আনন্দ থই থই
রাশেদ রউফ
বর্ণ সোনা স্বর্ণে বোনা
কর্ণে পরে দুল
ঠোঁটের কোণে হাসির রেখা
আদরে তুলতুল।
সকাল হলেই সুয্যিমামা
যখনই দেয় উঁকি
জানলা ধরে মিষ্টি রোদে
চুম দিয়ে যায় খুকি।
‘আয় আমাদের ঘরের ভেতর
আয়রে রঙিন ভোর
আয়রে হাওয়া, আয় রোদ্দুর
দাও খুলে সব দোর।’
কোথায় সে-ডাক কিচিরমিচির
কোথায় রাখি বই
বর্ণ সোনার দুচোখ জুড়ে
আনন্দ থই থই।
আমার দাওয়াত
আনজীর লিটন
স্বাদ নিতে চাও বিরিয়ানির?
পোলাও কিংবা ভাতের?
যা খেতে চাও তাই খাওয়াব
দাওয়াত দিলাম রাতের।
থাকবে চিকেন, গরুর মাংস
সব্জি আলু শিমের
মা পাকাবে, বাসায় এসো
কোর্মা হবে ডিমের।
কোন সালাদে স্বাদ বেশি পাও
টমেটো না মূলার?
মা বলেছে, থাক এসো না
গ্যাস থাকে না চুলার!
বাকবাকুম
জাহাঙ্গীর আলম জাহান
ইতল বিতল দ্বিতল বাড়ি
রেল চলেছে চিতলমারি
চিতলমারির শীতল ছায়
ঝুমঝুমা ঝুম গীতল পায়
নাচছে খুকু ধিতাং ধিং
রেলের বাড়ি মমিনসিং।
ইতল বিতল চিতল মাছ
ছোট্ট খুকুর গীতল নাচ
দেখবি যদি আয় রে আয়
নাচছে খুকু নূপুর পা’য়।
নূপুর পায়ে নাচের ধুম
পায়রা ডাকে বাকবাকুম।
লোকছড়া
আহমেদ জসিম
০১.
অলি অলি বাঁশের ঝলি,
বাঁশ দেখেছি রাজস্থলী।
রাজস্থলীর রাজার কুলি
পার হয়েছে কর্ণফুলী।
কর্ণফুলীর কন্যা-ভূত
নিত্য খেলে ছি-কুৎ-কুৎ।
০২.
গোলপাহাড়ের ওই ধারে
রাতজাগা ওই চাঁদটারে
বললো খোকা, আয়রে আয়,
চড়বি সুখে পাতার নায়।
পাতার নায়ে ছাতার ছই,
সঙ্গে মহেশখালির দই।
বড় ছোট
উৎপলকান্তি বড়ুয়া
এক ছোট বড় দুই
এর বড় তিন,
চার এসে খুশি মনে
নাচে ধিন ধিন।
পাঁচ বলে আমি ছোট
বড় হলো ছয়,
সাত হেসে সকলেরই
করে মন জয়।
আট হলো ছোট তাই
নয় তার বড়,
দশ করে সবাইকে
একত্রে জড়ো।
ট্রেন চলেছে ঘটর ঘটর
সারওয়ার-উল-ইসলাম
ট্রেন চলেছে ঘটর ঘটর
খাচ্ছে বানর দানা মটর
বন্ধু শেয়াল পটর পটর-
যাচ্ছে করে, মাথা ‘হট’ ওর
নটার ট্রেনটা ছাড়লো ক’টায়
দেরি হলে চাকরি ‘নট’ ওর।
ভাব নয়তো আড়ি
স্বপনকুমার রায়
তোমরা বলো মিষ্টি সকাল
শাল সোয়েটার মুড়ে,
নেই আমাদের, শীত পড়ে রোজ
খড়ের চালা ফুঁড়ে।
মায়ের আঁচলখানি আমার
লেপ কম্বল কাঁথা,
তোমার মাথায় মাঙ্কি-টুপি
আমার খালি মাথা।
ও শীত-বুড়ি কাটিয়ে দে না
শীতটা তাড়াতাড়ি —-
তোর সঙ্গে ভাব করবোই
নইলে দেবো আড়ি।
সারিন্দায়
মিজানুর রহমান শামীম
পানের সাথে জর্দা খাবেন
সরাই পাড়ার হারান দায়
গানের সাথে তবলা বাজান
ফুল ঘেরা ঝুল বারান্দায়।
গান পুরাটা গাইতো আগে
যখন ছিলেন নারিন্দায়
তানপুরাটা ফেলে রেখে
সুরটা তোলেন সারিন্দায়।
সারিন্দাতে তাল মেলাতে
পারেন না তো হারান দা’য়
বারিন্দাতে গানের ধমক
হচ্ছে এখন দাঁড়ান দায়।
ঘুমাও এবার
কেশব জিপসী
পুতুল ছিল তুতুল মনির
সঙ্গী কয়েক সাথে,
টিপ ছিল মাঝ কপাল জুড়ে
নকশা আঁকা হাতে।
নতুন জামা, জুতো, ফিতে
হয়নি আজো কেনা,
কিনতে হবে গয়না-গাটি
হোকনা যতই দেনা।
তন্দ্রা চোখে চাইলো খুকু
বাবার কাছে কড়ি,
বললো বাবা, ঘুমাও এবার
আনবে রে নীল পরি।
ম্যারাডোনা
এমরান চৌধুরী
দাদা বলেন বেশ বড় হও
দাদিও বলেন তাই
নানি বলেন, আমার নাতির
উকিল হওয়া চাই।
ফুপি বলেন, ভাইপো হবে
নামজাদা ডাক্তার
রোগীর মুখে উঠবে ফুটে
হাসি চমৎকার।
চাচা বলেন, আমি নাকি
দেখতে খাঁটি সোনা
হবো ঠিকই ‘মহারাজা’
কিংবা ‘ম্যারাডোনা’।
ইমরান পরশ
এক
ফুলপরিলো ফুলপরি
যাস রে উড়ে কই
খোপায় পরে হলুদ গাঁদা
রক্তজবা জুঁই।
রঙিন পাখা মেলে রে তুই
আসবি আমার গাঁয়ে
তোর সাথে যে ভাসব আমি
পাল তোলা এক নায়ে।
দুই
ধানকুড়ানি পানকুড়ানি
হলদে পাখির ছাও
সজনে ডাঁটায় ডালনা বাঁটা
পরান ভইরা খাও।
বেসামাল
আহমেদ সাব্বির
সবজির মার্কেটে গিয়ে দেখে বদু
একপাশে লাউ এর একপাশে কদু।
দুইটারই একই দর, কচি গোলগাল
লাউ নাকি কদু ভাল? ভেবে বেসামাল।
ভেবে ভেবে দিন পার বদু শেখ তাও-
চোখ বুঝে টস করে-‘ কদু? নাকি লাউ?’
যে-ই লাউ সে-ই কদু নেই ব্যবধান
বদু বসে ভাবে আর চুলকায় কান।
উদ্ভট
রমজান মাহমুদ
সাদাটাকে কালো বলে
কালোটাকে সাদা,
গাধা দেখে ঘোড়া বলে
গরু দেখে গাধা।
ওপরে কী? ভেতরে কী?
দেখে শুধু ধাঁধা,
কখনও বা সেজে থাকে
পুরোপুরি ‘আঁধা’।
বেখেয়ালে গেয়ে ওঠে
সা রে গা মা পা ধা,
কখনও বা অকারণে
ছুঁড়ে মারে কাদা।
আমরা আলো
আবুল কালাম বেলাল
আমরা হাসি খিলখিল
ঝরে হাজার হিরে ফুল
আমরা কাঁদি ঝর ঝর
নদীর ধারা কুলুকুল।
আমরা ছুটি পই পই
মুক্ত মাঠে পঙ্খিরাজ
রাগলে পরে চুপচাপ
মেঘলা-মেদুর একটি সাঁঝ।
আমরা শিশু হইচই
হাসিখেলায় কি অস্থির
হাসাই আবার হো হো
আমরা আলো আগামীর।
সংখ্যার ছড়া
আখতারুল ইসলাম
এক থাকে ওই আকাশ জুড়ে
দুই থাকে তার পরে
তিন গেল কই খুঁজছে সবাই
উঠোন বাড়ি ঘরে।
চার এলো রে পালকি চড়ে
পাঁচ আঙ্গুলে ঘুরে
ছয়’টা উড়ে হাওয়ায় হাওয়ায়
সাত মহাদেশ জুড়ে ।
আট গেল ভাই গাড়ি করে
নয় এর সাথে বাড়ি
দশ বলে যে আমি যাব
চলো তাড়াতাড়ি।
পেট মোটা ঘটিরাম
শেলীনা আকতার খানম
পেট মোটা ঘটিরাম
দেয় জোরে ছুট,
বিষটিতে ভিজে খায়
ঝাল চনাবুট।
হাম হাম ধাম ধাম
খায় বেশি পান,
ক্ষিদে পেলে পেটটাকে
জোরে দেয় টান।
কতো নানা কাণ্ড তো
করে ঘটিরাম,
রাজা রাম রেগে বলে
থাম এবার থাম।
ননির পুতুল
কানিজ ফাতিমা
ননির পুতুল আদুরিনি
মুখ তুলে সে চায় না
রাগ করেছে মান করেছে
লাড্ডু, মিঠাই খায় না।
মা নাকি আজ ইচ্ছে মতো
আদর দিলো ছেলেকে
দস্যি পেঁচা অমন ছেলের
সাথে বলো খেলে কে?
ওই ছেলেটা দুষ্টু ভীষণ
নাকটি যে তার বোঁচা
সুযোগ পেলেই নাকের ওপর
দেবো একটা খোঁচা।
অঙ্ক স্যার টঙ্ক স্যার
সনজিত দে
গণিত মানে অঙ্ক জানি
টঙ্কের মানে কী?
অঙ্ক টঙ্ক নিয়ে ভেজাল
গুলিয়ে ফেলেছি।
আব্বু বলে গাধার গাধা
মানতে পারি না যে
সব কথারই কথা কেমন
আস্ত লাগে বাজে।
বোকাসোকা হইতো আমি
বললে বলুক গাধা
গাধার গাধা শব্দ শুনে
লাগছে কেবল ধাঁ ধাঁ।























































