সুপ্রভাত ডেস্ক »
চট্টগ্রাম থেকে ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্ব চারদলীয় জোট সরকারে চট্টগ্রাম থেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ৮ জন। দীর্ঘ ২০ বছর পর আবার সরকার গঠন করেছে বিএনপি। চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে ১৪টিতে বিএনপি প্রার্থীর জয়ের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল, মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিতরা গুরুত্ব বেশি পাবেন।
প্রত্যাশা পূরণ হয়নি, উল্টো গত ৪৩ বছরের মধ্যে ৯টি মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে সবচেয়ে কম মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম জেলার ১৬ আসনের মধ্যে ১৪টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা। বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই চট্টগ্রামের ভাগ্যে ৪ থেকে ৫ জন মন্ত্রী জুটবে এমন ধারণা ছিল মানুষের। ১৯৮২ সালের পর থেকে যারাই সরকারে এসেছে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী করার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম গুরুত্ব পেয়েছে। চট্টগ্রাম সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ২০০১ সালের মন্ত্রিসভায়। ওই সময় মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী মিলে ৮ জনকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়। কিন্তু এবার সেই গুরুত্ব পায়নি চট্টগ্রাম।
১৯৮২ সালের পর থেকে এবার সবচেয়ে কমসংখ্যক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী পেল চট্টগ্রাম। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মিলে মাত্র ২ জনকে চট্টগ্রাম থেকে এবার মন্ত্রিসভায় নেওয়া হলো। এর মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে অর্থমন্ত্রী ও ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
তবে স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামের ভাগ্যে অর্থমন্ত্রণালয় জুটলো। এর মধ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রাম একেবারেই গুরুত্ব পায়নি মন্ত্রিসভায়। দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে এর আগের মন্ত্রিসভাগুলোতে কর্নেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও ওয়াশিকা আয়েশা খান দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে চট্টগ্রাম থেকে এবার মাত্র একজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে দলীয় নেতাকর্মী ও জনমনে। মন্ত্রীত্বের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন ছিল বলেও মত তাদের।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, শুরুর দিকে মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব কম থাকলেও পরবর্তীতে আরও বাড়বে বলে বিশ্বাস করি। এই বিষয়ে আমরা বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর আস্থা রাখতে চাই। এবং চট্টগ্রামকে প্রকৃত বাণিজ্যিক রাজধানী করা দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা, সেটি এবার শেষ হবে।
এই বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী জানান, সারা দেশের মধ্যে চট্টগ্রাম সবদিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে চট্টগ্রামকে গড়ে তুলতে হলে চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার বিকল্প নেই। এবারের মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রামের আরও প্রতিনিধিত্ব থাকা দরকার ছিল।
তথ্যমতে, ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে ছিলেন ড. হাছান মাহমুদ (পূর্ণমন্ত্রী) ও ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল (পূর্ণমন্ত্রী), নজরুল ইসলাম চৌধুরী (প্রতিমন্ত্রী) ও ওয়াশিকা আয়েশা খান (প্রতিমন্ত্রী)।
২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম দায়িত্ব পালন করেন ড. হাছান মাহমুদ (পূর্ণমন্ত্রী), হুইপ শামসুল হক চৌধুরী (প্রতিমন্ত্রীর পদমযার্দা), ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল (উপমন্ত্রী) ও সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ (পূর্ণমন্ত্রী)।
২০১৪ সালের দশম সংসদের মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে দায়িত্ব পালন করেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, নুরুল ইসলাম বিএসসি ও আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনজনই পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে ছিলেন ড. হাছান মাহমুদ (পূর্ণমন্ত্রী), ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ (পূর্ণমন্ত্রী), ডা. আফছারুল আমিন (পূর্ণমন্ত্রী) ও শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া (টেকনোক্রেট)।
২০০১ সালে বিএনপি সরকারে চট্টগ্রাম থেকে মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছিলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (পূর্ণমন্ত্রী), এম মোরশেদ খান (পূর্ণমন্ত্রী), মন্ত্রীর পদমযার্দার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আবদুল্লাহ আল নোমান (পূর্ণমন্ত্রী), এল কে সিদ্দিকী (পূর্ণমন্ত্রী), মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন (প্রতিমন্ত্রী), মীর জাফরুল ইসলাম চৌধুরী (প্রতিমন্ত্রী) ও হুইপ ওয়াহিদুল আলম (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা)।
১৯৯৬ সালে অষ্টম সংসদের মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে যারা দায়িত্ব পালন করে তারা হলেন, এম এ মান্নান (পূর্ণমন্ত্রী) ও ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন (পূর্ণমন্ত্রী)।
১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসে। খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। তার মন্ত্রিসভায় স্থান পান চট্টগ্রামের ৩ জন। তারা হলেন, যোগাযোগ মন্ত্রী অলি আহমদ (বর্তমান এলডিপি চেয়ারম্যান), পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমান, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এ এম জহিরুদ্দিন খান (পদত্যাগ)।
এর আগে ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আমলে চট্টগ্রাম থেকে অন্তত ৩ জন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারা হলেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু ও আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
এই বিষয়ে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সহসভাপতি খোরশেদ আলম জানান, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে চট্টগ্রামের সন্তান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আসায় চট্টগ্রামবাসী সন্তুষ্ট। তবে মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রামের আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব থাকা খুবই জরুরি ছিল। আমরা ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে রইলাম।



















































