জঙ্গলের সেই ভয়ংকর বিকেল

আমাদের গ্রামের ছোট্ট ছেলে তামজিদ। দুরন্ত তার মন, ছটফটে তার চলাফেরা। সারাদিন মাঠে আর বাগানে ঘুরে ঘুরে খেলাধুলা করাই তার সবচেয়ে প্রিয় কাজ। বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টায় কেটে যায় তার দিন।
একদিন বিকেলে বাগানে খেলতে খেলতে হঠাৎ তার বলটি গড়িয়ে জঙ্গলের ভেতরে চলে যায়। তামজিদ আর তার বন্ধুরা বলটি খুঁজতে শুরু করে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তারা বলটি আর খুঁজে পায় না। খেলার জন্য সেটাই ছিল তাদের একমাত্র বল।
বল খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ জঙ্গলের ভেতর থেকে একটি সাপ বের হয়ে আসে এবং তামজিদকে কামড়ে দেয়। ভয়ে আর যন্ত্রণায় সে সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। বন্ধুরা আতঙ্কিত হয়ে তাকে তুলে দ্রুত বাড়িতে নিয়ে আসে।
বাড়িতে পৌঁছালে সবাই খুব চিন্তিত হয়ে পড়ে। তামজিদের দাদি তখন তাকে কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।
তামজিদের অবস্থা দেখে সবাই খুব ভয় পেয়ে যায়। দাদি কবিরাজের কথা বললেও, তার বাবা-মা দেরি না করে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কয়েকজন গ্রামবাসী সঙ্গে সঙ্গে সাহায্যে এগিয়ে আসে।
হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তামজিদকে পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ায় ধীরে ধীরে তার অবস্থা ভালো হতে থাকে। কিছু সময় পর তামজিদ চোখ খুলে তাকায়। তাকে সুস্থ হতে দেখে তার পরিবার ও বন্ধুরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে।
কয়েকদিন বিশ্রাম নেওয়ার পর তামজিদ আগের মতোই হাসিখুশি হয়ে ওঠে। এই ঘটনার পর সে বুঝতে পারে, জঙ্গলে বা ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় খেলতে গেলে সাবধান থাকতে হয়। তার বন্ধুরাও এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেয়।
এইভাবেই ভয়ংকর একটি ঘটনার মধ্য দিয়ে তামজিদ নতুন অভিজ্ঞতা আর শিক্ষা অর্জন করে।

 

মাশরুর ফেরদৌস তরু, দশম শ্রেণি, পুলিশ লাইনস স্কুল এন্ড কলেজ, পাবনা।