দিলশাদ আহমেদ »
বাংলাদেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকান্ডে যাঁদের অবদান অনন্য ও অনুসরণীয়, তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য নাম সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। একজন দায়িত্বশীল শিল্পোদ্যোক্তা, মানবদরদী সমাজসেবক এবং সুপরিচিত সুফি ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিল্পোন্নয়ন ও আধ্যাত্মিক চেতনার এক অনন্য সমন্বয় ঘটিয়ে চলেছেন। তাঁর জন্মদিনে জানাই গভীর শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা।
পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি কেবল একটি শিল্পগোষ্ঠী হিসেবেই নয়, বরং একটি সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতীক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ইস্পাত, গ্লাস, এলু মিনিয়াম, টেক্সটাইল, জাহাজভাঙ্গা, অটোমোবাইল, স্টক মার্কেটসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি দেশের শিল্পায়নের ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছেন। তাঁর দূরদর্শী পরিকল্পনা ও সুশাসনমূলক ব্যবস্থাপনা হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ও অনস্বীকার্য। সামাজিক কল্যাণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০২০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসাম রিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’ লাভ করেন। ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন। এই অর্জন তাঁর দীর্ঘদিনের মানবকল্যাণমূলক কাজের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং শিল্প-সমাজের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার দীপ্ত স্বাক্ষর বহন করে। করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও তাঁর প্রতিষ্ঠান জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃত। ২০১৬ সালের ১৬ মার্চ ঢাকায় আয়োজিত ষষ্ঠ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড-ফিন ান্সিয়াল এক্সপ্রেস করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা পুরস্কার অনুষ্ঠানে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাঁর হাতে সম্মাননা তুলে দেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, স্বাস্থ্যসেবায় সহ ায়তা এবং দুর্যোগকালে মানবিক ত্রাণ কার্যμম- এসব উদ্যোগ তাঁর নেতৃত্বে ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হয়েছে। চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে বিশেষ অবদানের জন্য দৈনিক পূর্বকোণ ও গ্রামীণফোন যৌথভাবে তাঁকে ‘প্রাইড অব চিটাগাং’ সম্মাননায় ভূষিত করে। এই সম্মাননা প্রদান করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি। এটি ছিল চট্টগ্রামের মানুষের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।
ব্যবসায়িক দক্ষতা, সুশাসন ও নেতৃ ত্বগুণের জন্য তিনি ২০০৩ সালে ‘বিজনেস পারসন অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননায় ভূষিত হন। তাঁর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, পরিকল্পনায় বাস্তববাদিতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে দৃঢ়তা তাঁকে একজন সফল করপোরেট নেতার আসনে সমাসীন করেছে। তবে তাঁর সাফল্যের প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে নৈতিকতা ও মানবিকতায়।
তাঁর ব্যক্তিত্বের অন্যতম উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দিক হলো নীরব দানশীলতা। তিনি প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে সারাজীবন অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ান। বহু ক্ষেত্রে তিনি অনিচ্ছাকৃতভাবে নিজের নাম প্রকাশ না করে সহায়তা প্রদান করেন। সমাজের নিম্নবিত্ত মানুষের চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে তাঁর গোপন সহায়তা অসংখ্য পরিবারের জীবনে আশার প্রদীপ শিখরে জ্বালিয়েছে। এই বিনয়ী ও আত্মপ্রচারবিমুখ দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছে। একজন সুফি সাধক হিসেবে তিনি আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও মানবপ্রেমকে জীবনের মূলমন্ত্র হিসেবে ধারণ করেন। তাঁর কাছে ব্যবসা কেবল মুনাফা অর্জনের উপায় নয়; বরং এটি মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হওয়ার একটি মাধ্যম। শিল্প ও আধ্যাত্মিকতার এই সমন্বয়ই তাঁর জীবনদর্শনের বৈশিষ্ট্য। তিনি বিশ্বাস করেন- নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য তাঁর জীবন এক অনুপ্রেরণার উৎস। কঠোর পরিশ্রম, সততা, আল্লাহভীতি ও মানবিক দায়িত্ববোধ- এই চারটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে তিনি তাঁর সাফল্যের পথ নির্মাণ করেছেন। শিল্পোন্নয়ন ও সামাজিক উন্নতির সমান্তরাল অগ্রযাত্রাই তাঁর নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য।
আজ তাঁর ৮৫তম জন্মদিনে আমরা প্রার্থনা করি, মহান আল্লাহ তাঁকে সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও আরও কল্যাণময় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের শক্তি দান করুন। বাংলাদেশের শিল্পখাত, সমাজসেবা ও আধ্যাত্মিক জাগরণে তাঁর অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আলোকবর্তিকা ও উপমা হয়ে থাকবে। শুভ জন্মদিন- শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও অফুরন্ত শুভকামনা।
লেখক: সাংস্কৃতিক সংগঠক






















































