‘জুলাই আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে সংবিধান পরিবর্তনের পক্ষে জামায়াত’

সুপ্রভাত ডেস্ক »

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, সংবিধান মানুষের জন্য, সংবিধানের জন্য মানুষ নয়। তাই জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংবিধানের কোনো ধারা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হলে তা করা হবে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়, যার বেশ কিছু বিষয়ে এরই মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আজকের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চলছে; কোনো কোনো অধ্যাদেশের ব্যাপারে আমরা একমত হয়ে গেছি, আর কিছু বিষয় নিয়ে পরবর্তী মিটিংয়ে আলোচনা হবে।’ তিনি জানান, এদিনের বৈঠকে মোট ২৭টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে ৪-৫টি পরবর্তী সভায় পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছাত্রদের চাকরির বয়সসীমা ৩২ বছর করার বিষয়ে তারা প্রায় একমত হয়েছেন। জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষায় প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষার বিষয়ে আমরা একমত। তবে এ বিষয়ে আরও কিছু আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।’

সংবিধান ও জুলাই আকাঙ্ক্ষার মধ্যে কোনটি প্রাধান্য পাবে– এমন প্রশ্নের উত্তরে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা জুলাই আকাঙ্ক্ষাকে অবশ্যই প্রাধান্য দেব। কারণ জুলাই বিপ্লব না হলে আমরা আজকে সংসদ ভবনে আসতে পারতাম না। এটাকে আমরা প্রায়োরিটি দেব।’ তিনি আরও যোগ করেন, সংবিধান কোরআন বা ওহী নয়; তাই দেশের ও জনগণের প্রয়োজনে তা পরিবর্তন করা যেতেই পারে।

সাবেক সরকারের কড়া সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, আগের ফ্যাসিবাদী সরকারের সাধারণ সম্পাদক সংবিধানের দোহাই দিয়ে অনেক কিছু করেছেন। তারা বলতেন সংবিধানের বাইরে এক চুল নড়বেন না। কিন্তু জামায়াত বিশ্বাস করে, জুলাই চেতনাকে সমুন্নত রেখে সংবিধান পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে তা করা হবে।

রফিকুল ইসলাম খান স্পষ্ট করেন যে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শুরু থেকেই বলে আসছেন তারা শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করবেন না। দেশের ও জনগণের স্বার্থে যেকোনো বিষয়ে সরকারকে সমর্থন দেওয়া হবে। তবে দেশ, জনগণ বা ইসলামের বিরুদ্ধে যায়– এমন যেকোনো বিষয়ে শক্ত অবস্থান নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো অধ্যাদেশ ইসলামের বিরুদ্ধে যাচ্ছে বলে মনে হয়নি বলে জানান তিনি।