সময়ের দৃশ্যাবলী

আশরাফ উদ্দীন আহ্মদ »

কাঠের সাঁকো থেকে কংক্রিটের ব্রিজ দুপারকে একত্রিত করে দিয়েছে, কিন্তু নিচে যে নদী এখন তাকে খালই বলা যায়, নদীর রূপ আর নেই। দিনেি নে খালও তার প্রকৃত চেহারা হারিয়ে মানুষের বসতি হয়ে উঠছে। হয়তো একটা সময় মানুষ ভুল না করেই বলে ফেলবে ব্রিজ কেনো মাথা উচিয়ে দাঁড়িয়ে। ব্রিজের পূর্বপাড়ে গ্রামীণ মানুষের বাড়িঘর যাচ্ছেতাইভাবে পা ছড়িয়ে বসে আর এপারে অর্থাৎ পশ্চিমদিকে বিশাল হাট। মূল শহরে যাওয়ার ছোট সড়ক, সপ্তাহে দু’দিন হাটবার আর রাত-দিন বাজার বসে। লোকের সমাগম সবদিনই সমান থাকে। দূর-দূর থেকে মহাজন-ব্যাপারী-আড়ৎদারদের বিশাল বিশাল ট্রাক এসে শাক-শবজি আলু-পটল হাঁস-মুরগী গরু-ছাগল ধান-গম ভুট্টা-জব সরিষা-তিল তিশি প্রভৃতি নিয়ে যায়। তারপর আছে মাছের আড়ৎ, সেখানে তো কাজের কামাই নেই। মাছ তো নয় যেন মাছের সমুদ্র, সে সমুদ্রে শুধুই মাছের ছড়াছড়ি। বিভিন্ন খুচরো ব্যাপারীর মাছ আসছে এবং তা আড়ৎদারের কাছে পৌছে চলে যাচ্ছে যথাস্থানে। দূর দূর মোকামে হাটে বাজারে, যেখানে যেমন চাহিদা আর কি!
বসিরুদ্দী নিকিরি দিনদিন কীভাবে এখানকার মানুষের জীবনযাপন-আচরণ পাল্টে যাচ্ছে, তাই দেখছে। তার দেখার শেষ নেই, আগে সে মাছ ধরতো নদীতে, জীবনটাকে নদীর পানিতে ডুবিয়ে রেখেছিলো যৌবনের সমস্ত সময়। তারপর নদী ক্রমে-ক্রমে ছোট হলো, নদীতে পড়লো ছোট-ছোট বাঁধ, পানির প্রবাহ না থাকলে মাছ কোথা থেকে আসবে। আর নিকিরি সমাজ তবুও ওই নদীর মাছের দিকে তাকিয়ে হাপিত্তেশ করে। দশজনের ভাগের মাছ পঞ্চাশ/ষাটজন হামলালে যা অবস্থা তাই আর কি! কালক্রমে সে এখন বৃদ্ধ মানুষ, কোনো কাজকাম করতে পারে না। পৈত্রিক পেশা ছেড়ে দিয়েছে কোন্ কালে, এখন আর সে সব কাহিনী স্মরণ করতেও পারে না। এখন তার চোখে ঘোর অমানিশা, ডিম নিয়ে বসে হাটের এক কোণে। মাছ তার কাছে স্বপ্ন বা অতীত এখন। ডিম তার ভালোই বিক্রি হয়, তবে মন তার পড়ে থাকে নদীর দিকে। নদীটা দিনদিন কেমন শুকিয়ে কংকালসার হয়ে যাচ্ছে। বুকে বড় বেশি বাজে, চোখের সামনে এভাবে একটা জীবন্ত নদীর কী দশা হলো? নদী যে এভাবে মরে যায় জীবনে কখনো শোনেনি। আজ চোখে তাই দেখছে। নদীতে আর আগের মতো কোনো বড় নৌকা আসে না, ছোট-ছোট জাহাজ যে একটা সময় দেখেছে তাও তো স্বপ্ন এখন।
বসিরুদ্দী নিকিরির তাকিয়ে দেখা ছাড়া তো কিছুই করতে পারে না। কিন্তু দেখতেও তো তেমন ভালো লাগে না, সুখ নেই মনে, সুখ নেই দিনযাপনে। শুধু নিঃশ্বাস ফেলা আর কষ্ট নিয়ে কষ্টকে প্রত্যক্ষ করা।
গতবছরের আগের বছর বড় ছেলেটা মরলো নছিমনের ধাক্কায়, তার ঠিক পরের বছর বসিরুদ্দীর বউ মর্জিনা চলে গেলো একেবারে বিনা কারণে। রোগটা যে কী জানা গেলো না, কবরেজ ঔষধপথ্য দিয়েছিলো ঠিকই, কিন্তু বাঁচানো আর গেলো না। বুকের ব্যথা। লোকে বলে ছেলের শোকে বুকের কষ্ট, আসলে সে যন্ত্রণার ভাষা বসিরুদ্দী পড়তে পারেনি। পরপর এমন শোক সহ্য করতে পারলেও মনের মধ্যে একটা কালকষ্ট লেগে যায়।
বাড়িটা খাঁ-খাঁ করে চলে গেলো সবাই। এখন শুধু বসিরুদ্দী একজন প্রহরী, জেগে আছে ওই রাত্রি জাগা জোনাকিদের মতো। নদী শুকিয়ে চরা হয়, জমি বৃষ্টিহীন-পানিহীন ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। কেউই দেখে না। আর দেখেও বা কী হবে! যার যেমন কাজ সে সেই কাজই করে যাচ্ছে। মানুষ এখন অনেক ব্যস্ত। কাউকে সময় দেয় না। সময় দেওয়ারও সময় নেই কারো আর।
কাঠের সাঁকো থেকে কংত্রিটের ব্রিজ হলেও মানুষজন যে আশা নিয়ে ব্রিজ চেয়েছিলো, সে স্বপ্ন আজ মরে গেছে। নদীতে পানি তো নেই, আবার ব্রিজ নিয়ে হবে কী! বসিরুদ্দী নিকিরিদের মতো শত-শত মানুষের কষ্টের কথা কেউ জানে না। জানবার কথাও নয়, কারণ সবাই এখন নিজের-নিজের ধান্ধায় তটস্থ। কেউ কারো দিকে তাকানোর এতোটুকু ফুরসত পায় না। ছোট-বড় অনেক দোকান উঠছে, মানুষ যেন আরো বেশি মানুষ হয়ে উঠতে চাইছে। চারদিকে তেমনি ছোট-বড় কতো সড়ক এঁকে-বেঁকে যাচ্ছে শহরের দিকে। শহর যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে দূর পথিকের মতো। আর মানুষও তেমনি ছুটে যাচ্ছে শহরকে ভালোবেসে।
বসিরুদ্দী নিকিরি শুধু তাকিয়ে থাকে অবাক চোখে, মানুষ হয়তো এভাবেই নিজেকে হারিয়ে ফেলে মানুষের ভিড়ে। তারপর সে হয়ে যায় আরেক ইতিহাস। নদীর ইতিহাসের মতো মানুষের ইতিহাস মিলেমিশে এক হয়ে যায়। তার সংবাদ কে বা রাখে। রাখবার প্রয়োজনবোধ নেই কারো। মাছমারাদের গল্প কেউ শোনে না, সময়ের প্রেক্ষিতে সব কেমন ধোঁয়াটে হয়ে গেছে। হয়তো এভাবেই মানুষ ভিন্ন-ভিন্ন রূপে নিজেকে সামনে আনে। বসিরুদ্দী নিকিরির বুকে অনেক কষ্ট জমা থাকলেও কেউ তা দেখতে চায় না, শুনতেও চায় না। নদী শুকিয়ে যায়, মানুষ মরে যায় কিন্তু কেউ তার জন্য কাঁদে না, কান্না যেন বা শুকিয়ে গেছে মানুষের চোখ থেকে। মানুষ কি তাহলে পাষন্ড হয়ে যাবে দিনেদিন।
মাছমারা মানুষ আজ ডিম বিক্রেতা। সেদিন রাঙাতলী হাটের নগেন এসেছিলো বিলপাড়া বাজারে। দেখা হয়েছিলো বসিরুদ্দীর সাথে। কথা হয় অনেক তাদের মধ্যে।
কী আর বলবো! ওদিকের অবস্থা তো ভালো নয়।
কী হলো আবার…
আর বলবো কতো। তোমার ছেলে গেলো বাড়িওলি গেলো, কিন্তু আমার সব থেকেও আমি ভিখারি হতে বসেছি…
মানে খগেন আবার কী শুরু করলো।
ওই খগেনই তো আমাকে সর্বস্বান্ত করতে চাইছে, তার সাথে ওর মা আছে…
আমি তো মাথামুণ্ডু বুঝচ্ছি না…
আর বোঝাবুঝি, আরে ওরা ওপারে চলে যেতে চাইছে, তাই আমাকে চাপ দিচ্ছে জমাজমি খানাবাড়ি বিক্রি করে দিতে।
আহা এ বয়সে তুমি ওপারে গেলে দম বন্ধ হয়ে মরে যাবে।
ও কথা বোঝাতে পারছি না ভাই। আমার কথা কেডা শোনে বলো। আমি তো ফেলে দেওয়া তেনা!
বসিরুদ্দী অনেকটা সময় নগেনের দিকে তাকিয়ে থাকে। বাল্যকালের বন্ধু, পাঠশালাতেও কিছুদিন একসাথে গেছে। বিয়েও করেছিলো একই সাথে। যদিও এখন থাকে ছেলেদের সংসারে। কতো যে কষ্ট ওর বোঝা না গেলেও অনুভব করা যায়। একেক মানুষের একেক কষ্ট, কারো সাথে কারো কষ্টের মিল নেই। নগেন মাছমারা থেকে এখন রাঙাতলী হাটের নাপিত। কাজটা শিখেছিলে বলেই দুটো ভাত এখনো পেটে দিতে পারছে। মহাপীর মাজারের সড়ক বরাবর যে বটবৃক্ষটা এখনো দাঁড়িয়ে, তার কোটরেই তার আয়না টাঙানো থাকে। আর হাতল ভাঙা চেয়ারখানায় খদ্দের বসলে নগেন চুল দাড়ি কামিয়ে দেয় পরম যত্নে। দিনেদিন চোখ নষ্ট হলেও ছানি পড়া চোখ নিয়েই নরসুন্দরের কাজ চালিয়ে নেয়। মোটা পাওয়ারের চশমাও চোখে থাকে। দেখতে একটু সমস্যা হলেও নাপিতের কাজ করতে তেমন অসুবিধা হয় না বইে গ্রামের গরীব-গুবরা মানুষজন আসে। হয়তো ভালোবেসে অথবা কম পয়সায় পুরোদস্তুর সাহেব সুয়োব বনে যায় বলেই আসে। নগেনের কোনো সমস্যা নেই, কাজ চালিয়ে যায়। নগদ টাকা আসে বলেই জীবন এখনো সচল আছে হয়তো।
ফুলন পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই আমার ওপর অত্যাচার শুরু হয়েছে…
কিন্তু তুমি তো এর জন্য দোষী নও।
নাহলেও, রঞ্জু যে আমার বন্ধু বদিউল্লা কামারের ছেলে…
বসিরুদ্দী জানে নগেনের একমাত্র মেয়ে ফুলন বছর খানিক আগে ভিন্ন ধর্মের ছেলে রঞ্জুর সাথে ভেগেছে, তারপর থেকেই ছোটখাটো ঝগড়াবিবাদ লেগেই থাকে সংসারে। কিন্তু এমন সিদ্ধান্ত নেবে ওরা, তা অবশ্যই ভাবেনি। নগেন যতোই উদার মানুষ হউক না কেনো তার পরিবার তা মানবে কেনো। আর মানবে না বলেই যতো রাগ স্বামী গোবেচারার ওপর। দিনে দিন নগেন হয়েছে পরিবারের চোখের বিষ। এই বিষের জ্বালা মেটাতে ওরা চলে যাবে দেশ ছেড়ে, রেখে যাবে ফুলনকে। কিন্তু নগেন ভিন্ন দেশে গিয়ে কি টিকতে পারবে, হয়তো পারবে কিংবা পারবে না সেটা কোনো মাথা ব্যথার কারণ নেই কারো।
বসিরুদ্দী আর কিছু ভাবতে পারেনি। বদিউল্লা কামারও বন্ধু ছিলো তার। বয়সের ভারে এখন সবাই টালমাটাল। তারপরও বসিরুদ্দী নিজেকে নিয়ে একপ্রকার ভালোই আছে। দু ছেলের সংসারে নিজে এখনো রাজা বলা যায়। কষ্ট শুধু ওই একটা জায়গায়, নিকিরি থেকে আজ সে ডিমওয়ালা। এদিকে নদীও মরে যাচ্ছে মানে নদী বলে তো কিছুই নেই। খালও বলা যায় না। আষাঢ়-শ্রাবণ মানে একটু পানি থাকলেও মনটা ভরে যায়। তখন মনের ভেতর আকুলিবিকুলি শুরু হয়। বন্ধুদের ডেকে এনে মাছ ধরতে ইচ্ছে জাগে। ইচ্ছেগুলো প্রজাপতির ডানায় উড়ে বেড়ায়। কিন্তু মাটিতে ছুঁতে পারে না। কীভাবে ছুঁতে পারবে, মাছমারাদের সে বয়স কি আর আছে! সবার বয়স বেড়ে গেছে, নদীর শুকিয়ে যাওয়ার মতো।
নগেনরা চলে যাবে দেশ ছেড়ে তাহলে। আগেই ছেড়েছে নদী মাছ আর জাল। ওখানে কীভাবে বাঁচবে, দেশ ছেড়ে কেউ কি বাঁচে, নাকি তাকে বাঁচা বলে। ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়, নগেন চলে যাবে বিদেশ-বিভূঁয়ে, সেখানে কী আছে না আছে সেটা বড় কথা নয়, মনের ক্ষোভে হয় চলেই যাবে, কিন্তু আর তো ফেরা হবে না। যে যায় চলেই যায়, ফিরে আর আসে না। হয়তো ফিরে আসা হয় না। একবার ফিরে গেলে আর কি ফিরে আসে কেউ।
বসিরুদ্দী আকাশ পাতাল অনেক কিছুই ভাবে। ভাবনাগুলো খেই হারিয়ে যায়, আবার ফিরে আসে। জীবনের রঙ প্রতিনিয়ত বদলে যায়, সময়ের সাথে সাথে মানুষও বদলে যায়, কিন্তু স্মৃতি কি বদলে যায় কারো! চোখের মধ্যে ভাঙা কাঠের সাঁকোর মতো ঝুলে থাকে। কোনোভাবেই মুছে বা ধুয়ে যায় না। নদী মরে গেলে মানুষও কি এভাবে মরে যায়! বসিরুদ্দী মরে গেছে নগেন মরতে বসেছে… এভাবে মরতে-মরতে জীবন জেগে ওঠে নতুন চরের মতো। চর তখন হয়ে ওঠে মানুষের আর্শিবাদ। কিন্তু কেউই তো বেঁচে নেই। সময় বিপরীত স্রোতে ছুটে যায়। তাকে ধরে রাখবে কে!
মাছমারারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, কেউই আর কারো সাতে পাঁচে নেই। ভিন্ন-ভিন্ন পেশায় অথবা মুখ থুবড়ে পড়ে আছে কেউ কেউ। প্রতি হাটবার মানুষের সমাগমে ভরপুর থাকে আর বসিরুদ্দী তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে। তার সেদ্ধ ডিমগুলো সব ফুরিয়ে যায়। কখনো একটু মাছের আড়তের দিকে ঢু মারে। কাছের লোকেদের সন্ধান করেও পায় না। নিকিরিদের দুরবস্থার কথা ভেবে মনটা খানিক বিমর্ষ হয়ে যায়। তারপর আবার সেই পথে হেঁটে চলে। হাঁটতে-হাঁটতে নদীর কাছাকাছি এসে একটু দাঁড়ায়। নদীতে হাজারো নেটজালে ভরে আছে। উঠতি কিছু যুবক মাছমারা নেশায় মেতেছে, ওদের দেখলে মনটা আনন্দে খলবল করে। কখনো সখনো হাঁটতে-হাঁটতে জাম্মালার গোবিন্দপুরের বাড়িতে হানা দেয়। জাম্মালা মাছমারা পেশা বাদ দিয়ে এখন রতনগড়ের মাঠের পাশে কলাইরুটির দোকান দিয়েছে, একটা বাঁধা লোক রেখেছে, সে ই দিনমান রুটি করে। কখনো সখনো জাম্মালা হাত লাগায়। ভালোই নাকি চলে, মানুষ যতোই বাড়বে ততই মানুষের খাবারের টান পড়বে। মানুষ খাবে তার রুচির খাদ্য। ওর বাপও শেষকালে মাছমারা পেশা বাদ দিয়ে সাত গাঁ ঘুরে ভিক্ষা করতো। মৃত্যুর সময় আশেপাশে কেউই ছিলো না মানুষটার। বিলের ওপর কতো ভালোবাসা তার, মাছমারাদের জীবন এমন হবে ভেবে মন কষ্টে ভেঙে যেতো। আজ মানুষ কতো পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু কষ্ট যার আছে তার শুধুই কষ্ট।
মেঘে মেঘে বেলায় ফুরোয়। কিন্তু মেঘের কী দোষ! মেঘ তো তার মতোই আছে, সময় কেটে যায়, মানুষ বুড়ো হয়, সেই বুড়োদের এখন কোনো দাম নেই। সব নাকি বেদাম হয়ে যাচ্ছে। নদীতে চর পড়ছে, চর দখল হচ্ছে। নদী দখল হচ্ছে, চরের মানুষ বসত ছেড়ে নদীর বুকে হারিয়ে যাচ্ছে। এভাবে মানুষও পরিবর্তন হচ্ছে। ওদিকে মিঠেখালি-হাঁসখালি কাঞ্চনপুর-মায়েজদিয়া-খানপুরের বসত উজার হয়ে যাচ্ছে, এতো এতো মানুষ কোথায় গেলো রাতারাতি, কেউই জানে না। জানতেও চায় না। একটা না জানার প্রতিযোগিতায় নেমেছে মানুষ। কিন্তু নিকিরিদের জীবনযাপনের স্মৃতি তো ভুলে যাওয়ার নয়, কেউ কি ভুলে যেতে পারে, হয়তো পারে। কিন্তু ভুলে যাওয়াও কঠিন। স্মৃতি শুধু রয়ে যায় অন্তরে অন্তরে।