চবির নতুন ভিসি-প্রো-ভিসি নিয়োগ : আলোচনায় আল ফোরকান ও নছরুল কাদির

চবি প্রতিনিধি »

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) নতুন ভিসি ও প্রো-ভিসি নিয়োগ নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় ছয়জন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকের নাম ঘুরপাক খাচ্ছে।

এর মধ্যে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান এবং প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এস. এম. নছরুল কাদিরকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর দেশের রাজনৈতিক পেক্ষাপটে পরিবর্তনের আবহে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসনে রদবদলের জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বর্তমান উপাচার্য ও দুই উপ-উপাচার্যের মেয়াদ এবং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এর মধ্যেই নতুন ভিসি ও প্রো-ভিসি নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আভাস মিলেছে

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও উপ-উপাচার (একাডেমিক) পদত্যাগ করেন। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়াকে সাময়িকভাবে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সময়ে ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খানকে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিনকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা আবারও জোরদার হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে আগামীর ভিসি ও প্রো-ভিসি হিসেবে যেসব নাম আলোচিত হচ্ছে, তারা হলেন—
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এস. এম. নছরুল কাদির, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, এবং শাহ আমানত হলের প্রভোস্ট ও বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোহাম্মদ মনিরুল হাসান।

ভিসি হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে আলোচিতদের একজন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রের নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। একাডেমিক ও গবেষণাক্ষেত্রে সক্রিয় এই অধ্যাপক গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও ভিসি পদের আলোচনায় ছিলেন।

অন্যদিকে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য ও ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এস. এম. নছরুল কাদিরও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সরকার যোগ্য ব্যক্তিকেই দায়িত্ব দেবে বলে মনে করছি। যারা বিগত ১৬-১৭ বছর আন্দোলনে ছিল, তাদেরই দায়িত্ব দেওয়া হবে। যারা বিশ্ববিদ্যালয়কে ধরে রাখতে পারবে এবং যাদের দক্ষতা ও যোগ্যতা রয়েছে, তাদেরই দায়িত্ব দেওয়ার আশা করছি।’

জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একজন গ্রহণযোগ্য উপাচার্য প্রয়োজন। বর্তমান উপাচার্য সাময়িক দায়িত্বে থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে জবাবদিহিতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, গত দেড় বছরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এছাড়া সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলামের নামও প্রো-ভিসি পদের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। একইভাবে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও হল ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ততার কারণে অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোহাম্মদ মনিরুল হাসানের নামও আলোচনায় এসেছে।

নির্বাচন-পরবর্তী গণতান্ত্রিক প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদগুলোতে সৎ, দক্ষ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক অধ্যাপক নিয়োগের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও গবেষণায় যে শূন্যতা ও ব্যাঘাত তৈরি হয়েছে, তা দূর করে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়কে গতিশীল ও স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি ও প্রো-ভিসি নিয়োগ এখন ক্যাম্পাসের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। সম্ভাব্য ছয় প্রার্থীর নাম ঘিরে জোরালো আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কার হাতে নেতৃত্বের দায়িত্ব যাচ্ছে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।