নিজস্ব প্রতিবেদক »
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক কোর্ট হিল এলাকায় দীর্ঘদিন অবহেলায় জীর্ণ হয়ে থাকা জিরো পয়েন্ট নতুন রূপে ফিরে পেয়েছে তার ঐতিহাসিক মর্যাদা। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার উদ্যোগে সংস্কার শেষে শনিবার (৭ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে চট্টগ্রামের এই ঐতিহ্যবাহী স্মারকটি।
উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “একটি জাতির ইতিহাস ও ঐতিহ্যই মূলত তার সংস্কৃতির শেকড় নির্ধারণ করে। আমাদের সংস্কৃতির ইতিহাস কতটা সমৃদ্ধ—তা এসব ঐতিহাসিক নিদর্শনের মাধ্যমেই প্রতিফলিত হয়। একই সঙ্গে এগুলো আগামী প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়।”
চট্টগ্রাম নগরের প্রশাসনিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন এলাকা কোর্ট হিল। বহু বছর ধরে এই এলাকাতেই দাঁড়িয়ে আছে চট্টগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত জিরো পয়েন্ট। তবে দীর্ঘদিন অবহেলা ও অযত্নে স্থাপনাটির অবস্থা জীর্ণ হয়ে পড়েছিল।
জেলা প্রশাসক জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর কোর্ট হিল এলাকায় পরিদর্শনে গিয়ে জিরো পয়েন্টের অবহেলিত অবস্থা তাঁর নজরে আসে। পরে এর ইতিহাস অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, ব্রিটিশ আমল থেকেই চট্টগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু চিহ্নিত করার জন্য এখানে একটি স্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছিল, যা পরবর্তীকালে ‘জিরো পয়েন্ট’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম দেশের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এর ইতিহাস অনেক পুরোনো। ১৮৬০ সালে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় দুটি জেটি স্থাপনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের যাত্রা শুরু হয়। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিস্তার ঘটে।”
সে সময় ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন স্থানের দূরত্ব নির্ধারণের সুবিধার্থে ব্রিটিশ সরকার একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্র বা বিন্দু স্থাপন করে। সেই কেন্দ্রই পরবর্তীকালে জিরো পয়েন্ট নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, নব্বইয়ের দশকে জিরো পয়েন্টের বর্তমান কাঠামোটি নির্মাণ করা হয়। পরে ২০০১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সীমিত পরিসরে কিছু সংস্কার করা হলেও স্থাপনাটির নান্দনিকতা ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব ধরে রাখতে বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন ছিল।
জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা স্থাপনাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এর সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেন। তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে জিরো পয়েন্টকে নতুনভাবে সংস্কার করে দৃষ্টিনন্দন ও পরিচ্ছন্ন রূপ দেওয়া হয়েছে।
সংস্কার শেষে নতুন নান্দনিক অবয়বে জিরো পয়েন্ট এখন চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং নগর সৌন্দর্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে নতুন মাত্রা পেয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ এবং নগরের সৌন্দর্যবর্ধনে জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগ একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

















































