ফ্যাসিস্ট দোসর যাতে বক্তব্য দিয়ে সংসদকে কলুষিত করতে না পারে

সুপ্রভাত ডেস্ক »

রাষ্ট্রপতিকে ইঙ্গিত করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংসদে আমরা সকলেই ফ্যাসিবাদমুক্ত। ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের সৈনিকেরা এখানে এসেছেন। কোনো ফ্যাসিস্ট দোসর যাতে আজকের এই মহান সংসদে বক্তব্য দিয়ে সংসদকে কলুষিত করতে না পারে। আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত জাতীয় সংসদ চাই।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)  বিকালে জাতীয় সংসদের শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আজকের দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত ঐতিহাসিক একটি দিন। ব্যক্তিগতভাবে আমার জীবনেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তথা ৩৬ জুলাই শাহবাগ থেকে ছাত্র-জনতার মিছিল নিয়ে আমি এবং আমার সহযোদ্ধারা এই জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে এসেছিলাম। ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে ফ্যাসিস্টমুক্ত করেছিলাম এই মহান জাতীয় সংসদকে। সেদিন আমাদের ভূমিকা ছিল বৈপ্লবিক। আজকে একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে এই মহান সংসদে কথা বলতে পারছি। সেজন্য মহান আল্লাহ তাআলার কাছে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

তিনি আরও বলেন, আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সেই ভাই-বোনদের, যারা নিজের বুক বুলেটের সামনে পেতে দিয়ে আমাদের আবারও স্বাধীন করে নিজেরা স্মৃতি হয়ে গেছেন। আমরা তাদের শাহাদাত কবুলের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। একই সাথে আহত ও পঙ্গু জুলাই যোদ্ধা ভাই-বোনদের প্রতি আমার সবটুকু আবেগ, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা দিয়ে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং তাদের সুস্থতা কামনা করছি। তাদের অমূল্য জীবন, রক্ত আর অপরিসীম ত্যাগের ফলেই আমরা আজ সংসদ সদস্য।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে অংশ নিয়েছিল ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষক, অভিভাবক, সাংস্কৃতিক কর্মী, আলেম সমাজ, তরুণ সেনা অফিসার ও সৈনিকগণ। প্রবাসী বাংলাদেশি ভাই-বোনেরাও এই অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আমাদের নারী সমাজ সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে ও নির্যাতিত হয়েছে। আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। তারা গণঅভ্যুত্থানে ভ্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ভাই শরীফ উসমান হাদী, যিনি তাঁর সাহসিকতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। শহীদ আবরার ফাহাদ ও শহীদ ফেলানী খাতুনকে স্মরণ করছি, যারা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে বাংলাদেশকে আজকের এই জায়গায় নিয়ে এসেছেন। ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে মাঠের নেতৃত্বে একেবারে সামনে থাকার কারণে আজকের দিনটি আমার জন্য একই সাথে আবেগের, কষ্টের ও আনন্দের। আমাদের সংগ্রামের সাথী শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মুগ্ধ, শহীদ ওয়াসিফ, চার বছরের শিশু আহাদ, ছয় বছরের শিশু রিয়াসহ প্রায় ১৫০ জন শিশুর শাহাদাত এবং পুলিশের এপিসি থেকে ফেলে দেওয়া শহীদ ইয়ামিন, সাভারের আশুলিয়ায় ভ্যানের ওপর জীবন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়িয়ে মারা কিশোর শহীদ স্বজনসহ অগণিত মানুষের স্মৃতি আমাকে প্রচণ্ডভাবে নাড়া দিচ্ছে।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান মানে শুধু একটি আন্দোলন নয়, এটি নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা। গণভোটের রায় অনুযায়ী আমরা যেমন সংসদ সদস্য, একইভাবে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য। আমাদের সরকারি দলের বন্ধুরা অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন বলেই আমরা বিশ্বাস করি। আমরা একই সাথে গণতান্ত্রিক সংস্কারগুলো সাধন করতে চাই। ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে তাদের রায় জানিয়ে দিয়েছে।

বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, আমরা জুলাই গণহত্যার বিচার চাই, শরীফ ওসমান হাদী হত্যার বিচার চাই, গুম-খুনের বিচার চাই। বিগত সময়ে হওয়া লুটপাট ও দুর্নীতির বিচার চাই। জুলাই মানে নতুন বন্দোবস্ত, গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন দেশ। জুলাই মানে আধিপত্যবাদমুক্ত, ফ্যাসিস্টমুক্ত দেশ। জুলাই মানে মানবিক মর্যাদা, দায় ও দরদের বাংলাদেশ।