নামের বাহার
বাসুদেব খাস্তগীর
অক্সিজেনের অক্সিজেন কি
কেউ দেখেছে চোখে?
কত রকম বিচিত্র নাম
বলতে শুনি লোকে।
পাথরঘাটার কোথায় ছিলো
সেই পাথরের ঘাট
লালদিঘি কি টুকটুকে লাল
লাল কি দিঘির মাঠ?
ষোলোশহর কেমনে হলো
শহর ষোলো কই?
হালিশহর চারটিতে হয়
তাই নিয়ে হই চই।
চকবাজারে শুধু কি পাই
লেখালেখির চক?
চাটগাঁর এমন জায়গা নিয়ে
ছড়াতে বকবক।
হোক না পুরান বলছি সবাই
নিউমার্কেট নাম
কত্ত সময় পেরিয়ে গেলো
তার কমেনি দাম।
নামের এমন বাহার নিয়ে
ছড়াতে হই মত্ত
নামের সাথে এখন কিন্তু
ঠিক মেলে না অর্থ।
আকাশ ও নদী
শচীন্দ্র নাথ গাইন
নদীর তীরে বসে একা দেখতে থাকি আমি
রোদ চিকচিক সোনালি রঙ খেলছে যেন খেলা
কাকচক্ষু জলের দিকে চেয়ে আবার থামি
কী যে মধুর লাগছে আহা মিষ্টি বিকেলবেলা।
মৃদু হাওয়ায় দিচ্ছে যেন তালে তালে দোলা
ছইয়ের নৌকা ছুটছে দ্রুত কোন সুদূরের বাঁকে
দৃষ্টি যেন হয় অপলক যায় না এ রূপ ভোলা
রঙতুলিতে নিখুঁত ছবি কে যেন রোজ আঁকে।
নেই এখানে পারাপারের ঘাটের কোনো মাঝি
সবুজ কোমল মখমলে ঘাস ঠিক গালিচার মত
জারুল গাছে সাজিয়ে রাখা গন্ধ ফুলের সাজি
বাঁশের ঝাড়ে ঝাঁক বেঁধে বক ফিরছে শত শত।
রবির আলো লুকোচ্ছে মুখ সাদামেঘের পাশে
ঘন আঁধার আসছে নেমে শান্ত নদীর বুকে
সন্ধ্যা তারায় উঁকি দিয়ে মুচকি হাসি হাসে
নদীর সাথে আকাশ মিশে কাটায় পরম সুখে।
শীতের দাপট
এবি ছিদ্দিক
শীতে কাঁপছে শহর গেরাম
টুনটুনিদের ছা
আগুন দিয়ে সেঁকে নিচ্ছে
পাগলী মেয়ের গা।
সুপারম্যানও লেপের ভেতর
গোসল ছাড়া রয়
গরম এলে গোসল করবে
মনে মনে কয়!
সারাদেশে শীতের দাপট
খুকুমণির ভয়
তিন দিন ধরে লেপের ভেতর
একলা একলা রয়!
তিস্তা নদীর বাঁকে
সোমা মুৎসুদ্দী
বাংলাদেশের মাটি নদী জল
আমার মনের কোণে
দাগ কেটে যায় স্বপ্ন মধুর
আউশ, আমন বোনে।
নদীর জলে রুপালী ইলিশ
রোদে করে ঝিকিমিকি
ভোরের সূর্য নতুন দিনের
শুভ কামনায় লিখি।
মাঠে মাঠে দোলে সবুজ ফসল
পাখির কণ্ঠে গান
শ্রমিকের হাতে দেশকে গড়ার
কঠিন মন্ত্র প্রাণ।
মনের মাঝে দূরের পাহাড়
সোনা রোদে ছবি আঁকে
মনটা তখন বকের পালকে
তিস্তা নদীর বাঁকে।
শীত সকালে
আলমগীর কবির
ভাইটি ভীষণ শীতে কাঁপছে
খেজুরের রস খেয়ে আজ,
বোনের মুখে ফুটলো হাসি
রোদের দেখা পেয়ে আজ।
চিতই পিঠাও পেট পুরেছে
রস খেয়ে তার ঘ্রাণ মিঠে,
পিঠার লোভে মায়ের পিছু
আমরা কজন ডানপিটে।
মা বানাচ্ছেন ভাঁপা পিঠা
মমতায় তা মাখানো,
মা যেন আজ ভুলেই গেছেন
হঠাৎ রেগে তাকানো!
আমি যদি রাজা হতাম
মা তাহলে রাজকন্যা,
রোজ উপহার পেতে থাকতো
এই মায়াবী কাজকন্যা।
ভোরের পাখি
ফারহানা খান
শিউলি তলায় ভোরের পাখি
খুঁজছি কেবল তোরে।
শীত পোহাতে আসিসনি তুই
শীতল মাঘের ভোরে!
পথ চেয়ে রই ভোরের পাখি
হীম কুয়াশার চাদর
গা‘য় জড়িয়ে আসবি রে তুই
চাইবি শীতের আদর।
শিউলি ফুলে মালা গেঁথে
করবো তোকে বরণ।
উষ্ণ দিনের বিষাদ গাঁথায়
করবো সেদিন স্মরণ।
যা ছুঁয়ে যা মাঘের হাওয়া
ফাগুন এলো বলে!
রোদ পোহানোর দুপুর বেলা
টুপ করে যায় চলে।
শীত নেমেছে
অর্জন পোদ্দার
শীত নেমেছে ঘাসের ডগায়
শীত নেমেছে নদীর পাড়,
শীত নেমেছে কুয়াশা নিয়ে
বলবো কি ভাই আর!
শীত নেমেছে দুই কানেতে
শীত নেমেছে মাথায়,
শীত নেমেছে সোয়েটারের
লম্বা দুটি হাতায়।
শীত নেমেছে সকালবেলা
শীত নেমেছে রাতে,
শীত নামেনি, শীত নামেনি
মোদের পাঠশালাতে।



















































