সুপ্রভাত ডেস্ক »
শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ বেড়েছে। শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, চলতি শীতে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভুগছে পাঁচ বছরের নিচের শিশুরা।
সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে ভোর ও রাতে শীত বেশি থাকছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৯টায় চট্টগ্রামের তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ঘুরে দেখা গেছে, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়ার রোগী বাড়ছে। একই চিত্র চট্টগ্রামের প্রায় সব বড় হাসপাতালেই। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারেও ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপ বেড়েছে।
চমেক হাসপাতালের তথ্য বলছে, গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী দেড় হাজারের বেশি শিশু সেখানে চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৩ শতাংশ নিউমোনিয়া ও ৬ শতাংশ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ছিল। ডিসেম্বরে নিউমোনিয়ার রোগী কিছুটা কমলেও বর্তমানে শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ার রোগী বেশি আসছে। বর্তমানে চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের দুটি ইউনিটে দেড়শর বেশি শিশু ভর্তি রয়েছে। ভর্তি রোগীদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যাই বেশি।
চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা বলেন, সাধারণত শীতের শুরু ও শেষের দিকে নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেশি থাকে। বর্তমানে নিউমোনিয়ার তুলনায় ডায়রিয়ার রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে।
চমেকের পাশাপাশি চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শীতকালীন রোগে আক্রান্ত শিশু রোগীর চাপ অন্য সময়ের তুলনায় বেশি। চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ক্রিটিক্যাল কেয়ারের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফাহিম হাসান রেজা বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বহির্বিভাগে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত শিশুরা বেশি আসছে। ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি।
শীতের এই সময়ে শিশুদের পাশাপাশি ঝুঁকিতে রয়েছেন ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষ এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তরা। চমেক হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. মুহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, শীতকালে কমন কোল্ড, ব্রংকিওলাইটিস, ভাইরাল ফ্লু ও নিউমোনিয়ার রোগী বাড়ে। সম্প্রতি অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ও চিকিৎসকের চেম্বারে রোগীর ভিড় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ডায়াবেটিস, কিডনি ও একাধিক রোগে আক্রান্ত প্রবীণদের জটিলতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় এবং ধুলাবালির পরিমাণ বাড়ায় শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায়। এসময় শিশুদের গরম কাপড় পরানো, মাথা ঢেকে রাখা, কুসুম গরম পানি পান করানো এবং অহেতুক বাইরে না নেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। ঠান্ডা লাগলে বা কাশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমার সমস্যা আছে– এমন দুই বছরের বেশি বয়সী শিশু ও ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।



















































