দ্রুত নতুন শব্দ শিখতে পারে কুকুর
কুকুর সাধারণত ‘বসো’, ‘থামো’-এ ধরনের নির্দেশসূচক শব্দ মনে রাখতে পারে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, একশ্রেণির ‘মেধাবী’ কুকুর এখন কেবল মানুষের কথা আড়ি পেতে শুনেই নতুন নতুন খেলনার নাম শিখে নিচ্ছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় কুকুরের এমন বিস্ময়কর বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
বিজ্ঞানীদের মতে, সারা বিশ্বে মাত্র ৫০টির মতো এমন প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন কুকুরের সন্ধান পাওয়া গেছে, যারা শত শত খেলনার নাম মনে রাখতে পারে। হাঙ্গেরির ইওটভোস লোরান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অস্ট্রিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ভেটেরিনারি মেডিসিনের একদল গবেষক এই সব বিশেষ কুকুরের ওপর গবেষণাটি চালিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্সে এই গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়।
গবেষণার জন্য ১০টি বিশেষ কুকুরকে বেছে নেওয়া হয়। পরীক্ষার সময় দেখা যায়, মালিকেরা যখন একটি নতুন খেলনা হাতে নিয়ে অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সেটি নিয়ে গল্প করছিলেন, তখন কুকুরগুলো পাশ থেকে তা চুপচাপ শুনছিল। এরপর তাদের অন্য একটি ঘরে পাঠিয়ে অনেকগুলো খেলনার স্তূপ থেকে নির্দিষ্ট সেই খেলনা আনতে বলা হয়। বিস্ময়করভাবে ১০টির মধ্যে ৭টি কুকুরই সঠিক খেলনাটি খুঁজে আনে। এমনকি খেলনাটি একটি বাক্সের ভেতর লুকিয়ে রেখে সেটি নিয়ে অন্যদের সঙ্গে কথা বললেও কুকুরগুলো শুধু নাম শুনেই সেটি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদনটির প্রধান লেখক শ্যানি ডোর বলেন, এই প্রথম আমরা এমন কিছু কুকুরের দেখা পেলাম, যারা মানুষের কথোপকথন শুনে শব্দের অর্থ বুঝতে পারে। সাধারণত দুই বছরের কম বয়সী মানবশিশুরা এভাবেই আড়ি পেতে শুনে নতুন নতুন শব্দ শিখে থাকে। তোতা পাখি বা শিম্পাঞ্জির মতো কিছু প্রাণীর মধ্যে এই দক্ষতা আগে দেখা গেলেও কুকুরের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত বিরল।
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ হেইডি লিন বলেন, এই গবেষণা প্রমাণ করে যে প্রাণীদের বুদ্ধিমত্তা আমাদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি উন্নত।
হাতি টের পেয়ে আছড়ে ফেলল ক্যামেরা
পৃথিবীতে অতি সামাজিক ও বুদ্ধিমান প্রজাতির প্রাণীর একটি হাতি। চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে এদের সচেতনতার মাত্রাটা তীক্ষ্ণ। এরা দলবদ্ধ থেকে একে অপরকে রক্ষা করার প্রবণতার জন্য সুপরিচিত। হাতি যে নিজস্ব গণ্ডির সুরক্ষায় খুব তৎপর, সেটির প্রমাণ পাওয়া গেছে সাম্প্রতিক এক ভিডিওতে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, মানুষের উপস্থিতি ও তাঁদের রেকর্ডিং যন্ত্র নিজেদের পরিসরে ঢুকে পড়ায় একটি হাতি অসন্তোষ প্রকাশ করছে।
২৮ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে দেখা যায়, বনের গভীরে বসানো একটি ক্যামেরার দিকে দূর থেকেই নজর পড়ে এক বুনো হাতির। এরপর হাতিটি সোজা তেড়ে এসে সেটি আছড়ে ফেলে।
ক্যামেরা মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর হাতি এমন নির্বিকার ভঙ্গিতে সেখান থেকে চলে যায়; যেন নিজের কাজ সারা হয়েছে।
ভারতীয় বন বিভাগের কর্মকর্তা পারভিন কাসওয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘গোপনীয়তা জরুরি। হাতিটি যখনই অস্বাভাবিক কিছুর (ক্যামেরা) অস্তিত্ব টের পেল, সঙ্গে সঙ্গে সেটি
বন্য প্রাণীর সংখ্যা ও আবাসস্থল নিয়ে গবেষণার জন্য বনে ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। সেটি দেখে তেড়ে যায় হাতিটি।
কাসওয়ান আরও লেখেন, ‘বন্য প্রাণীর সংখ্যা ও আবাসস্থল নিয়ে গবেষণার জন্য উদ্যানে ইনফ্রারেড ও হোয়াইট ফ্ল্যাশ ক্যামেরা বসানো হয়েছে। বর্তমানে জাতীয় উদ্যানে এমন ২১০টি ক্যামেরা স্থাপন করা আছে।’ তবে হাতির আঘাতে ক্যামেরাটি ছিটকে পড়লেও নষ্ট হয়নি; বরং সেই ক্যামেরা থেকেই দারুণ এ ভিডিও পাওয়া গেছে।
সংগৃহীত





















































