চট্টগ্রামে স্ক্যাবিস ওষুধের সংকট ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে চর্মরোগ ‘স্ক্যাবিস’ বা খোসপাঁচড়ার প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, বস্তি এবং নিম্ন-আয়ের মানুষের মধ্যে এই ছোঁয়াচে রোগের বিস্তার সবচেয়ে বেশি। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, যখন এই রোগের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন, তখন চট্টগ্রামের ওষুধের বাজারে দেখা দিয়েছে চরম সংকট। প্রয়োজনীয় লোশন ও মলম খুঁজে না পেয়ে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় সতর্কসংকেত।

স্ক্যাবিস মূলত একটি পরজীবীজনিত চর্মরোগ, যা ছোঁয়াচে হওয়ার কারণে দ্রুত একজনের শরীর থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি দীর্ঘমেয়াদী চর্মরোগ ও সেকেন্ডারি ইনফেকশনে রূপ নিতে পারে। বর্তমানে চট্টগ্রামের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে চর্মরোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। অথচ বাজারে এই রোগের সবচেয়ে কার্যকর ওষুধ ‘পারমিথ্রিন’ ক্রিম ও লোশন এবং ‘আইভারমেকটিন’ ট্যাবলেটের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। অনেক ফার্মেসিতে গিয়েও রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন না, আবার কোথাও পাওয়া গেলেও তা চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওষুধের এই কৃত্রিম বা স্বাভাবিক সংকটের পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, হঠাৎ করে চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যাওয়া; দ্বিতীয়ত, সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি কিংবা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উদাসীনতা। চট্টগ্রামের মতো বড় বাণিজ্যিক নগরীতে ওষুধের এই ঘাটতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। ওষুধের সংকট থাকলে রোগীরা অপচিকিৎসার দিকে ঝুঁকে পড়েন অথবা সস্তা ও মানহীন বিকল্প ব্যবহারের চেষ্টা করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এই সংকট নিরসনে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে খতিয়ে দেখতে হবে কেন বাজারে এই সুনির্দিষ্ট ওষুধের অভাব দেখা দিয়েছে। যদি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হয়, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিতে হবে।
একইসাথে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও জোর দেওয়া প্রয়োজন। যেহেতু এটি ছোঁয়াচে রোগ, তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ব্যাপারে সচেতন করতে হবে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে হবে যাতে দরিদ্র মানুষ বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা পায়। চট্টগ্রামের এই স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে স্ক্যাবিসের বিস্তার মহামারি আকার ধারণ করতে পারে, যা পুরো শহরের জনজীবনকে স্থবির করে দেবে।