চট্টগ্রাম বন্দরে সব সূচকে অগ্রগতি, এক বছরে সর্বোচ্চ কনটেইনার হ্যান্ডলিং

সুপ্রভাত ডেস্ক »

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নানামুখী চাপের মধ্যেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর। ২০২৫ সালে সব কটি প্রধান সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর।

এই এক বছরে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং, জাহাজ চলাচল, রাজস্ব আয় এবং অবকাঠামো সম্প্রসারণ– সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি এসেছে। বিশেষ করে গত এক বছরে ৩৪ লাখ টিইইউএস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক) কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, যা বন্দরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯ টিইইউএস কনটেইনার, ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন কার্গো এবং ৪ হাজার ২৭৩টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ, কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আধুনিক সরঞ্জাম সংযোজন ও ইয়ার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। জাহাজ ব্যবস্থাপনায় উন্নতির ফলে ২০২৫ সালে বিভিন্ন সময়ে একাধিক দিন বন্দরে জাহাজের ‘ওয়েটিং টাইম’ শূন্য ছিল।

জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে জাহাজের গড় ‘টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম’ ছিল ২ দশমিক ৫৩ দিন এবং কনটেইনার ‘ডুয়েল টাইম’ ছিল ৯ দশমিক ৪৪ দিন। চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিডিএল) পরিচালিত টার্মিনালগুলোতেও ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যার মধ্যে অক্টোবর মাসে সর্বোচ্চ ২০ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক জানান, ২০২৫ সালে বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছে ৫ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি। এ বছর চট্টগ্রাম বন্দর সরকারকে ১ হাজার ৮০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়েছে। বন্দর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে অনলাইন ই-মুট পাস, অনলাইন বিল জেনারেশন ও ই-পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর এক দিনেই সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৭৬১টি ই-মুট পাস ইস্যু করা হয়।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ইউএস কোস্ট গার্ডের পরিদর্শনে ইতিবাচক স্বীকৃতি পাওয়ায় বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জন করেছে। অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ৭০ হাজার বর্গমিটার ইয়ার্ড নির্মাণ ও নতুন হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প ও ১৩ হাজার ৫২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ের বে-টার্মিনাল প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দর একটি আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট হাবে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।