তিশা ও নারী দিবস

ফারুক হোসেন সজীব »

ছোট্ট মেয়ে তিশা। কাঁধে ছোট ব্যাগ, চুলে দুটো বেণী। আজ সে দাদুর বদলে দাদির হাত ধরে বিকেলে হাঁটতে বেরিয়েছে। কিন্তু দাদি খুব দূরে যেতে দিলেন না। তিনি বললেন, এখন সময়টা ভালো না। আমরা বাড়ির সামনেই হাঁটি। তিশা একটু মন খারাপ করলেও দাদির সঙ্গে হাঁটতে তার ভালো লাগে। কারণ দাদির কাছে থাকে গল্পের ভাণ্ডার। হাঁটতে হাঁটতে দাদি হঠাৎ জিজ্ঞেস করলেন, বল তো, আজ কী দিবস? ছোট্ট তিশা আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবল। পাখি উড়ছে। বাতাস বইছে। কিন্তু উত্তর মনে পড়ল না।
জানি না দাদি। দাদি মৃদু হেসে বললেন, আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। তিশার চোখ বড় হয়ে গেল।
নারী দিবস মানে কী? দাদি ধীরে ধীরে বলতে শুরু করলেন, অনেক বছর আগে মেয়েরা ছেলেদের মতো সমান অধিকার পেত না। তারা ভোট দিতে পারত না। বড় কাজ করতে পারত না। তখন কিছু সাহসী নারী এগিয়ে এসেছিলেন। তারা বলেছিলেন, মেয়েরাও মানুষ। তাদেরও সমান সম্মান চাই। তিশা মন দিয়ে শুনছিল। তাদের একজন ছিলেন ঈষধৎধ তবঃশরহ। তিনি ১৯১০ সালে ডেনমার্কের ঈড়ঢ়বহযধমবহ শহরে একটি বড় সভায় প্রস্তাব দেন। প্রতি বছর একটি দিন নারীদের অধিকারের কথা মনে করার জন্য রাখা হোক। পরে ৮ মার্চ দিনটি সারা বিশ্বে নারী দিবস হিসেবে পরিচিত হয়। নারীরা অনেক সংগ্রাম করেছে। অনেক কষ্ট সহ্য করেছে। কেউ কেউ কাজের জায়গায় অন্যায় সহ্য করেছে। কেউ নিরাপত্তা পায়নি। তবুও তারা থামেনি। কারণ তারা চেয়েছিল ভবিষ্যতের মেয়েরা যেন ভালো থাকে।
তিশা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর প্রশ্ন করল, এখন কি সব মেয়েরা নিরাপদ? দাদি একটু দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। পুরোপুরি নয়। এখনো অনেক জায়গায় অন্যায় হয়। কিন্তু আগের চেয়ে অনেক বদল এসেছে। আজ মেয়েরা স্কুলে যায়। ডাক্তার হয়। পাইলট হয়। বিজ্ঞানী হয়।
তিশার মুখে হাসি ফুটল। তাহলে আমিও সব করতে পারব? দাদি দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, অবশ্যই পারবে। মানুষ হিসেবে তোমার ক্ষমতা সীমাহীন। অবশেষে বাড়ির সামনে এসে তারা থামল।
সূর্য ডুবছে। আকাশ লালচে হয়ে উঠেছে। তিশা বলল, দাদি আমি বড় হয়ে শিক্ষক হতে চাই। মেয়েদের পড়াতে চাই। যেন কেউ অশিক্ষিত না থাকে। দাদি তিশার মাথায় হাত রেখে বললেন, এটাই তো আসল নারী দিবসের শিক্ষা। নিজের স্বপ্ন দেখা, আর অন্যের পথ আলোকিত করা। সেদিন রাতে তিশা খাতায় লিখল ৮ মার্চ নারী দিবস সমান অধিকার সবার। তার ছোট্ট মনে জন্ম নিল এক বড় স্বপ্ন। সে বুঝল, আন্দোলন মানেই শুধু রাস্তায় নামা নয়। অন্যায়কে না বলা, নিজেকে শিক্ষিত করা, অন্যকে সম্মান করা—এসবও এক ধরনের সংগ্রাম। আন্তর্জাতিক নারী দিবস তাই তিশার কাছে শুধু একটি দিন নয়। এটি সাহসের গল্প। সমতার প্রতিজ্ঞা। আর একটি সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন!