চবিতে মেয়ে সেজে প্রতারণার চেষ্টা,আটক দুই যুবক

চবি প্রতিনিধি »

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুজন বহিরাগত যুবককে আটক করা হয়েছে। দুজনের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে মেয়ে সেজে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।

রবিবার (৮ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টায় বহিরাগত দুই যুবককে আটক করে প্রক্টরিয়াল বডি।

আটক এক যুবকের নাম রমজান আলী (১৯)। তিনি ফতেহপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অন্যজন সাজ্জাত হোসেন (২৩)। তিনি হাটহাজারী কৃষি ইন্সটিটিউটের ডিপ্লোমা কোর্সের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ক্যাম্পাসের এফ রহমান হলের রাস্তায় সাজ্জাত হোসেনকে ‘চোর, চোর’ বলে ধাওয়া করছিলেন রমজান আলী। পরে তারা আলাওল হলের সামনে আসলে তাদেরকে গেস্ট রুমে নিয়ে যান হলের শিক্ষার্থীরা। এ সময় স্থানীয় ৩০-৫০ জন যুবক হলের সামনে এসে ফিরে যায় বলে জানিয়েছেন হলের শিক্ষার্থীরা। এ সময় ঘটনাস্থলে আলাওল হল সংসদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রক্টরিয়াল বডির তত্ত্বাবধানে দুই যুবককে নিরাপত্তা দপ্তরে নেওয়া হয়। রমজান আলী ক্যাম্পাসের সোহরাওয়ার্দী হল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা এবং সাজ্জাত হোসেন ক্যাম্পাসের ২নং গেইট সংলগ্ন পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা।

আটককৃত যুবক রমজান আলীর দাবি, সাজ্জাত হোসেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজেকে মেয়ে দাবি করে তার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ‘মেঘ বিলাশ’ নামক একটি ফেইক আইডি থেকে রমজানের সঙ্গে যোগাযোগ করত সাজ্জাত। এদিকে আটককৃত যুবক সাজ্জাত হোসেন অস্বীকার করেন যে তিনি কোন ফেইক আইডি চালান না। তার দাবি, রাতে সোহরাওয়ার্দী হলের মাঠে রমজান আলীর সঙ্গে তার দেখা হয়। একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে রমজান। পরে সে নিজের মোবাইল ফোন নিয়ে দৌড়ে এফ রহমান হলের দিকে চলে যায়।

এ বিষয়ে চবি প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, “আমরা হাটহাজারী থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিনি মামলা করার বিষয়ে বললেন নতুবা সোমবার সকালে মোবাইল কোর্টে বসিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়। আমি হাটহাজারী উপজেলার ইউএনও এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিনি বললেন যে এভাবে কোনো কিছু করা যাবে না। তাই আমরা এখন উভয়পক্ষের পরিবারের সম্মতি নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দিতে চাই।”

দুই যুবককে আটকের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরে উপস্থিত হন হাটহাজারী থানার এটিএসআই শাহাজালাল। জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করতে পারিনা। তবে চাইলে উপজেলা প্রশাসনের ইউএনও চাইলে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে।”

হাটহাজারী থানার দায়িত্বরত পুলিশ পরিদর্শক গোলাম মোস্তাফা বলেন, “দুই যুবককে আটকের বিষয়ে আমাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো কিছু জানানো হয়নি। এখন আমি এই বিষয়ে কোন কিছু বলতে পারছি না।”