরব চাঁদ, আমাকে আবিষ্ট করো সকালের রোদ।
শীত
আরফান হাবিব
অগ্রহায়ণের শেষে
হাওয়ার গায়ে লেগে থাকে শীতের স্পর্শ
কাটা ধানের গন্ধে ভরে যায় মাঠ
রোদ আর শিশির পাশাপাশি হাঁটে
গাছেরা ছেড়ে দেয় পুরোনো পাতা
যেন জানা ছিল, এভাবেই যেতে হবে
ডালের ফাঁকে ফাঁকে রোদ জমে
সেখানে পাখিরা বসে
মাটির কাছে জীবনের গল্পবলা
কুয়াশাদের কোনো তাড়াহুড়ো নেই
তুমি চলে গেলে
আবু আফজাল সালেহ
রাতের অন্ধকার-তারা থেকে নিখুঁত বিভ্রান্তি
সে চাঁদকে ম্লান করে তুলেছিল
সে প্রতিরাতে আকাশকে উজ্জ্বল রেখেছিল
কয়েকদিন থেকে হৃদয় ভেঙে গেছে
টুকরো টুকরো হয়ে গেছে ভাঙা-কাচের মতো
রাতের অন্ধকারে হৃদয় বলল,
কবিতা লিখ-কবিতা আবেগের রক্তক্ষরণের প্রকাশ।
তুমি চলে গেলে আমি একটি বৃক্ষ হয়ে যাব
পাহাড়ের ঢালে নদী বয়ে যাবে
স্রোতের সুরে বৈসাবির গান
পাশে পাশে ছুটে যাব সবুজে মিশে মিশে
ছাতা হয়ে আলো দেবে তারার দল।
তুমি চলে গেলে আমি একটি বৃক্ষ হয়ে যাব
তোমার প্রতীক্ষায় থাকব শতাব্দী সময়
অনন্তকাল চেয়ে থাকব সে-পথে তুমি চলে যাবে
সে-পথটি তুমি ছাড়া শূন্য, শূন্য বাতাস।
আত্মগৃহ
ইফতেখার রবিন
এখন শুধু তোমার চোখের ভেতর হাঁটব,
যেখানে আলো নেমে আসে নিঃশব্দ ঘাসের মতো।
তোমার শ্বাসের ভেতর রাখব আমার হারানো জনপদ,
যেখানে ভোর হলেই উঠবে মানুষের নাম।
তোমার ত্বকের নিচে আমি লিখব প্রথম বৃষ্টি,
তোমার কাঁধে রাখব গোধূলির ঘ্রাণ।
সব দুঃখকে পাখি বানিয়ে উড়িয়ে দেব আকাশে,
তুমি হাসলেই তারা ফিরে আসবে ঘরে।
এখন শুধু তোমার ভেতর বসবাস করব
জীবনের মতো, অনন্ত ভালোবাসার মতো।
আমার ধ্যান শুধুই তোমার মুখ
মিনহাজ উদ্দিন শপথ
রোদের হ্যাঙ্গারে শুকাই
গতরাতের ভেজাচোখ
স্যাঁতসেঁতে স্বপ্নের পর্দা
তোমার কাছ থেকে ফিরে আসার পর মনে হলো
বাগানের ফুলগুলো আজ
অযথাই সৌরভে সারাৎসার।
অন্ধের কাছে সব ইন্দ্রিয় দক্ষতার কথা
জানতে চেয়ো না কখনো আর
আমার ধ্যান শুধুই তোমার মুখ
বীতশোক
সারমিন চৌধুরী
শিশিরের মতো জলকণা যেন
লেপ্টে আছে আঁঠার মত চোখের দর্পণে
শীতল বাতাসে জবুথবু হচ্ছে প্রণয়ের হাত
বীতশোকে আজ হৃদয় অবউষ্ণ, নিথর নিস্তব্ধ
শেষ বিকেলে সূর্যের মৌনব্রত ভেঙেই দিতে কি?
ভেসে উঠছে গলায় বিবাগীদের বিরহী গানের সুর।
অথচ, খোলা আকাশের নিচে কত অসহায়
তীব্র শীতে ছেঁড়া এক কাপড়ে কাটিয়ে দিয়েছে।
তাদের অন্তঃশীল মন খুঁজেছিলো মানবতা,
স্বার্থান্বেষী ধারালো পাথরমনা মানুষের মধ্যে।
আর চোখে মৈথুনকালের ঢেউ ভাসাতে চাচ্ছে
মহত্ত্বের মিছে লেবাসে নৈঃশব্দ্যের ওই ধ্যান।
ছড়াচ্ছে বাতাসে প্রলোভ মনে ধরাতে সংক্ষোভ
খুবলে খেতে চাচ্ছে নিমিষেই আয়ুর তাবিজ
তবুও সলিলসমাধি ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে আছে নিশ্চুপ
কারণ তারা জানে, প্রকৃতির প্রকোপ কাটিয়েই
তাদের যুদ্ধে নামতে হবে দানবের বিরুদ্ধে।
তবেই তো হবে অমর তারা মহাকালের।



















































