সুপ্রভাত ডেস্ক »
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, আমি আমার সাংবাদিকতার কাজটা করব। এটা যদি আমরা করতে পারি একটা পেশাদার গোষ্ঠী হিসেবে, তাহলে আমাদেরকে দমনপীড়ন করার ক্ষেত্রে যেকোনো সরকার দুইবার ভাববে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের টেনিস গ্রাউন্ডে জুলাই রেভল্যুশনারি জার্নালিস্ট’স অ্যালায়েন্স আয়োজিত গণমাধ্যম উৎসব-২০২৬-এ এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দুইটা আইন ড্রাফট (খসড়া) করা হয়েছে। খসড়া মন্ত্রণালয় নিজে নিজে করে ফেলছে, এটা মনে করার কোনো সুযোগ নেই। খসড়া ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় মতামতের জন্য দিয়েছে। আপনারা সবাই মতামত দেবেন। মতামত দেওয়ার পর এটা যেভাবে পরিবর্তন করা দরকার, আমরা যদি যুক্তিসংগত মনে করি, পরিবর্তন করব। এই যে বললেন তাড়াহুড়া করে করা হয়েছে। তাড়াহুড়াটা কোথায় হলো ভাই? ৫৪ বছরে তো মিডিয়া কমিশন পাননি। ৫৪ বছরে তো দেশের সম্প্রচার অধ্যাদেশ পাননি। ৫৪ বছর অপেক্ষা করার পরও মনে হলো যে তাড়াহুড়া হচ্ছে। এখন যদি আমরা মনে করি সব প্রক্রিয়া আমরা সম্পন্ন করতে পারব না, তাহলে প্রক্রিয়া পরের সরকার করবে। আমাদের তো এখানে নাম কামানোর দরকার নেই। আমাদের যার যার ক্ষেত্রে নাম আছে। কিন্তু আমরা একটা খসড়া যদি চূড়ান্ত করে দিয়ে যেতে পারি, যদি পাস করাতে পারি খুব ভালো। না পারলে খসড়া যদি চূড়ান্ত করাতে পারি সবার মতামত নিয়ে, তাহলে আপনারা অন্তত খসড়টা নিয়ে আগামী সরকারের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন।
তিনি বলেন, শুধু একটা নির্বাচন দিয়ে কিন্তু গণতন্ত্র আসবে না। সেখানে সংবাদপত্রের একটা অনেক বড় ভূমিকা আছে। তারা তো গণতন্ত্র রক্ষার একটা স্তম্ভ। সাংবাদিকরা একটা স্তম্ভ, সাংবাদিকতা একটা স্তম্ভ। আপনারা নিজেরা বললেন যে পটপরিবর্তনের পরে আবার আনুগত্য পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। সেখান থেকে কেমন করে আপনারাও উত্তরণ করবেন। পেশাগত উত্তম চর্চা কি, এগুলো আপনাদেরকে ঠিক করতে হবে। ইন্টিমিডেট করে কোনো কিছু অর্জন করা যায় না। জাতীয় পর্যায়ে কেন সেটা আমরা করব? একটা গণতান্ত্রিক সমাজে আমরা কথা বলব। আপনাদের যা প্রয়োজন আমাদেরকে বলবেন। আমাদের যা প্রয়োজন আপনাদেরকে আমরা বলব।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, মন্ত্রণালয় হিসেবে আমি আসলে দুই মাসও কাজ করার সময় পাচ্ছি না। তারপরও একটা খসড়া করার চেষ্টা করেছি। এটা আরও উন্নত করা হবে, পরিবর্তন করা হবে। উদ্বেগের কিছু আছে বলে আমি মনে করছি না। আরেকটা হচ্ছে যে, আপনাদের নিজেদের কারণেই যেন নিজেরা বিপদে না পড়েন। সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার স্বার্থে আমার হয়ত আর ছয় কর্মদিবস আছে। যদি কিছু দ্রুততম সময়ের মধ্যে করার দরকার পড়ে আমাকে জানাবেন আর কোথাও যদি সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকির মধ্যে আপনারা পড়েন, যেটাকে আপনারা নিরাপত্তাহীনতা মনে করছেন, আমাকে বলবেন। আমি অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথা বলব। সাংবাদিকতায় সাংবাদিক হিসেবে দয়া করে সকলে এক হবেন। সাংবাদিকতার প্রশ্নে দয়া করে সকলে এক হবেন।

















































