উৎসবে ঝিলমিল
আখতারুল ইসলাম
উর্বা হাসে পাতার ফুলে
হাসে দূর্বা ঘাস
রাঙা আলোর খুনসুটিতে
মনের বসবাস।
হিজল গাছে হলদে পাখির
কী যে গানের সুর
মেঘের ডানায় নীল পরিটা
উড়ছে সমুদ্দুর।
জোয়ার ভাটায় ভাঙা গড়া
নদীর উছল ঢেউ,
স্বদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে
হাতছানি দেয় কেউ।
সফলতার সোনালী রোদ
আকাশ ভরা নীল,
এক হয়ে সব দেশের মানুষ
উৎসবে ঝিলমিল।
স্বাধীনতা
যাইদ আল মারুফ
স্বাধীনতা তুমি আমার
লাখো প্রাণের দান
স্বাধীনতা তুমি আমার
রক্তে লেখা গান।
স্বাধীনতা তুমি আমার
মা বোনের সম্ভ্রম
স্বাধীনতা তুমি আমার
বাবার শোক-মাতম।
স্বাধীনতা তুমি আমার
মায়ের চোখের জল
স্বাধীনতা তুমি আমার
ভাইয়ের বুকের বল।
স্বাধীনতা তুমি আমার
পচা লাশের ঘ্রাণ
স্বাধীনতা তুমি আমার
পোড়া দেহের প্রাণ।
স্বাধীনতা তুমি আমার
নিপীড়নের ঝড়
স্বাধীনতা তুমি আমার
রক্তে রাঙা চর।
স্বাধীনতা তুমি আমার
মহা রণবীর
স্বাধীনতা তুমি আমার
উন্নত এক শির।
মা’র মুখে সুর হাসি
উৎপলকান্তি বড়ুয়া
মাঝি দাঁড় হাতে পাল তোলা নাও
জোয়ার ও ভাটির টান,
স্বাধীনতা মানে সাদা আর কালো
দোয়েলের ঠোঁটে গান।
সুনীল আকাশে খাঁচা ভেঙে ওড়ে
মুক্ত বিহঙ্গ পাখি,
স্বাধীনতা মানে খুশি ও আনন্দ
গান সুর মাখামাখি!
বড় বেশি সুখ মন খুলে আর
প্রাণ খুলে কথা বলা,
স্বাধীনতা মানে সত্যের আলোয়
নির্ভয়ে পথ চলা।
ভয়হীন বুকে সাহসেই অমল
মা‘র মুখে প্রিয় হাসি,
স্বাধীনতা মানে মিলে মিশে থাকা
কত ভালোবাসাবাসি।
স্মরণে আর বরণে শ্রদ্ধায় নত
বেদীমূলে ফুল তোড়া,
স্বাধীনতা মানে লাল ও সবুজের
পত-পত পতাকা ওড়া।
লাল সবুজ পতাকা
মজনু মিয়া
সবুজ বনের পশু পাখি
ছিল খুবই সুখে,
হিংস্র পশুর আক্রমণে
পড়লো তারা দুখে।
সবুজ বুকে রক্ত ঝরে
লাল বানিয়ে দিল,
ইচ্ছে মতো যা খুশি তাই
সবই কেড়ে নিল।
বাংলা মায়ের দামাল ছেলে
দাঁড়িয়ে যায় রুখে,
বাংলাদেশের পতাকাটা
ধারণ করে বুকে।
স্বাধীনতার সুখ!
শ্যামল বণিক অঞ্জন
মায়ের মুখে শোনে খোকন একাত্তরের কথা
কেমন করে হলো এদেশ, এলো স্বাধীনতা।
কেমন করে দিলো হানা হিংস্র পশুর দল
কেড়ে নিতে চাইলো এদেশ করলো প্রয়োগ বল!
বুলেট বোমার না করে ভয় পেতে দিলো বুক
দিয়ে গেলো বীর ছেলেরা স্বাধীনতার সুখ!
মুক্তিসেনা
ওয়াহিদ ওয়াসেক
ও দাদু ভাই, ও দাদু ভাই
একাত্তরে পাকিস্তানি
কে করেছে দূর?
শোনো, শোনো খোকনসোনা
তিরিশ লক্ষ মুক্তিসেনা-
এবং মুজিবুর!
চিংড়ি মাছের শখ
সুশান্ত কুমার দে
চিংড়ি মাছে চড়বে গাছে পণ করছে মনে
মাছরাঙাটা চুপটি করেই বসে ছিল বনে।
হাল ধরেছে পুচ্ছ আর গরান কাঠের ঠ্যাং
পুকুর ঘাটে ঝপাং ঝপাং লাফাচ্ছে সব ব্যাঙ।
চারিদিকে জলের ঢেউয়ে পুঁটিও মাছ নাচে
এই সুযোগে শোলমাছটা সেসব খেয়ে বাঁচে।
বোয়াল মাছটা তেড়ে এসে ধরলো কটা কৈ
তাতেই দীঘির মাছগুলো সব করছিল হইচই!
মাছরাঙাটা ডালে বসেই আঁটছিল ফন্দি
লম্বা ঠোঁটে একটা পুঁটি আর হল না বন্দী।
যুদ্ধ করেই গাছে চড়ে- চিংড়ি হলো রাজা
মাছরাঙাকে চিংড়ি ভাই দিল বড়ই সাজা!
স্বাধীন মানে
আসাদুজ্জামান খান মুকুল
স্বাধীন মানে দেশের মাঝে
আনন্দে পথ চলা,
স্বাধীন মানে মুক্তভাবে
মনের কথা বলা।
স্বাধীন মানে মায়ের মুখে
আলোক রাঙা হাসি,
স্বাধীন মানে বোনের চোখে
স্বপ্ন রাশি রাশি।
স্বাধীন মানে প্রিয় স্বদেশ
সাজবে ফুলে-ফলে,
স্বাধীন মানে বিহঙ্গরা
উড়বে আকাশ তলে।
স্বাধীন মানে লাল সবুজের
পতাকাটা পাওয়া,
স্বাধীন মানে পাকবাহিনী
খেয়েছিল ধাওয়া!
স্বাধীনতা তুমি
শারমিন নাহার ঝর্ণা
স্বাধীনতা তুমি এলে
আলতা রাঙ্গা পায়,
স্বাধীনতা তুমি এলে
শহর থেকে গাঁয়।
স্বাধীনতা তুমি এলে
লাল সূর্যের মতো,
স্বাধীনতা তুমি এলে
ফুল ফুটলো শত।
স্বাধীনতা তুমি এলে
হাসল হৃদয় সুখে,
স্বাধীনতা তুমি এলে
সাহস নিয়ে বুকে।
স্বাধীনতা তুমি এলে
অশ্রু সিক্ত চোখে,
আজও লোনা জলে ভাসি
ভাই হারানোর শোকে।





















































