জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযান : বিপুল অস্ত্র উদ্ধার, আটক ২২

সুপ্রভাত ডেস্ক »

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে সন্ত্রাসী চক্রের ২২ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে

আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে চট্টগ্রাম রেঞ্জ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রেঞ্জ ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, অভিযানে পাহাড়ের গভীরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা এবং একটি অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। ওই কারখানা ব্যবহার করে তারা অস্ত্র তৈরি করতো এবং পাহাড়জুড়ে স্থাপন করা সিসিটিভি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলাচল পর্যবেক্ষণ করত। অভিযানে সেই নজরদারি ব্যবস্থাও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

ডিআইজি জানান, অভিযানে উল্লেখযোগ্য কোনো শীর্ষ সন্ত্রাসীকে আটক করা না গেলেও এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। তার ভাষায়, আগে অপরাধীরা ওই এলাকায় লুকিয়ে থাকার সুযোগ পেত, এখন সেই পরিস্থিতি আর থাকবে না। এলাকায় স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে দুটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন এবং নিয়মিত অভিযান চালানোর কথাও জানান তিনি।

পুলিশ জানায়, অভিযান চালিয়ে জঙ্গল সলিমপুর এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় পিস্তল ও একটি এলজি, ২৭টি পাইপগান এবং ৫৭টি অস্ত্র তৈরির পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি, ৬১টি কার্তুজ, ৩০টি ম্যাগাজিন এবং ১১টি তাজা ককটেল জব্দ করা হয়। অস্ত্র তৈরির একটি লেদ মেশিনও উদ্ধার করা হয়েছে।

নজরদারিতে ব্যবহৃত ১৯টি সিসি ক্যামেরা, কয়েকটি ডিভিআর এবং দুটি বাইনোকুলারও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার ভোর সাড়ে ৫টায় এই অভিযান শুরু হয়। অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), র‍্যাব, বিজিবি, এপিবিএন ও আরআরএফের মোট ৩ হাজার ১৮৩ সদস্য অংশ নেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের অবস্থান শনাক্ত করতে তিনটি হেলিকপ্টার, ১২টি ড্রোন, ১৫টি এপিসি এবং তিনটি ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা হয়।

অভিযানটি নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন।

অভিযানের সময় এলাকার বিভিন্ন পাহাড়ে গড়ে তোলা সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও নজরদারি টাওয়ার (ওয়াচ টাওয়ার) গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এসব টাওয়ার ব্যবহার করে অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত বলে জানায় পুলিশ। অভিযানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জঙ্গল সলিমপুরে দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পে জেলা পুলিশ ও এপিবিএনের ১৩০ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। আর আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পে আরআরএফ, এপিবিএন ও র‍্যাব-৭ এর ২৩০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি আরও বলেন, এলাকার কিছু ভূমিদস্যু সন্ত্রাসীদের সহায়তা করছিল—এ বিষয়ে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। অতীতে সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে র‍্যাবের এক সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাও স্মরণ করেন তিনি। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতির পরিবেশ ছিল। তবে সাম্প্রতিক অভিযানের মাধ্যমে সেখানে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে, যা বড় একটি সফলতা বলে তিনি মনে করেন।

বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।