ছোটবেলার ইস্কুল

আব্দুস সাত্তার সুমন »

সেই সকালগুলো এখনো আমার মনে মধ্যে জেগে থাকে, লালচে মাটির পথ ধরে ছুটে চলা, কাঁধে ব্যাগ, হাতে টিফিন বক্স, দুই টাকার চটপটি কটকটি আর হাওয়াই মিঠাই আর বুকভরা আনন্দ নিয়ে দৌড়ানো সেই ছোট্ট দিনের ইস্কুল।
ইস্কুলের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা বড় আমগাছটা যেন ছিল আমাদের পাহারাদার। ওর ছায়াতেই প্রথম বন্ধুত্ব, প্রথম মারামারি, প্রথম দুষ্টুমি, গাছে ওঠা ও খুনসুটি। ঘন্টা বাজলেই ছেলেমেয়েরা একসাথে ছুটে যেত মাঠে, কেউ লাফিয়ে বল ধরত, কেউ দৌড়াদৌড়ি- কানামাছি- বরফ পানি খেলা, কেউ ঝগড়া করে কেঁদে ফেলত, আর সেই কান্নার মাঝেই আবার হাসি ফুটে উঠতো ঠিক রোদের মধ্যে উজ্জ্বল এক তারা।
আমাদের শ্রেণিকক্ষ ছিল খুব সাধারণ,
চকের ধুলোর গন্ধে ভরা, দেয়ালে অঙ্কের টেবিল,
আর এক কোণে বসে থাকা মিস, যার চোখে ছিল মমতার আলো।
তিনি বলতেন, তোমরা কেবল পাস করার জন্য পড়বে না, মানুষও হবে। একদিন সুবাহ কাঁদছিল, অঙ্কের খাতা নষ্ট হয়ে গেছে বৃষ্টিতে। সাঈদ নিজের খাতা ছিঁড়ে দিয়ে বলল, এই নাও, অঙ্কটা নতুন করে করো।
আমার মধ্যে নতুন একটা অনুভূতি জন্ম নিল, শিক্ষা কেবল বইয়ের পাতায় নয়, এটা লুকিয়ে থাকে ছোট ছোট মায়ার ভেতরে।
সময় বয়ে গেল..
আমাদের ইস্কুল এখন নতুন ভবনে। চকবোর্ড বদলে গিয়েছে, ডিজিটাল পর্দা আরো কত কী।
তবুও মাঝে মাঝে মনে পড়ে পুরাতন স্মৃতিগুলো,
বাতাসে এখনো সেই হাসির প্রতিধ্বনি বাজে, কেউ হয়তো এখনো আমাকে বলছে, আজও কি হোমওয়ার্ক হয়নি? একদিন পুরনো ক্লাসে ঢুকে দেখি, টেবিলের উপরে একটা খাতা, পাতার কোণে লেখা- যখন বড় হব, তখনও যেন ছোটদের মতো হাসতে পারি।
আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। জানালার বাইরে রোদ পড়েছে, মনে হলো ঘণ্টা বেজে উঠছে! আর চক ধুলোর মধ্যে ভেসে আসছে মিস-এর মায়া ভরা কণ্ঠ-
বাচ্চারা, জীবনেও যেন এই হাসিটা হারিও না। আজও মনে করি ছোট্ট দিনের স্কুল। শিক্ষাজীবন কোনো অধ্যায় নয়, এ এক রঙিন কবিতা, যেখানে কান্না মানে বন্ধুত্ব, আর খেলা মানে একসাথে দৌড়ে গিয়ে ব্ল্যাক বোর্ড মুছে ফেলা।