আরফান হাবিব »
কবি মহীবুল আজিজ (জন্ম: ১৯৬২) গত শতাব্দীর আশির দশক থেকে নিয়মিত কাব্যচর্চা করে যাচ্ছেন কোন কলরব ছাড়াই। বাংলা কবিতাকে বিশ্বজনীন করার দূর্লভ প্রচেষ্টা তার কবিতাকে করেছে আশ্চর্যসুন্দর চিরায়ত বাংলা কবিতা থেকে আলাদা। তার প্রতিটি কাব্যগ্রন্থ নিরীক্ষাধর্মীতার অনন্য উদাহরণ। যেমনটি, তার সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ গঙখাঙ রেগেখ্যঙ (২০২৪)। ব্যক্তিসত্তার উপস্থিতি কবিতার অনিবার্য অনুপ্রেরণা। শৈশবে শঙ্খ নদীর পাশে বেড়ে উঠা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সাথে থাকা যোগাযোগ-কবির কবিতাকে করেছে গহন কোনো বনের ধারে ঘুরে বেড়ানোর সুখস্মৃতিময়। একটি সুনির্দিষ্ট জনপদকে উপস্থাপন করা উত্তরাধুনিক কবিতায় একেবারেই অনুপস্থিত। সীমাবদ্ধতার এ উন্মোচন কবি পাঠকের সামনে মেলে ধরছেন আলোচ্য কাব্যগ্রন্থে। পর্যটক না হয়ে পরিব্রাজকের মতো একটি জনপদের মানুষ-সংস্কৃতি, উৎসব ও রংকে কবিতার ক্যানভাসে তুলে আনা একেবারেই সহজ কাজ নয়। এ কঠিন কাজটি পরম মমতায় করেছেন মহীবুল আজীজ। পাহাড়ের জীবন ও যাপনচিত্র তার কবিতায় যেমন শিল্প অবয়ব লাভ করেছে; অপরদিকে বিশ^জনীন ভাবনার ভাষা দ্যোতিত হয়েছে প্রতিটি পংক্তিতে। যেমন
আমার শৈশব আমার প্রথম স্মৃতিবজড়িত ভূমি দোহাজারি,
বাগিচা হাটের সুদৃশ্য সবুজ সিংহ দরোজার হাজারি-বাড়ি।
দেখি নদী কত টেমস্ জোহোর সিন কাবেরি কি শিপ্রা গোদাবরি,
চোখ বুঁজলেই ঢেউ বয়ে যাওয়া আমার শঙ্খকে কী করে বিস্মরি!
দোহাজারি ছেড়ে আসি, শঙ্খ থেকেও ছিটকে পড়েছি কত কাল আগে,
পেয়ারার ঘ্রাণ নাকে লেগে থাকে, গভীর নিদ্রার স্বপ্নে শঙ্খই জাগে। (স্মৃতিবিজড়িত, পৃ.১২)
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিস্তৃত পর্বতরাজির কোল ঘেঁষে এঁকেবেঁকে বয়ে চলা চঞ্চলা নদী-ছড়ার সমবায়ে নির্মিত এক অপরূপা জনপদ। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে সবুজের মেলা, বয়ে চলা পাহাড়ি ঝরনা, ১১টি নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠী পাহাড়ের গায়ে ছোট ছোট মাচং ঘরে নিত্যদিনের বসতি, জুমচাষ, দিন শেষে ঘরে ফেরা, সকাল-সন্ধ্যায় পাখির কলকাকলি, উৎসব, পার্বণ সব মিলিয়ে রূপকথার কোনো কল্পকাহিনী মনে হলেও এর সবই রয়েছে এখানে। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে শিল্পের নিয়ত প্রকাশ এ অঞ্চলের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। গঙখাঙ রেগেখ্যঙ-গ্রন্থে এ বৈশিষ্টের সরল প্রকাশ ঘটেছে প্রায় সব কবিতায়। পাশাপশি বাংলা কবিতার ধারায় এ প্রথম মারমা জাতিগোষ্ঠির মিথ ব্যবহৃত হয়েছে উত্তরাধুনিক বাস্তবতায়। যেমন
খোঁপাতে তোমার গুঁজে দেবো এক হলুদ রেই বোঁয়া।
ঢোল ঝাঁঝর ও মন্দিরার সুরে উঠবে জমে পাঙ্খু,
প্রেমের উচ্ছ্বাসে জাগাবে স্পন্দন স্নিগ্ধ-স্রোত সাঙ্গু।
সাথানু দিয়েছে প্রাণের মনরিকে আংটি স্বর্গের,
আমার সম্বল ভালোবাসা শুধু, আমি নিম্নবর্গের। (সম্বল, পৃ.১৬)
শুধু ভূ-প্রকৃতিগত বৈচিত্র্যই এ পার্বত্য অঞ্চলকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছে তা নয়, এ পার্বত্য জেলাগুলোর নানা নৃগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনধারা এ অঞ্চলকে দিয়েছে একটি বিশেষ মর্যাদা। ঐতিহাসিক কাল থেকে বহু ভাষার জনগোষ্ঠী ভিন্ন ভিন্ন সাংস্কৃতিক ধারায় উদ্ভাসিত হয়েও অভিন্ন উৎপাদন ব্যবস্থা (জুমচাষ) এবং আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে প্রোথিত করেছে মালার মতো অভিন্ন সাংস্কৃতিক বন্ধনে। এখানকার আদিবাসী নৃগোষ্ঠীর ভাষা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য পরস্পর থেকে পৃথক এবং বৈচিত্র্যময়; সামগ্রিকভাবে কোনো একক সত্তায় তাদের নির্ধারণ করা যায় না। এই বৈচিত্র্যময় রূপই আবহমান বাংলার জাতীয় জীবনে এক অনুপম সংযোজন বলা যায়। কবি মহীবুল আজিজ তার কবিতায় এ বৈচিত্রময় রূপকে প্রকাশ করেছেন কবিতার শরীরে। আমরা দেখি
জলের উৎসবে মিলেছি আমরা সাংগ্রাই-সঙ্গমে,
চৈত্রের দাবদাহ মেঘ হয়ে ওড়ে মাটিতে ফাটাল।
তপ্ত চতুর্দিক টগবগ ফোটে স্থাবর-জঙ্গমে,
আমরা দু’জনে মাখবো অবারিত শুশ্রুষার জল। (সাংগ্রাই-সঙ্গমে, পৃ.১৫)
স্বপ্ন হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার বাস্তবতা সমসাময়িক বাংলা কবিতার অনিবার্য একটি অনুসঙ্গ। গঙখাঙ রেগেখ্যঙÑ কাব্যে এ প্রতিচ্ছবির রেশ রয়েছে বেশ কিছু কবিতায়। যেমন
একত্রিশে রেখে পা আমরা বাড়াবো মুখ এক-এ,
বানরও বাঁদরামি ভুলে যাবে আমার প্রেম দেখে! (গতিপথে, পৃ. ১০)
পাহাড়ের সাথে সমতলের মানবিক মেলবন্ধনের এক অপূর্ব সংগীত পরিবেশ করেছেন কবি তার কাব্যে। যেন ঝরনার কাছে গিয়ে পাখিদের কোলাহল শুনছি। সৌন্দর্যের এমন উদ্বোধন ছড়িয়ে পড়ছে পুরো কাব্যগ্রন্থ জুড়ে। যেমনÑ
চলো আজ ভেলা নিয়ে চলে যাই বমপাড়া ফেলে,
বছরে না হয় হলাম একবারই অসময়ের জেলে।
বালাঘাটা পুল পার হলে পর আরও অন্তপুরে,
ক্যাঙয়ের চূড়োয় পাখিরা ঝিমোয় এ ভরদুপুরে। (চলো আজ, পৃ. ৪৫)
পর্যবেক্ষণ কত গভীর এবং উপলদ্বি কতটা সংবেদনশীল হলে ভিতরের সত্তা বাইরের রূপের সাথে মিশে যায় তার একটি চমৎকার সম্প্রচার আমরা পাই‘গঙখাঙ রেগেখ্যঙ’ কাব্যগন্থ জুড়ে। প্রকৃতি ও প্রেম রূপলোকের অপার পটভূমি কবিতার শরীরে নেপথ্যে গোপন এক শক্তির মতো কাজ করে। তা না হলে সবকিছু ছন্দ-সংযোগহীন, সৌন্দর্যবর্জিত এবং রেশহীন হয়ে যায়। কবিতায় বুদ্ধিদীপ্ত সৌন্দর্য এবং অনুরণিত রেশ কবিতার পাঠকের মননে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে। সৌন্দর্যের সামগ্রিক ধারণের অনন্য এক প্রচেষ্টা এ কাব্যগন্থকে করেছে গভীর ভাবলোকের মুক্ত আকাশের মতো । ‘লৌকিক দর্শন’ কবিতায় কবি বলছেনÑ
পৃথিবীর অধিকাংশ খেজুরগাছ আরবদেশে কিন্তু খেজুরের রস আমরা খাই,
মাছ-মাছে ভরভরন্ত নরওয়ে সুইডেন ফিনল্যান্ড এইসব স্ক্যান্ডিনেভিয়া।
অথচ রোদের আঁচে শুকায় কোটি-কোটি মাছ নুনিয়াছড়ার থেকে সোনাদিয়া,
বিশে^র যত উন্নত প্রযুক্তি থাকা সম্ভব তা দিয়ে এ-কুঁড়েঘর সাজাই। (লৌকিক দর্শন, পৃ.১১)
আঞ্চলিকতার আড়লে বিশ^জনীনতা এ কাব্যগ্রন্থের বিশেষ একটি বৈশিষ্ট। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলটি পাহাড় পর্বত বেষ্টিত একটি গিরি জনপদ। ছোট বড় ও মাঝারি পাহাড় নিয়ে গঠিত এ অঞ্চলটি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের নিকট এর নৈর্সগিক সৌন্দর্যের জন্য অত্যন্ত প্রিয়। দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বসবাস করে আসছে ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক মনোমুগ্ধকর যাপিত জীবন নিয়ে। এ জন্য যে কোনো মানুষ এর সৌন্দর্যে মোহিত হবেই। কবিও ব্যতিক্রম নন, তিনি বলছেন
নোত্রদাম কিংবা কলকাতার কফি হাউজের স্মৃতি,
কেম্ব্রিজে ব্রুকের অথবা টেমসের পাড়ে এলিয়টের।
সবই আজ এক সুদীর্ঘ জীবন-কাব্যের উদ্ধৃতি,
করোটির খোপে স্মৃতিবিন্দু জ¦লে শৈশৈ ক্যাফের। (শৈশৈ ক্যাফে,পৃ. ১৯)
প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক অচ্ছেদ্য। মূলত মানুষ প্রকৃতির অংশ, প্রকৃতির সন্তান। সে অর্থে মানুষের সব রকমের কর্মযজ্ঞে প্রকৃতির রয়েছে নিঃশব্দ অবদান, স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, প্রকৃতির ছায়াঁয় কালে কালে মানুষের জন্ম, বেড়ে ওঠা, পরিণতি ও পরিসমাপ্তি। মানুষের সার্বিক জৈবক্রিয়ায় প্রকৃতির এই যে অবস্থান, তার সৌন্দযের্র তাত্ত্বিক প্রকাশ ঘটে সুকুমার শিল্পকলায়, যেখানে সহিত্যেরও তুমুল অধিষ্ঠান। মানবিক সৃজনশীলতার এই পর্বে সহজ অনেক বিষয় জটিলরূপে প্রকাশিত হয়। কবিতাতো সৌন্দর্য প্রকাশের প্রতিষ্ঠন। তাই কবি বার বার এ সৌন্দর্যকে বিভিন্ন রং এ এঁকেছেন। যেমন
পাহাড়ে হেলান দিয়ে আজ তুমি আমায় ভালোবাসো,
খেতে দেবো তোমায় থানচি পাহাড়ের মুরগির লাক্সো।
আঠালো চালের উপাদেয় খাদ্য এনেছি এ মুন্ডি,
বিনি চাল থেকে নিকষিত বারি বানিয়েছে শুন্ডি। (পাহাড়ে হেলান দিয়ে,পৃ. ২৫)
বস্তুত, কবিতা হচ্ছে কবির ব্যক্তিচিত্তের দৃষ্টিভঙ্গির অভিব্যক্তি প্রকাশ এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা। বিধৃত জীবনবোধের সমাজ কাঠামো স্বীকৃতি নির্ভর ভাষায় শিল্পসঙ্গত সচেতন মনের অসীম কাল্পনিক রাজ্যে বিচরণ। কবির সামগ্রিক জীবন চেতনা সমযুগের দ্বন্দ¦মুখর ও পরিবর্তিত জাতীয় জীবনের প্রবহমান ধারা থেকে অর্জিত এবং সমাজ জীবন বিবর্তন ঘটিয়ে পরিচ্ছন্নতম প্রচ্ছন্ন সামাজিক ব্যবস্থা কায়েম করার নিবেদনই কবিতা। কবি মহীবুল আজিজ একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের অপরূপ কথা আমাদের শোনাচ্ছেন ঠিকই, গোপনে সেখানে ছড়াচ্ছেন ব্যক্তিজীবনের প্রমিত ভাবনা। যেমন
পিন্ড নিয়ে খাড়া বুদ্ধানুসারীরা সূর্য পাহারায়,
প্রস্তুত শ্রমণ কঠিন চীবর নব উত্তরীয়।
উর্ধ্ব থেকে নেমে গেরুয়া আলোক নিসর্গে গড়ায়,
দাঁড়াও তুমিও, পেম্মং শরণং-সম্বোধি হে প্রিয়! (দাঁড়াও তুমিও,পৃ.৩০)
কবি যখন কোন বিষয়ের উপর কবিতা লিখতে বসেন তখন তিনি আত্মচৈতন্যের পরিকল্পিত স্বরূপকেই আবিষ্কার করেন এবং অন্তর্নিহিত মনোচেতনা ও দর্শনকেই উন্মোচন করেন। কবি মানে স্বপ্নচারী কিংবা কল্পনা বিলাসী ছন্দমালার রূপায়নকারী নন। সামাজিক জীবনের চলমান রূপকে কেন্দ্র করে ইতিহাস, এতিহ্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, ধর্মীয় পরিবেশ পরিস্থিতি ও জাতিগত শাসন শোষণের বঞ্চণাকেই উপজীব্য করে কবিতা লিখতে প্রয়াসী হন কবি। কবির জীবনাবোধ যত বেশি অনুভূত হয়Ñ সেই কবির কবিতার শেকড় তত বেশি গভীরতায় প্রোথিত হবার সুযোগ পায় এবং সে ক্ষেত্রে একটি কবিতা হয়ে ওঠতে পারে সমাজ জীবনের মুক্তির সনদ। তাই আমরা বলতে পারি, কবিতা শুদ্ধতম সামাজিক জীবন কাঠামো বির্নিমাণের আলোক মশাল এবং কবিরা হচ্ছেন সেই আলোকিত মহামশালের বাহক। কবি মহীবুল আজিজ ‘গঙখাঙ রেগেখ্যঙ’ তেমনি দ্যূতি ছড়ানো একটি কাব্যগ্রন্থ। কবি বলছেন
নিনি’র কবিতায় ছিটকে পড়ে প্রেম, সাংগ্রাইয়ের জল,
মেঘলা উপত্যকায় ঝলসায় তার কবিতার বিস্ময়।
খানিক বুঝেছি, বাকিটা দুর্বোধ্য, দুর্জ্ঞেয়-অতল,
নিনি’র ছবিতে জীবনের রঙ তীব্র দ্যুতিময়। (নিনি’র কবিতায়,পৃ. ২৮)
পৃথিবীর বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর ভাষা ভিন্ন ভিন্ন হলেও যে উপকরণ ও শৈল্পিক অলংকরণ যুক্ত হলে একটি সার্থক কবিতা রচিত হয় আজ পর্যন্ত সেটি বিশ্বাস করা হয় দেশ, কাল, সময় ও ভৌগোলিক নিরপেক্ষতায়। ভাষার ভিন্নতার কারণে কেবল কবিতার উপকরণ ও আঙ্গিক ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সামগ্রিক কবিতার আবেদন এক ও অভিন্ন। এটি একটি বিস্ময়ের বিষয়ও বটে। ‘গঙখাঙ রেগেখ্যঙ’ কাব্যে কবি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রতিটি অনুষঙ্গকে করেছেন কবিতার বিষয়বস্তু। ভৌগোলিক সীমারেখার মাঝে আবদ্ধ না থেকে তাই প্রতিটি পংক্তি এখানে হয়েছে বন্ধনহীন। যেমন
এই নাও এই পাহাড়ধোয়ায় জল বয়ে আনি,
স্ফটিকস্বচ্ছতায় হৃদয়োষ্ণতার দোচুয়ানি।
ভুলে যাও সোফা, নিচে নেমে বসো, শীতলপাটি,
মারমা রমণির শিল্পশ্রী-সমৃদ্ধ একদম খাঁটি। (বসি মুখোমুখি,পৃ.২২)
পাহাড়ি মানুষের জীবন খুব সরল নয় বাস্তবত তাদের জীবন চরম আত্মগত। শিল্পের আধুনিক প্রবলতাগুলোও বাংলাদেশের পাহাড়ি জনপদের সাহিত্যের জন্য তাই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। উত্তর-ঔপনিবেশিক সাহিত্যে ভূমিজ সংস্কৃতি খুব স্বাভাবিকভাবেই স্থান করে নিয়েছে। আর সে কারণেই পার্বত্য অঞ্চলকে কবিতায় প্রকাশ করতে পারা জীবন-অনুষঙ্গের লোকায়ত উন্মেষেরই প্রকাশ। কবিতায় জটিলতা-অতিক্রমী এ মনের মাধুরী মেশানো রোম্যান্টিক আবহটি বেশ সতেজ, চঞ্চল, ঘনিষ্ঠ ও সংরাগময় হয়ে ধরা পড়েছে ‘গঙখাঙ রেগেখ্যঙ’ কাব্যে । আর এই অনুধাবন কবির একান্ত নিজস্ব হয়েও মানুষী অনুভবের চিরায়তিকতার সহগামী।
(গংখাঙ রেগেখ্যঙ- মানে আকাশ ও নদী। চাওক শব্দটি মারমা ভাষায় বই অর্থে ব্যবহৃত হয়। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন আনিকা নওয়ার। প্রকাশ করেছেÑচন্দ্রবিন্দু, ২০২৪।)