ফিচার এলাটিং বেলাটিং

ছড়া ও কবিতা

আর একদিন পরেই পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব শুভ নববর্ষ।

তোমাদের সবাইকে শুভেচ্ছা |

ডাকে আয়

কেশব জিপসী

নতুন কুঁড়িরা জাগে গভীর থেকে,
চকচকে কচিপাতা চোখ মেলে চায়,
বনোপথে ছায়া রঙ আলপনা এঁকে,
বলে এলো বৈশাখ আয় ওরে আয়।

সোনালু বরুণ দোলে দমকা বাতাসে,
কলমি ডগারা জলে সুখ খুঁজে পায়,
ঝুমকো হিজল ফুল নদীর দু পাশে,
দল বেঁধে বলে বোশেখ আয় আয় আয়।

জারুল রঙ্গন ভাঁট ও কৃষ্ঞচূড়া,
আরো ফোটে আকন্দ ধুলো মেখে গায়,
কোকিল দোয়েল শ্যামা পাখি বন্ধুরা
সুরে সুরে বলে তোরা আয় ছুটে আয়।

ঢুলি বাঁধে ঢোল হেসে নেয় তুলে কাঁধে,
মেলায় বাজাতে হবে লাঠির খেলায়,
দোকানীরা নবরূপে হালখাতা বাঁধে,
বলে এলো বৈশাখ আয় সবে আয়।

নতুন পোশাক পরে বড় বটমূলে,
এসো হে বোশেখ গানে কন্ঠ মেলায়,
বর্ষবরণ করে মন প্রাণ খুলে,
এক সাথে সুরেসুরে ডাকে আয় আয়।

 

এলো আবার বছর ঘুরে

উৎপলকান্তি বড়ুয়া

ভোরের আলো ঝলমলিয়ে উড়ছে ঝাঁকে ঝাঁক
বোশেখ এসে দিলোরে দেখ নতুন দিনের ডাক
দিঘি-বটের জমছে মেলা
গরুর লড়াই বলি খেলা
বাংলা বোলে ঢাকির কাঁধে উঠলো বেজে ঢাক
এলো আবার বছর ঘুরে এলো রে বৈশাখ।

আজ পুরাতন জীর্ণ জরা সব সরিয়ে রাখ
জোয়ার ভাটায় সচল থাকুক জীবন নদীর বাঁক
ক্লান্তি ঘুচুক মনের যতো
শান্তি ঝরুক অবিরত
ভ্রান্তি মুচে আধমরা-প্রাণ বাঁচার সুযোগ পাক
এলো আবার বছর ঘুরে এলো রে বৈশাখ।

ক্যাচোর ম্যাচোর নাগরদোলায় হৈ-হুল্লোড় হাঁক
প্রাণ জুড়ে মন জুড়ে অতুল খুশির আতর মাখ
মন্দ সকল ভাবনা মানা
সুরের পাখি মেলুক ডানা
নতুন আলোর স্বপ্ন চোখে যাক ছড়িয়ে যাক
এলো আবার বছর ঘুরে এলো রে বৈশাখ।

 

 

বৈশাখ আসে

বাসুদেব খাস্তগীর

বৈশাখ আসে বাঙালির ঘরে উৎসবে সমারোহে
নব জীবনের নব বার্তায় আবেগ জড়ানো মোহে।
পথ ঘাট মাঠ পার হয়ে নদী ছুটে যেতো মন দূরে
বৈশাখী মেলা ডাকিছে আমায় বাঁশের বাঁশির সুরে।

বৈশাখ আসে আমের সুবাসে ফুল ফসলের মাঠে
আনন্দ হাসি রঙের মেলায় গাঁও গেরামের হাটে।
এ যেন আমার চিরায়ত রূপ আর তো কোথাও নাই?
আমার শিকড় চিরদিন যেন বৈশাখে খুঁজে পাই।

বৈশাখ আসে দোল দিয়ে যায় স্মৃতির অতলে খেলে
স্মৃতির দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে যেন নতুন পাখনা মেলে।
দিন আসে যায় সময় পেরোয় ভেসে আসে সুরে গান
বৈশাখ যেন শান্তির নীড় সুখ শিকড়ের টান।

বৈশাখ আসে গাছের পাতায় দখিনার সমীরণে
মনের গহীনে বেজে ওঠে সুর অবিরত ক্ষণে ক্ষণে।
বৈশাখ এসে হেসে হেসে দ্বারে ছড়ায় ছন্দ গীতি
এখানেই আছে ঐক্যের সুর আনন্দ সম্প্রীতি।

 

 

মেলা

অপু বড়ুয়া

বৈশাখে মেতে ওঠে বৈশাখী মেলা
ঈদ এলে ঈদ মেলা চলে সারাবেলা।
কৃষি মেলা বর্ষায় জমে ওঠে বেশ
মেলায় মেলায় ভরা আমাদের দেশ।

পশুমেলা গুডমেলা মধুমেলা আর
বৃক্ষ মেলায় শতো গাছের বাহার।
জমে ওঠে গাড়িমেলা শহর ঢাকায়
বাণিজ্য মেলায় খুব ভিড় দেখা যায়।

পাখিমেলা রকমারি পাখির আসর
ফলমেলা ফুলমেলা ভারি সুন্দর।
বিজ্ঞান মেলা হলো জ্ঞান উৎসব
বইমেলা মাঠ জুড়ে বই বই রব।

মাস জুড়ে একুশের বইমেলা হয়
লেখক পাঠকে চলে ভাব বিনিময়।

 

 

বোশেখ মেলা

মাসুম হাসান

নাচরে সবাই নাচ
যেমন খুশি সাজ –
একতারা ঢোল বাজবে সানাই –
বোশেখ মেলায় আজ।

খুব সকালে যেয়ে
পান্তা ইলিশ খেয়ে –
রঙীন – শাড়ি আলতা পায়ে
ছুটবে চপল মেয়ে।

দেখে পুতুল খেলা
কাটবে মধুর বেলা –
গানেগানে প্রাণেপ্রাণে
জমবে বোশেখ মেলা।

খেলনা হাতি – ঘুড়ি
কিনব যে ঝালমুড়ি –
মন আকাশে ভেসে ভেসে
করব ওড়াউড়ি।।

 

আমাদের বৈশাখ

আলমগীর কবির

আমাদের বৈশাখ সব রঙে রাঙানো
বন্ধুর সাথে মান অভিমান ভাঙানো!
আমাদের বৈশাখ ফুলে ফুলে সাজানো
মেলা থেকে বাঁশি কিনে সুরে সুরে বাজানো।

আমাদের বৈশাখ লাল নীল ঘুড়িতে
দলবেঁধে ছুটোছুটি স্বপ্নপুরিতে!
আমাদের বৈশাখ মিলেমিশে থাকাতে,
ভালোবাসা সম্প্রীতি বুকে পুষে রাখাতে।

লাঠিখেলা হাঁড়িভাঙা গ্রামীণ মেলাতে
দলবেঁধে মেতে থাকা মার্বেল খেলাতে।
উঠোনের জলসায় রূপকথা শোনাতে,
হইচই লুটোপুটি কী দস্যিপনাতে!

 

বই মানে তো আলোর নাচন

রিনিক মুন

বইমেলার ওই চত্বর জুড়ে শব্দের ঝনঝন,
নয়তো কি আর এমনি মাতে সবার প্রিয় মন?
গল্পগুলো মলাট থেকে দিচ্ছে উঁকিঝুঁকি,
কবিতা সব আকাশ পানে দিচ্ছে আঁকিবুকি।

আমি গেলাম মেলায় যখন, থমকে গেলাম- দেখি
বইগুলো সব কথা বলে, অবাক হলাম এ কী!
একখানি বই খুলে দেখি মেঘের গর্জন,
আরেকটাতে হচ্ছে শুনি বৃষ্টির বর্ষণ!

একটা পাতায় টুপ করে যেই রাখলাম আমি চোখ,
দেখি রাজা মগজ ধোলাই খাচ্ছে হাজার ঢোক!
আরেক পাতায় নীল পরিটা কাঁপছে শীতে হি-হি,
বইয়ের মাঝে এতই অবাক লুকিয়ে আছে কী কী?

বই মানে তো ইচ্ছেমতো মেঘের পিঠে চড়া,
বই মানে তো আলোর নাচন পাতায় পাতায় পড়া।
বই মানে এক পকেটভরা জাদুর আজব কাঠি,
বই মানে ওই তেপান্তরের ধুলোমাখা মাটি।

নতুন বইয়ের মলাট মানেই নতুন কোনো স্বাদ,
অন্ধকারেও ঝলসে ওঠে জোছনা ভরা চাঁদ।
পড়তে পড়তে হঠাৎ দেখি টাইম-মেশিনে পাড়ি,
ভবিষ্যতের অচিন দেশে দিচ্ছি আমি আড়ি।

শব্দগুলো লাফিয়ে ওঠে লাইনে লাইনে আজ,
মাথায় যেন পড়ছে হঠাৎ নীল আকাশের বাজ।
জ্ঞান-বিজ্ঞানের কড়া নাড়ায় বুকটা দুরুদুরু,
অজানাকে জানার নেশা এখান থেকেই শুরু।

বইমেলার এই ভিড়ের মাঝে আমরা যারা আসি,
বইয়ের সাথে সখ্যতাতেই আমরা ভালোবাসি।
বইয়ের ভাঁজে স্বপ্নগুলো লুকিয়ে হাসে চুপি,
মাথায় দিয়ে রূপকথাদের রঙবেরঙের টুপি।

আজকে তবে শপথ করি সবাই বুকটা পেতে
দেবোই পাড়ি জ্ঞানের সাগর উচ্ছ্বাসে ঠিক মেতে
বইয়ের সাথে বন্ধুতা হোক, জ্ঞানটা হোক যে সেরা,
বই ছাড়া এই পৃথিবীটা অন্ধকারেই ঘেরা!