গত বছর চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন থানা থেকে লুন্ঠিত পুলিশের ১৫৪টি অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। একই সঙ্গে সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্রও উদ্ধার করা যায়নি। পত্রিকার খবরে প্রকাশ, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের দিন এসব অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা করছেন নাগরিকেরা। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা এসব অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা অবশ্য বলছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রামে ২৫টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র ও থানা থেকে লুট করা অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে জানিয়ে পুলিশ ও র্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, এসব অস্ত্র ব্যবহার করার সাহস কেউ পাবে না।
গত বছরের ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে পুলিশের ৮১৩টি অস্ত্র ও গুলি লুট করা হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ বি (সিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, এসব অস্ত্রের মধ্যে ১৫৪টি এখনো উদ্ধার হয়নি।
লুণ্ঠিত অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনও উদ্ধার না হওয়া জননিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই পরিস্থিতি কেবল উদ্বেগজনক নয়, বরং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লুণ্ঠিত অস্ত্রের মধ্যে অত্যাধুনিক রাইফেল, শটগান ও পিস্তল রয়েছে, যা এখন অপরাধী ও অশুভ শক্তির হাতে থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করে। চট্টগ্রাম যেহেতু ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকা, সেখানে এই বিশাল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া নির্বাচনী পরিবেশকে কলুষিত করতে পারে। অপরাধী চক্র বা স্বার্থান্বেষী মহল এই অস্ত্র ব্যবহার করে পেশিশক্তির মহড়া দিতে পারে, যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে প্রধান অন্তরায়।
উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার আল্টিমেটাম দেওয়া সত্ত্বেও প্রত্যাশিত হারে অস্ত্র জমা পড়েনি। তল্লাশি অভিযান চললেও অনেক অস্ত্রই এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। কেবল গতানুগতিক তল্লাশি নয়, বরং স্থানীয়দের সহায়তা নিয়ে এবং প্রযুক্তির ব্যবহার করে প্রতিটি লুণ্ঠিত অস্ত্রের হদিস বের করতে হবে।
জনমনে স্বস্তি ফেরাতে পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। অস্ত্রগুলো যদি নির্বাচনের আগে উদ্ধার করা না যায়, তবে ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে। আমরা মনে করি, প্রশাসনকে আরও কঠোর ও কৌশলী হতে হবে। অস্ত্রের উৎস ও বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা যেমন বিঘ্নিত হবে, তেমনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াও প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে লুণ্ঠিত প্রতিটি অস্ত্র উদ্ধার করা রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব। কোনো অবস্থাতেই এই মরণাস্ত্রগুলো অপরাধীদের হাতে থাকতে দেওয়া যায় না।


















































