সিএমপির জব্দ যানের স্তূপ, প্রয়োজন পরিকল্পিত ডাম্পিং স্টেশন

চট্টগ্রাম মেগাসিটির শৃঙ্খলা রক্ষায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) নিরলস কাজ করে গেলেও একটি মৌলিক সংকটে সংস্থাটির কার্যক্রম আজ অনেকটা স্থবির হওয়ার পথে। সংকটটি হলো— নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশনের অভাব। বছরের পর বছর ধরে নগরের বিভিন্ন মোড়, থানার সামনের রাস্তা এবং ফুটপাত দখল করে পড়ে আছে জব্দ করা হাজার হাজার যানবাহন। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে শত কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত সম্পদ। অথচ এই সমস্যার সমাধানে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বর্তমানে নগরের ১৬টি থানার প্রায় সবকটির সামনেই তাকালে মনে হবে এটি কোনো থানা নয়, বরং একটি পুরনো লোহার ভাগাড়। সড়ক দুর্ঘটনা, কাগজপত্রের ত্রুটি বা অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে জব্দ করা বাস, ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেলগুলো স্তূপ করে রাখা হয়েছে। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেক সময় এই যানগুলো মূল সড়কের ওপর রাখা হয়, যা যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ফুটপাত দখল করে রাখা এসব যানের কারণে পথচারীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় এই যানবাহনগুলোর ইঞ্জিন, টায়ার এবং বডি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনাও ঘটছে। মালিকরা যখন আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে গাড়ি ফিরে পান, তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই গাড়ি আর চালানোর উপযোগী থাকে না। এভাবে ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের যে অপচয় হচ্ছে, তার আর্থিক মূল্য শত কোটি টাকার উপরে। একটি আধুনিক মেট্রোপলিটন পুলিশের জন্য পর্যাপ্ত ডাম্পিং গ্রাউন্ড থাকা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং প্রশাসনিক ও আইনি প্রয়োজনীয়তা।
তথ্যমতে, ডাম্পিং স্টেশনের জন্য সিএমপি থেকে একাধিকবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এর কাছে জমি চাওয়া হয়েছে। পতেঙ্গা বা নগরের উপকণ্ঠে পরিত্যক্ত কোনো জায়গা বরাদ্দের কথা উঠলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর সমন্বয়ের অভাবে তা আলোর মুখ দেখেনি। একটি সমাধান হিসেবে নিলাম প্রক্রিয়ার কথা বলা হলেও আইনি জটিলতায় বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকায় পুলিশ চাইলেই সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে পারে না। ফলে জটের আকার কেবল বড়ই হচ্ছে।
এই অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ জরুরি। কেবল চিঠি চালাচালিতে সীমাবদ্ধ না থেকে সিএমপি’র জন্য অন্তত ১০ থেকে ২০ একরের একটি স্থায়ী ডাম্পিং জোন বরাদ্দ করা সময়ের দাবি।
একটি আধুনিক ও স্মার্ট নগরী গড়ার পথে রাস্তার ধারের এই লোহালক্কড়ের স্তূপ বড়ই বেমানান। এটি কেবল সিএমপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে না, বরং জনদুর্ভোগ ও সম্পদের অপচয় বাড়িয়ে তুলছে। জনস্বার্থে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় অবিলম্বে একটি পরিকল্পিত ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হোক— এটাই চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা।