ছড়া ও কবিতা

ঈদের খুশী

আজহার মাহমুদ

ঈদ এলেই ট্রেনে চড়ে
গ্রামের বাড়ি যাই,
গ্রামে গিয়ে সবার সাথে
আনন্দে লাফাই।

ঈদ মানেই সবার কাছে
হাসি-খুশীর জোয়ার,
ঈদ মানেই সবার জন্য
খোলা থাকে দুয়ার।

ঈদের খুশী সবার মাঝে
থাকুক একইভাবে,
কেউ যেন কষ্ট না পায়
অবহেলা আর অভাবে।
নতুন জামায় অঙ্গ ঢেকে
ঈদগাহে যাবো,
ফিরে এসে মায়ের হাতের
লাচ্ছি সেমাই খাবো।

ভেদাভেদ সব ভুলে গিয়ে
করবো কোলাকুলি,
‘ঈদ মোবারক’ কিছুদিন হোক
নিত্য মুখের বুলি।

পবিত্রতার সংকেত হয়ে
ঈদের বাজনা বাজুক,
নতুন সাজে সবার মনটা
অবাক সাজে সাজুক।

 

 

কোন ছেলেরা?

সোহানুজ্জামান মেহরান

কোন ছেলেরা ছন্দহারা?
ভাগ্যরেখা মন্দ,
কোন ছেলেরা কুড়িয়ে আনে?
জীবনের আনন্দ।
যেই ছেলেরা ছিন্নমুকুল
ফুরিয়ে গেছে স্নেহের দু কূল
রাস্তা যাদের আস্থাভূমি
ঘর-দরোজা বন্ধ।
যেই ছেলেরা হোঁচট খেলে
কিংবা ভীষণ ব্যথা পেলে
অভয় দিতে কেউ আসে না
সজল চোখেও অন্ধ।
কোন ছেলেরা ছন্দহারা?
ভাগ্যরেখা মন্দ,
যেই ছেলেরা হাতড়ে খোঁজে
ঈদের মিঠে গন্ধ।

 

 

আজকে ঈদের ক্ষণে

আহসানুল হক

আজ ঈদের দিন গোমড়ামুখো
কেউ থেকো না কেউ
সবার বুকে উছলে ওঠুক
ঈদ আনন্দ ঢেউ!

গরীব-অনাথ, এতিম-টোকাই
মন খুলে আজ হাসুক
তোমার বুকের উদারতায়
ঈদ আনন্দে ভাসুক !

দ্বেষ-ভেদাভেদ, মান-অভিমান
আজ হয়ে যাক লীন
সবাই আঁকো সাম্য সাঁকো
আজকে ঈদের দিন !

খুশির রঙটা যাক ছড়িয়ে
সবার মনে মনে
কেউ থেকো না গোমড়ামুখো
আজকে ঈদের ক্ষণে!

 

 

সম্প্রীতির ফুল

বিভাস গুহ

সাঁঝ আকাশে চাঁদটা যখন
মিটিমিটি হাসে
ঈদ আনন্দের বাণ তখনি
সবার ঘরে আসে।

ঈদ মানে তো হাসিখুশি
হইচই কলরব
ধনী গরীব সকলেরই
মিলনের উৎসব ।

প্রীতি প্রেমের এ উৎসবে
সম্প্রীতিরই ফুল
ফুটে ওঠে অনায়াসে
আদরে তুলতুল।

থাকে নাতো হিংসা বিভেদ
দ্বন্দ্ব ও সংঘাত
ভালোবাসার স্রোতে মিশে
যায় কেটে দিন রাত।

 

 

খুশির ঈদ

সুব্রত চৌধুরী

ঈদের খুশি আজ
গায়ে রঙিন সাজ,
মিষ্টি সেমাই লাচ্ছি
সকাল বিকেল খাচ্ছি।
বাঁকা চাঁদের ঈদ
নেইতো চোখে নিদ,
যাই যে সবাই জু
পায়ে নতুন স্যু।
আজকে খুশির ঈদ
গাহি সাম্যের গীত,
বাঁশের বাঁশি ফুঁ
যাদু মন্তর ছু।
আজকে খুশির দিন
বাজে ঢোলক বীণ,
উছল খুশির ঢেউ
উপোস না থাক কেউ।

 

 

বাবার ঈদের খুশি

উৎপলকান্তি বড়ুয়া

শেষ রোজা আজ রাত পোহালেই কালকে খুশির ঈদ
সবার চোখে খুশির ঝিলিক হারিয়ে গেছে নিদ।
ভাইয়ের জন্য কিনছে বাবা পাঞ্জাবি আর টুপি
জংলি ফুলের জামা চয়েস করেছে বেশ ফুপি।
মায়ের জন্য হালকা সবুজ মোটা পারের শাড়ি
ঈদ আনন্দে হইচই সবাই তুলছে মাথায় বাড়ি।

কিনছে বাবা দুধ চিনি ডাল মাংস সেমাই সব
মন প্রাণে ভীড় করছে সবার ঈদেরই উৎসব!
দাদা ও দাদীর জন্য নতুন কাপড় হলো কেনা
বাবার মুখে তৃপ্তি-হাসি বেশ আমাদের চেনা।
তৃপ্তির হাসি হাসেন বাবা কী করে না জানি
দমিয়ে রাখেন বাবা নিজের সখ বা ইচ্ছেখানি।

নেয়নি বাবা সার্ট টুপি বা পাঞ্জাবি এই ঈদে
না হবে না, এতে নাকি কোনোই অসুবিধে!
সত্যি করে জানলো এবার ছোট্ট মেয়ে তুসি
বাড়ির সবার হাসি খুশিই বাবার ঈদের খুশি!

 

 

খুশির ঈদ

সুব্রত চৌধুরী

ঈদের খুশি আজ
গায়ে রঙিন সাজ,
মিষ্টি সেমাই লাচ্ছি
সকাল বিকেল খাচ্ছি।
বাঁকা চাঁদের ঈদ
নেইতো চোখে নিদ,
যাই যে সবাই জু
পায়ে নতুন স্যু।
আজকে খুশির ঈদ
গাহি সাম্যের গীত,
বাঁশের বাঁশি ফুঁ
যাদু মন্তর ছু।
আজকে খুশির দিন
বাজে ঢোলক বীণ,
উছল খুশির ঢেউ
উপোস না থাক কেউ।

 

 

ঈদের আমেজ

জোবায়ের রাজু

বছর ঘুরে ঈদ এসেছে
মনে খুশির ঢোল,
সেই খুশিতে ফুটছে মুখে
মিষ্টি কথার বোল।

নতুন জামায় অঙ্গ ঢেকে
ঈদগাহে যাবো,
ফিরে এসে মায়ের হাতের
লাচ্ছি সেমাই খাবো।

ভেদাভেদ সব ভুলে গিয়ে
করবো কোলাকুলি,
‘ঈদ মোবারক’ কিছুদিন হোক
নিত্য মুখের বুলি।

পবিত্রতার সংকেত হয়ে
ঈদের বাজনা বাজুক,
নতুন সাজে সবার মনটা
অবাক সাজে সাজুক।

 

 

ঈদ

কেশব জিপসী

ঈদ মানে তো মান অভিমান
ভুলে যাওয়ার দিন,
কাছে টেনে বুক মিলিয়ে,
গুরুজনের আশিস নিয়ে,
নতুন জামায় সেজেগুজে
মন করা রঙিন।

ঈদ মানে তো নেই ভেদাভেদ
ভালোবাসার ক্ষণ,
এ ঘর ও ঘর ছুটে গিয়ে,
সব ছোটদের আদর দিয়ে,
হাসি খুশির ফুল ফোটানো
উজাড় করে মন।

ঈদ মানে তো শপথ করা
চলতে সঠিক পথ,
হিংসা বিভেদ সব সরিয়ে,
উদারতায় মন ভরিয়ে,
সবার আপন হতে, থাকা-
নির্লোভী ও সৎ।