চাঁদা আমরা নিই না, নিতে দেব না : শফিকুর রহমান

সুপ্রভাত ডেস্ক »

চাঁদা আমরা নিই না এবং কোনো চাঁদাবাজকে আমরা চাঁদা নিতে দেব না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর–এ–শহীদ মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভার প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। দিনাজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামী এ জনসভার আয়োজন করে।

শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই না হলে আজকে এখানে দাঁড়াতে পারতাম না, কথা বলতে পারতাম না, মানুষের কাছে যেতে পারতাম না, মানুষের অধিকারের জন্য প্রকাশ্যে লড়াই করতে পারতাম না। গভীর শ্রদ্ধার সাথে দিনাজপুরের ১১ জনসহ সারা বাংলাদেশের সমস্ত শহীদদেরকে স্মরণ করি এবং বুলেটের আঘাতে জর্জরিত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণকারী জুলাইযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সংবেদনা জানাই।

দিনাজপুরকে ‘বাংলাদেশের শস্য ভান্ডার’ আখ্যায়িত করে জামায়াতের আমির বলেন, সারা বাংলাদেশের খাদ্যের তিন ভাগের এক ভাগ যোগান দেয় এই দিনাজপুর। এত পরিশ্রমী জনগোষ্ঠী এবং গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও দিনাজপুর কেন সিটি কর্পোরেশন পায়নি, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, আপনাদের ভালোবাসায় সমর্থনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যদি দেশ সেবার সুযোগ পায়, সরকার গঠনের সুযোগ পায়, দিনাজপুর শহর ইনশাআল্লাহ সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরিত করা হবে। সিটি কর্পোরেশন হওয়ার সাথে সাথে অনেক উন্নয়ন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাধিত হবে।

গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, এই দিনাজপুরে গ্যাস সংকট, গ্যাস নেই। বাংলাদেশের বহু জেলায় আছে। যেহেতু কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে, তাই দিনাজপুরে গ্যাস থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদি গ্যাস নাও পাওয়া যায়, তবে বাংলাদেশের অন্যান্য স্থানের গ্যাসের অংশীদারিত্ব দিনাজপুরেরও থাকবে।

কৃষিখাতের আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আজকে ২০২৬ সাল, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ স্বাধীন হওয়ার ২৫ বছরের ভেতরে কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয় গঠিয়ে স্বাভাবিক অবস্থার চাইতে চার গুণ বেশি ফসল উৎপাদন করছে। আগামীতে উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানী করা হবে। এখানে আধুনিক লজিস্টিক সরবরাহ করে ফসলের উৎপাদন বাড়ানো হবে এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। ফসল ও সবজি সংরক্ষণের জন্য জায়গায় জায়গায় সংরক্ষণাগার খোলা হবে। এতে সারা বছর মানুষ ন্যায্যদামে কৃষিপণ্য পাবে।

চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ঘোষণা করেছি, চাঁদা আমরা নিই না এবং কোনো চাঁদাবাজকে আমরা চাঁদা নিতে দেব না। আমরা বলেছি সব ধরনের দুর্নীতি বন্ধ হবে। দুর্নীতি আমরা তো করবই না, আর কাউকে দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না।

যারা দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত, তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তোমরাও পরিশ্রম করে সম্মানের সাথে উপার্জন করে সম্মানের সাথে এই দেশে বসবাস করবে ইনশাআল্লাহ।

নারী সমাজের নিরাপত্তা ও সম্মানের বিষয়ে তিনি বলেন, মায়েরা আমাদের সম্মানের জাতি। আমাদের জীবনের চেয়ে আমাদের মায়েদের সম্মানের মূল্য আমাদের কাছে অনেক বেশি। জামায়াত সরকার গঠন করলে মা-বোনেরা ঘরে, যাতায়াত ও কর্মস্থলে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও সম্মানের সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তাদের মাথার তাজ হিসেবে মাথায় তুলে রাখা হবে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, এমন বাংলাদেশ আমরা করতে চাই যেখানে শিশুটি জন্ম নেওয়ার পরে সে তার তিনটি অধিকার সাথে সাথে পেয়ে যাবে। একটা হচ্ছে তার বাঁচার অধিকার অর্থাৎ তার পুষ্টির অধিকার। দ্বিতীয়টা তার সুস্বাস্থ্য রক্ষার অধিকার অর্থাৎ স্বাস্থ্যসেবা। তৃতীয়টা তার শিক্ষার অধিকার। ৫ বছর বয়স পর্যন্ত সকল শিশু এবং ৬০-৬৫ বছর বয়সের উপরে সকলকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

একটি ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ওই বাংলাদেশটা করতে চাই যেখানে বিচার অর্থের বিনিময়ে কেনা যায় না, যেখানে ধর্মে ধর্মে আর কোনো সংঘাত হবে না,  আমরা ওই বাংলাদেশটা করতে চাই যেই বাংলাদেশের টাকা চুরি করে আর বিদেশের মাটিতে বেগমপাড়া বানানোর স্বপ্ন কেউ দেখবে না। বেগমপাড়ার চোরদেরকে ধরে এনে বাংলাদেশে শাস্তি দেওয়া হবে।

তিনি আগামী ১২ তারিখের ভোটযুদ্ধে সকল দলের প্রতি সম্মান ও প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে দিনাজপুর-১ আসনের প্রার্থী মতিউর রহমানকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করে ঘরে ফেরার আহ্বান জানান।