১৭ বছরে আসলাম চৌধুরীর সম্পদ বেড়েছে ১৫২ গুণ

সুপ্রভাত ডেস্ক »

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর সম্পদ গত ১৭ বছরে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ২০০৮ সালে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় তিন কোটি টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫৬ কোটি টাকার ওপরে। অর্থাৎ এই দীর্ঘ সময়ে তার সম্পদ বেড়েছে ১৫২ গুণের বেশি। আওয়ামী লীগের আমলে দীর্ঘ সময় কারাবন্দী থাকার পরও তার এই আয় ও সম্পদের উল্লম্ফন ঘটেছে।

গত ২০ আগস্ট আসলাম চৌধুরী কারাগার থেকে মুক্তি পান। আসন্ন নির্বাচনে তার জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

২০০৮ সালের হলফনামা অনুযায়ী, আসলাম চৌধুরীর অস্থাবর সম্পদ ছিল ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭১ হাজার টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ছিল ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এবারের হলফনামায় তার অস্থাবর সম্পদ ২৬ কোটি ১৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ৪৩০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৪৫৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। যদিও তার ব্যাংক জমা মাত্র ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা। ১৭ বছর আগে তার ঋণ ছিল সাড়ে ১৭ কোটি টাকা, যা এখন বেড়ে হয়েছে ৩৪৫ কোটি টাকা।

শুধু সম্পদ নয়, বেড়েছে বার্ষিক আয়ও। ২০০৮ সালে তার বার্ষিক আয় ছিল ১৪ লাখ ৮ হাজার ৫৯০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮ লাখ ৩৭ হাজার ২০২ টাকায়, যা আগের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি। আসলাম চৌধুরী, তার স্ত্রী জামিলা নাজনিন মাওলা ও কন্যা মেহেরিন আনহার উজমার আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবসা এবং শেয়ার, বন্ড ও সঞ্চয়পত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আসলাম চৌধুরীর নগদ অর্থ রাখার প্রবণতাও বেড়েছে বহুগুণ। ২০০৮ সালে তার নিজের কাছে নগদ ছিল ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, যা এখন ১১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। ১৭ বছর আগে তার স্ত্রীর হাতে ছিল ৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা; এখন তা বেড়ে হয়েছে ৫ কোটি ২২ লাখ টাকা। ২০০৮ সালে মেয়ের নামে কোনো নগদ টাকা না থাকলেও এখন তার কাছে আছে ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

হলফনামায় আসলাম চৌধুরী ১৩২টি মামলার কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক, এনআই অ্যাক্ট ও অর্থঋণসংক্রান্ত ৮০টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। বাকি ৫২টি মামলা থেকে তিনি খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন, যার বড় অংশই ২০২৪ ও ২০২৫ সালে।

স্থাবর সম্পত্তি হিসেবে তিনি ১৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা মূল্যের অকৃষি জমি এবং ভাটিয়ারি মৌজায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা মূল্যের বাড়ির তথ্য দিয়েছেন। এ ছাড়া অন্যান্য সম্পদের কলামে ৩৩৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন।

তার অস্থাবর সম্পদের তালিকায় রয়েছে ৯ কোটি ৯৯ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকার বন্ড বা ঋণপত্র, ৩৭ লাখ টাকার গাড়ি, ৩ লাখ ৫৮ হাজার টাকার স্বর্ণ এবং ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার আগ্নেয়াস্ত্র। তবে বিদেশে তার কোনো সম্পদ নেই বলে হলফনামায় দাবি করেছেন।