ছড়া ও কবিতা

স্বাধীনতার শুভদিনে

সৈয়দ খালেদুল আনোয়ার

দেশের মাটি ভালোবেসে
তোমরা যারা হেসে হেসে
দিয়ে গেলে প্রাণ
দেশের মাটি গর্বে ছড়ায়
আজ তোমাদের ঘ্রাণ।

আজ তোমাদের বুকের রক্তে
খাঁটি হলো দেশের মাটি
আবর্জনা ধুয়ে মুছে
স্বদেশ আমার পরিপাটি।

আজ তোমাদের স্মরণ করি
স্বাধীনতার শুভদিনে
থাকবো বাঁধা অনন্তকাল
তোমাদেরই রক্ত ঋণে।

 

যাঁর নামে দেশ স্বাধীন হলো

জসীম মেহবুব

পঁচিশে মার্চ গভীর রাতে
দানব নামে সড়কে,
মানুষ মেরে স্বদেশটাকে
করতে থাকে নরকে।

চারদিকে সব লাশের সারি
চলছে কামান-গুলি,
যাচ্ছে কারো হাত-পা উড়ে
কারো মাথার খুলি।
প্রাণের ভয়ে ছুটছে মানুষ
কেমন করে বাঁচে ?
হায়েনাদের দিলে কি আর
দয়া-মায়া আছে ?
টিক্কা কসাই পেছন থেকে
দেয় বসিয়ে ছুরি,
সারা শহর আঁধার রাতে
হলো নরকপুরী।
ঠিক সে রাতে স্বাধীনতার
ডাক দিয়েছেন যিনি,
তিনি মহান শেখ মুজিবুর
একটি নামে চিনি।
যাঁর নামে দেশ স্বাধীন হলো
তাঁর নামে গাই গান,
তাঁর নামে দেশ-মাটি পেলো
জগতে সম্মান।

 

পাখির স্বাধীনতা

সুব্রত চৌধুরী

পাখির ইচ্ছে-
আমারও তো সবার মতো ইচ্ছে করে খুব
ইচ্ছেনদীর গহীন তলে চাই যে দিতে ডুব।
তোমরা যেমন চড়ে বেড়াও ইচ্ছেখুশির রেলে
আমারও তো ইচ্ছে উড়ি ডানা দুটো মেলে।

পাখির ইচ্ছে-
আমারও তো ইচ্ছে করে গলা খুলে গেয়ে
স্বাধীনতার রেণু মাখি খুশির জলে নেয়ে।
আমারও তো ইচ্ছে করে স্বাধীনভাবে থাকতে
স্বাধীনতার সৌরভ আমার সারা গায়ে মাখতে।
পাখির ইচ্ছে –
আমারও তো ইচ্ছে করে পাড়ার সবুজ মাঠে
শস্যদানা খুঁজে ফিরি সম্প্রীতির ওই পাঠে।
আমারও তো ইচ্ছে করে প্রেম ও প্রীতির বানে
একই সুরে মাতবো সবাই সাম্য প্রীতির গানে।
পাখির ইচ্ছে-
আমারও তো ইচ্ছে করে রাঙিয়ে দুটো গালে
আকাশ গাঙে উড়িয়ে দেবো সৃষ্টি সুখের পালে।
আমারও তো ইচ্ছে করে স্বাধীনতার ছন্দে
নতুন সাজে সাজবে জীবন থাকবো না কেউ মন্দে।

 

স্বাধীনতা এসেছিল

বাসুদেব খাস্তগীর

স্বাধীনতা এসেছিলো রক্তের দামে
আপাময় জনতার শ্রম আর ঘামে।
পায়ে দলে শত্রুর কত ভয়ভীতি
সমাজের আলো হয়ে আনে সম্প্রীতি।

স্বাধীনতা এসেছিলো এই জনপদে
কলকল বয়ে চলা রূপঝরা নদে।
ঝরেছিলো কত কত তরতাজা প্রাণ
এখনো সে স্মৃতি যেন চির অম্লান।

স্বাধীনতা এসেছিলো যুদ্ধের ঝড়ে
মাঠ ঘাট নদী বন আর কুঁড়েঘরে।
ধনী আর গরিবের ভেদাভেদ ভুলে
রঙে রাঙা লাল আর সবুজের ফুলে।

স্বাধীনতা এসেছিলো মুক্তির গানে
সুর যেন বেজে ওঠে প্রতি কানে কানে।
স্বাধীনতা সকালের মায়াময় হাসি
বুক জুড়ে সকলের সুখ অবিনাশী।

 

আমের কুঁড়ি

রাকিবুল ইসলাম রাহান

আমের ডালে কুঁড়ি এলো
সবুজ পাতার ফাঁকে,
বসন্তেরই আবির মাখা
মৌমাছিরা ডাকে।

দখিন হাওয়া দোলা দিয়ে
গেল যে ওই বনে,
মুকুল গন্ধে মাতাল হাওয়া
খুশি সবার মনে।

ঝরঝরিয়ে পড়ছে ঝরে
হলুদ রঙের গুঁড়ো,
আমের গন্ধে মাতাল হলো
ছোটো-বড়ো বুড়ো।

কদিন বাদে মুকুল ঝরে
আসবে ছোট গুটি,
মিষ্টি আমের স্বাদ নিতে তাই
করবে লুটোপুটি।

 

মেঘ যেন আজ কৃষ্ণচূড়া

সুমনা দাশ শান্তা

মেঘের উঠোন দিচ্ছি পাড়ি
চড়ে হাওয়ার গাড়ি
হরেক রকম মেঘ পেরিয়ে
যাচ্ছি নিজের বাড়ি।

মেঘের বাড়ির নিকোনো মাঠ
মন কেড়েছে খুব
ইচ্ছে করে সব ফেলে দিই
মেঘ পুকুরে ডুব।

মেঘের ওপর মেঘ করেছে
লাল, কালো নীল, সাদা
মেঘ যেন আজ কৃষ্ণচূড়া
মেঘ যেন আজ গাঁদা।

হঠাৎ মেঘের মন খারাপে
আকাশ হলো ভারী
হাওয়ার গাড়ি চলছে জোরে
ফিরতে হবে বাড়ি।

 

 

স্বাধীনতার মানে

ফারহানা ইয়াসমিন তৃপ্তি

স্বাধীনতার মানেটা কী
কীট-পতঙ্গও জানে,
গুনগুনিয়ে মৌমাছিরা
ফুলের মধু টানে।
মুক্ত মনে উড়ে বেড়ায়
প্রজাপতির ডানা,
ফুলে ফুলে উড়তে তারে
কেউ করে না মানা।
স্বাধীনতার মানেটা কী
আমরা মানুষ জানি,
স্বাধীন হতে ধরার বুকে
তাজা রক্ত আনি।
ন্যায়ের পথে মাথা তুলে
সামনে দাঁড়াই রুখে,
শেকল ভাঙার সাহস দিয়ে
সত্য বলি মুখে।

 

 

সাবার স্বাধীনতা

ফেরদৌস জামান খোকন

স্বাধীনতা ক্যামন জিনিস বাবা,
জিজ্ঞেস করে আমার মেয়ে সাবা।
বলি আমি আমরা স্বাধীন জাতি
ছাব্বিশ এলেই নিজের সুখে মাতি।

হায়েনার দল দিয়েছিল হানা,
প্রতিরোধ কী ছিল না তাই জানা।
ছাত্র যুবা দেশের সবাই মিলে,
আঘাত হানে পাক সেনাদের দিলে।

ছোট্ট সাবা অবাক হয়ে শোনে,
নিজে থেকে গল্প একটা বোনে।
বলে বাবা দেশের হবেই ভালো,
সামনে থেকে দূরে যাবে কালো।