সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাবের ওপর হামলায় জড়িতদের ধরতে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয়ে দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
মো. রাসেল জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও এবং মোবাইল ফোনের তথ্য পর্যালোচনা চলছে।
পুলিশে এ কর্মকর্তা আরও জানান, অভিযান চলাকালে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় উচ্ছৃঙ্খল জনতা কয়েকজন র্যাব সদস্যকে আটক করে নিয়ে যায়। তাদের কাছ থেকে অস্ত্রও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলটি ছিন্নমূল ও বিক্ষিপ্ত জনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়া অভিযান পরিচালনা কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে স্থানীয় মানুষের তুলনায় বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষের সংখ্যা বেশি। এ কারণে অভিযান পরিচালনা করা কঠিন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযান গেলে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন র্যাব-৭ এর সদস্য নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার নিহত ও ৩ জন সদস্য আহত হন। ঘটনার পরপরই যৌথ বাহিনী জঙ্গল সলিমপুরে সব প্রবেশমুখে অবস্থান নেয়।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেখানকার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সাদা রঙের মাইক্রোবাসে কালো জ্যাকেট পরা র্যাব সদস্যরা সেখানে অভিযানে যায়। এসময় মাইকে ঘোষণা দিয়ে কয়েকশ’ লোক জড়ো করে সংঘবদ্ধভাবে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। ভিডিওতে মাইক্রোবাসে ভাঙচুর করতে দেখা যায়।
প্রশাসনিক কাঠামোতে জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান সীতাকুণ্ড উপজেলার আওতায় হলেও ওই এলাকায় প্রবেশ করতে হয় চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার বাংলাবাজার এলাকা দিয়ে। বায়েজিদ লিঙ্ক রোড দিয়ে ভাটিয়ারি যাওয়ার পথে ডান দিকে জঙ্গল ছলিমপুর।
এলাকাটিতে দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে সরকারি পাহাড় ও খাস জমি দখল করে গড়ে উঠেছে হাজারো অবৈধ বসতি। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় এলাকাটি পাহাড়খেকো, ভূমিদস্যু ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর আয়তনের এই এলাকার দখলকৃত জমির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। টিলা কেটে গড়ে তোলা এ ঝুঁকিপূর্ণ বসতি পরিণত হয়েছে ‘দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্যে’। এলাকাটি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ, খুনোখুনি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চললেও বারবার প্রশাসনের অভিযান হামলার মুখে পড়ছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।



















































