মোঃ রাজিব হুমায়ুন »
এক ছিল ছোট্ট গ্রাম- নাম তার ফুলপুর। সেই গ্রামে থাকতো এক কৌতূহলী মেয়ে, নাম তার মিমি। বয়স মাত্র দশ বছর, কিন্তু মাথায় হাজারটা প্রশ্ন। সবচেয়ে পছন্দের জিনিস ছিল ফুল। লাল গোলাপ, হলুদ সূর্যমুখী, সাদা বেলি- সবই ছিল মিমির ভালোবাসা।
একদিন স্কুল থেকে ফিরে মিমি শুনলো, গ্রামে এক ‘ফুলের মেলা’ হবে। তার চোখে-মুখে আলো ছড়িয়ে পড়লো! সে ভাবলো, ‘ফুলের মেলা মানে নিশ্চয় রঙিন ফুল, গন্ধে ভরা মাঠ!’
পরদিন সকালেই সে গেল মেলায়। কিন্তু মেলায় গিয়ে অবাক! মেলা শুধু ফুল দেখানোর জন্য না, বরং ফুল চাষ, পরিচর্যা আর পরিবেশের গুরুত্ব নিয়েও অনেক কিছু শেখানো হচ্ছে।
একটা ছোট্ট স্টলে লেখা ছিল, “মাটির যত্ন না নিলে ফুল ফুটবে না।” পাশেই এক কাকু দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বললেন, “ফুল তো শুধু রঙ বা গন্ধের জন্য না, পোকামাকড়, মৌমাছি- সবার জন্যই দরকার।”
মিমি জিজ্ঞেস করলো, “পোকামাকড়ের জন্য কেন দরকার?”
কাকু হেসে বললেন, “মৌমাছি ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে। মধু সংগ্রহের সময় পরাগায়নের মাধ্যমে ফুল থেকে ফল ধরতে সাহায্য হয়। প্রকৃতির বন্ধুরা সবাই একে অপরের সাহায্য করে, ঠিক যেমন তুমি তোমার বন্ধুদের পড়া শেখাও।”
মিমির খুব ভালো লাগলো কথাটা। এরপর সে গেল অন্য স্টলে। সেখানে শেখানো হচ্ছিল কীভাবে ছাদে গাছ লাগাতে হয়। একটা ছোট্ট ছেলেও সেখানে শিখছিল। মিমি জিজ্ঞেস করলো, “তুমি কী গাছ লাগাও?”
ছেলেটা হেসে বলল, “হ্যাঁ! আমার বাসার ছাদে একটা ছোট্ট বাগান আছে। আম্মু বলেছে, আমরা যদি গাছ লাগাই, তাহলে শহরের গরমও একটু কমে যাবে।”
মিমি ভাবলো, “আচ্ছা, আমি যদি বাড়ির পেছনে একটা ফুলের বাগান করি, তাহলে আমার বাড়িও সুন্দর হবে, আর পরিবেশও ভালো থাকবে।”
মেলা থেকে মিমি একটি গাছের চারা কিনে আনলো—একটি সাদা চামেলি। সে ঠিক করলো, নিয়ম করে পানি দেবে, যত্ন নেবে, আর বন্ধুদেরও ফুলের গল্প বলবে।
সন্ধ্যায় মা বললেন, “আজ তো অনেক কিছু শিখেছো মনে হচ্ছে!”
মিমি বলল, “হ্যাঁ মা, ফুল শুধু সুন্দর নয়, তারা পরিবেশের রক্ষাকর্তা। আমরা যদি ফুলের যত্ন নিই, তারা আমাদের জন্য সুন্দর পৃথিবী তৈরি করবে।”
শিক্ষণীয় বার্তা:
ফুল শুধু সুন্দর নয়, প্রকৃতির বন্ধু। ছোটবেলা থেকে গাছপালা ও পরিবেশের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস করলেই গড়ে উঠবে সবুজ পৃথিবী।





















































