সড়কের পাশে হাটবাজার উচ্ছেদ করা হোক

চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোড় থেকে হাটহাজারী জিরো পয়েন্টের দূরত্ব ১২ কিলোমিটার। এরই মধ্যে সড়কের দু পাশে ভাসমান বাজার রয়েছে অন্তত ১৩টি। প্রতিদিনই এসব বাজারে মানুষের ভিড় লেগে থাকে। তার বাইরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস, মাহিন্দ্র এসবের বিশৃঙ্খল চাপ তো আছেই। সড়ক ও জনপথ বিভাগের ‘রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্নবীকরণের চাহিদা প্রতিবেদন, ২০২৩-২৪’ অনুযায়ী সড়কটি দিয়ে দৈনিক ৫ হাজার ৯২৫টি গাড়ি চলাচল করে। এত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের জন্য ট্রাফিক পুলিশ রয়েছে মাত্র পাঁচজন। ফলে, বাজারের সময় হাজারের বেশি সিএনজিচালক যাত্রী ওঠানামা করেন। এ কারণে অনেক সময় দুই ঘণ্টার বেশি যানজট দেখা দেয়।
এ পথেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছেন প্রায় ২৮ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম নগর থেকে ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করেন। তাঁদের বড় একটি অংশ এ সড়ক ব্যবহার করেন। এর বাইরে ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রায় ৩৪টি বাস এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। যানজটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরও নানা সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

সাপ্তাহিক বাজারের দিনগুলোতেই সড়কের বিভিন্ন অংশে ভিড় বাড়ে। সপ্তাহে প্রতিদিন লালিয়ারহাট ও আমানবাজার, বুধবার মদনহাট বাজার, শনি ও মঙ্গলবার নন্দিরহাট, চৌধুরীহাট, বালুচরা, বাজারেই যানজট বেশি থাকে।
বাজারগুলোর বিক্রেতারা জানান, কয়েক বছর আগেও এসব হাট সড়কে বসত না। তবে এখন অফিস ও দালান নির্মাণের কারণে এসব অংশে ক্রেতা বেড়েছে। বিক্রেতারাও মূল বাজার পেরিয়ে সড়কে নেমেছেন।
ওই সড়কের সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রচালকেরা জানান, বাজারের দিনগুলোতে হাজারের বেশি যানবাহন একসঙ্গে সড়কে চলাচল করে। অপরিকল্পিত ডিভাইডার, ট্রাফিক সংকেতের অভাব ও বাসের অনিয়মিত পার্কিংয়ের কারণে মূলত চাপ বাড়ে।
এসব কারণে যে শুধু যানজট হয় তা নয়। এর কারণে দুর্ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশাসন সব দেখেশুনেও কেন নীরবতা পালন করছে বছরের পর বছর তা বেশ রহস্যজনক।