চট্টগ্রাম বন্দরে পঞ্চম দিনের মতো চলছে কর্মবিরতি

সুপ্রভাত ডেস্ক »

চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) পঞ্চম দিনের মতো চলা এই কর্মসূচিতে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।সকাল থেকেই লাগাতার কর্মসূচি পালন করছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।

এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘টানা পঞ্চম দিনের কর্মবিরতি চলছে। বন্দরের অপারেশনাল কাজ বন্ধ রয়েছে। এমনকি বহির্নোঙরেও কাজ বন্ধ রয়েছে।’ তিনি জানান, এনসিটির ইজারা বাতিলসহ শ্রমিকদের বদলির আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলমান থাকবে।

উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি

সরেজমিনে দেখা গেছে, কর্মবিরতির প্রভাবে বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও সাধারণ পণ্য ওঠানামার সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এনসিটি, চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), জেনারেল কার্গো বার্থসহ সব টার্মিনালেই কাজ বন্ধ থাকায় বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় জি-টু-জি ভিত্তিতে দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে এনসিটি তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে নেওয়া হলে শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলনে নামেন।

শুরুর দিকে আন্দোলন মিছিল-সমাবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ছাড়াও গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটিসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠন এসব কর্মসূচি পালন করে। তবে এনসিটি চুক্তির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছালে কঠোর কর্মসূচির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। বর্তমানে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।