রাতুলের ঈদের জামা

নূরনাহার নিপা »

সারাদিন শপিং মলে ঘুরে ঘুরে জামা কিনছে বাবা সাথে রাতুল। সে খুব বাবার ভক্ত, বাবা ছাড়া কিছুই বোঝে না।
আগামীকাল ঈদ। সন্ধ্যার পর বন্ধুরা সবাই ঈদের চাঁদ দেখার উল্লাস করবে, রাতুল ভাবছে রোদ্দুরের জন্য তার থেকে একটা জামা দিয়ে দেবে। প্রতিবার চাঁদ দেখতে রোদ্দুর রাতুলের ছাদে আসে সব বন্ধুরা উচ্ছ্বাসে, উল্লাসে চাঁদ দেখে। এবার ঈদ নিয়ে কারো কোনো আগ্রহ নেই।
কারণ রোদ্দুর মন খারাপ হলে রাতুলের কিছুই ভালো লাগে না।
বাবা ছেলের মুখ দেখে বুঝতে পারে কিছু একটা হয়েছে।
বাবা রাতুল তোমার জন্য জামাটা কিনেছি তুমি খুশি হওনি।
রাতুল বলল, জামাটা দেখতে এতই সুন্দর।
বাবা বললেন, তাহলে মুখটা ফ্যাকাশে কেনো? রাতুল এবার সাহস করে বাবাকে রোদ্দুরের কথা বলে, রোদ্দুর বলেছে সে এবার ঈদ করতে পারবে না।
বাবা জানো? ঈদের দিন আমরা সবাই নতুন জামা গায়ে দিয়ে সারাপাড়া ঘুরে বেড়াব। আর রোদ্দুরের বাবা নেই বলে তাদের ঈদ হবে না। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে রোদ্দুর জন্য।
বাবা অবাক চোখে ছেলের দিকে চেয়ে থাকে। রাতুলের দু”চোখ ভরে যায় অশ্রুতে, গলা আটকে যায়।
বাবা রাতুলের কচি মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। ছেলের প্রতি মুগ্ধতা বেড়ে যায়।
তুমি সুন্দর জামাটার দিকে তাকিয়ে থাকবে, না কিনবে?
রাতুল আমতা -আমতা করে দাম জানতে চাই। বাবা কিছুক্ষণ নিরব থেকে বলে, তাতে কী!
তুমি রোদ্দুরকে খুব ভালোবাসো, আমি জানি।
ওর জন্য আমারও কষ্ট হয়।
তাছাড়া রোদ্দুর ভালো ছেলে সে তোমার ভালো বন্ধু।
তার জন্য তার পরিবারের জন্য কিছু জামা কাপড় কিনে নাও। রাতুল উচ্ছ্বাসে আকাশ থেকে পড়ল। বাবার এমন আচারণে রাতুল ভীষণ খুশি। চকচকে কারুকাজে নীল পাঞ্জাবিটা বেশ সুন্দর। রোদ্দুরকে বেশ মানাবে তাই না বাবা?
বাবা একইরকম দুটো পাঞ্জাবি কেনেন।
রাতুল একরাশ আনন্দ নিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে।
ছেলেকে এতো খুশি দেখে চোখে পানি চলে এল খাইরুল আলমের।
একটা শপিং ব্যাগ। ব্যাগে একটা নতুন তাঁতের শাড়ি ও লাল ছোট্ট একটা ফ্রক। শাড়ি রোদ্দুরের মায়ের জন্য আর লাল ফ্রক রোদ্দুরের ছোটবোন মিষ্টির, রাতুল কতবার রোদ্দুর মুখে শুনেছে তার ছোটবোনের লাল ফ্রকের শখ, তাদের তো বাবা বেঁচে নেই। তাই ইচ্ছেটা কর্ণফুলী নদীর পাড়ে ছোট্ট কুটিরে আবদ্ধ।
ছোটবোনের কথা মনে হলে রোদ্দুর বুকের ভেতর ইচ্ছেগুলো কুঁকড়ে মরে,
মা শপিং ব্যাগটা দেখে অবাক হলো।
মা বলেন, এতো কাপড় কে এনে রেখেছে এখানে!
রোদ্দুর বলে, দেখনা মা,
রাতুল তোমাদের জন্য শপিং করেছে।
রোদ্দুর ছোটবোন ছোট ছোট পা ফেলে মায়ের দিকে তাকিয়ে ফিক করে হাসে।
দৌড়ে শপিং ব্যাগটা হাতে নিয়ে লাল ফ্রকটা দেখে চিৎকার দিয়ে উঠে, মা বলে রাখো। রোদ্দুরের চোখে মুখে খুশির আকাশ উপচে যায়। রোদ্দুর, রাতুল। আমি যা করতে পারিনি তুমি তা করেছো। আমার ছোট্ট বোনের মুখে হাসি দেখে আমার খুব ভালো লাগছে। রাতুল আমরা একসাথে বড় হয়েছি আমরা তো শুধু বন্ধু
না। তোমার জন্য অবিকল আমার মতো সে জামাটি নিয়ে এলাম। এটা আমি তোমাকে গিফট করেছি।
আমরা দুজনে একরকম জামা পরে ঈদে ঘুরে বেড়াব, এবার আর মন খারাপ করো না! রাত জেগে কথা আর স্বপ্নের জাল বুনে কেটে যায় চাঁদনি রাতটা। সময়ের সাথে দুজনের বন্ধুত্ব হয়ে যায় আত্মার আত্মীয়।