ডিবি পরিচয়ে স্বর্ণ ছিনতাই এ কেমন অরাজকতা?

সম্প্রতি ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনাটি কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং এটি জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক চরম আশঙ্কার সংকেত। যখন দেশের সাধারণ মানুষ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পোশাক বা পরিচয় দেখে ভরসা পাওয়ার কথা, সেখানে সেই পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কোটি টাকার সম্পদ লুটে নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এক উদ্বেগজনক চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।

এ ধরণের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ডিবি, র‍্যাব বা পুলিশের পরিচয় দিয়ে অপহরণ ও ছিনতাইয়ের খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে। কিন্তু দিনের আলোতে একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই হওয়ার সাহস অপরাধীরা পায় কোত্থেকে? যখন অপরাধীরা অবলীলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নাম ব্যবহার করে, তখন সাধারণ মানুষের মনে এই প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যে—তারা কি সত্যিই নিরাপদ? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত হলে সাধারণ মানুষ প্রকৃত সাহায্যকারী এবং অপরাধীর মধ্যে পার্থক্য করতে হিমশিম খায়, যা সামাজিক আস্থাকে ধূলিসাৎ করে দেয়।
এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অপরাধীরা কীভাবে ডিবি’র সরঞ্জাম (যেমন—ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাফ বা জ্যাকেট) সংগ্রহ করছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। যদি এই সরঞ্জামগুলো সহজলভ্য হয়, তবে তার দায় প্রশাসন এড়াতে পারে না। অন্যদিকে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় বাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যও এসব চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়ে। তাই তদন্তের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার শৈথিল্য দেখানোর সুযোগ নেই। অপরাধী যেই হোক, তার পরিচয় কেবল ‘অপরাধী’ হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। কেবল গ্রেফতারই যথেষ্ট নয়, বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে এমন সাজার ব্যবস্থা করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ প্রশাসনের পরিচয় ব্যবহার করে এমন দুঃসাহস দেখানোর কথা চিন্তাও না করে। ছিনতাই হওয়া স্বর্ণ উদ্ধার করে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং নাগরিক জীবন নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং পরিচয় নিশ্চিত করার আধুনিক পদ্ধতি প্রবর্তন করা এখন জরুরি। আমরা আশা করি, প্রশাসন এই ঘটনার পেছনের মূল হোতাদের মুখোশ উন্মোচন করবে এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জনমনে স্বস্তি ও আস্থা ফিরিয়ে আনবে।