রমজানের একদিন বাকি। আর এরই মধ্যে পানির সংকট, বিদ্যুতের লোডশেডিং ও গ্যাসের চাপ কম থাকা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কপালে ভাঁজ পড়েছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ পড়েছে দুশ্চিন্তায় কারণ, রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য একদফা বেড়েছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি ছোলা, খেজুর, চিনি, ডাল, পেঁয়াজ, তেল ও অন্যান্য ইফতার সামগ্রীর কেনাকাটা ইতিমধ্যে বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ ঠিক থাকলেও দাম কিছুটা বেড়েছে। ভোজ্য তেলের বাজার নিয়ে কারসাজির অভিযোগ শোনা যাচ্ছে কিছুদিন ধরে। একজন বিক্রেতা সাংবাদিকদের বলেন, রমজান সামনে রেখে প্রতিদিন ক্রেতা বাড়ছে। কিছু পণ্যের দাম আগেই বাড়তি ছিল। রোজা উপলক্ষ্যেও কিছু কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলমন্ডির ব্যবসায়ীরা জানান, খেজুরের চাহিদা বেশি, দামও বেশি।
রমজান মাসে পানির চাহিদা বেশ বৃদ্ধি পায়। গরমও শুরু হয়েছে। এতে করে পানির চাহিদার ঠিকঠাক যোগান নিয়েও শংকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই শংকাকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে লোডশেডিং। বিদ্যুৎ না থাকলে পানির উৎপাদন ব্যাহত হবে। সেইসাথে সরবরাহও করা যাবে না। অধিকাংশ স্থানেই মোটর চালিয়ে পানি নিতে হয়। বিদ্যুতের অভাবে যা ব্যাহত হবে। উদ্বেগ রয়েছে গ্যাস নিয়েও। চট্টগ্রাম পুরোপুরি এলএনজি নির্ভর। আমদানিকৃত এলএনজি প্রবাহ ঠিকঠাক না থাকলে গ্যাসের যোগান ও চাপ ব্যাহত হবে। যা বিদ্যুৎ এবং পানির যোগানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
যদিও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম ওয়াসা এবং কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, রমজান উপলক্ষ্যে আমাদের পুরোপুরি প্রস্তুতি রয়েছে। কোথাও কোনো সমস্যা হবে না।
কিন্তু তারপরেও দুশ্চিন্তা যায় না। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে মানুষ জানে এ ধরনের আশ্বাসে বেশিরভাগ সময়ে চিড়া ভিজে না। সরকারের পক্ষ থেকে এমন আশ্বাস দেওয়া হয় বটে তবে তা বাস্তবতায়ন হয় কিনা তা দেখভালের দায়িত্বও কেউ নেয় না।
রমজান মাসজুড়ে মুসলমানেরা রোজা রাখবেন। এটি হচ্ছে সংযমের মাস। আশা করি মানুষ সংযমের পরিচয় দেবে। অতিরিক্ত যেকোনো কিছু থেকে নিজেদের বিরত রাখবে।
এ মুহূর্তের সংবাদ