চট্টগ্রামের ফুটপাত কি তবে হকারদের হাতেই বন্দি থাকবে

ফুটপাত মূলত পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য তৈরি করা হলেও চট্টগ্রামের অধিকাংশ এলাকায় এখন তা হকারদের একচ্ছত্র আধিপত্যে। নিউ মার্কেট, জিইসি মোড়, বহদ্দারহাট, চকবাজার কিংবা আগ্রাবাদের মতো ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার কোনো উপায় নেই। ফলে বাধ্য হয়েই পথচারীদের মূল সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে, যা প্রতিনিয়ত যানজট এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
ফুটপাত দখলের এই চিত্র এখন আর কেবল হকারদের পসরা সাজানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অনেক জায়গায় স্থায়ী স্থাপনা, নির্মাণ সামগ্রী রাখা এবং রাজনৈতিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্ধিতাংশ হিসেবেও ফুটপাত ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে করে নাগরিক ভোগান্তি আজ চরমে পৌঁছেছে। বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ। ফুটপাত খালি না থাকায় সড়কের সক্ষমতা কমছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শহরের সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থার ওপর। দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকা পড়ে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান কর্মঘণ্টা, বাড়ছে জনঅসন্তোষ।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, মাঝেমধ্যে সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও তার স্থায়িত্ব হয় বড়জোর কয়েক ঘণ্টা। উচ্ছেদকারী দল চলে যাওয়ার পরপরই আবারও দখল হয়ে যায় সেই জায়গা। অভিযোগ রয়েছে, এই দখলদারত্বের পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করে। দৈনিক ও মাসিক ভিত্তিতে ‘চাঁদা’র বিনিময়ে হকাররা রাজপথে বসার সুযোগ পায়। এই অবৈধ লেনদেনের চক্রটি এতটাই শক্তিশালী যে, প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বারবার হোঁচট খাচ্ছে।
চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। তবে এটি কেবল উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে সম্ভব নয়; প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই সমাধান। হকারদের জন্য নির্দিষ্ট ‘হলিডে মার্কেট’ বা নির্ধারিত জোনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যাতে তাদের জীবিকাও বাঁচে আবার পথচারীদের পথও সুগম হয়। একই সঙ্গে, অবৈধ দখলের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
আমরা আশা করি, চসিক এবং সিএমপি সমন্বিতভাবে একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নেবে। নগরবাসী এমন এক চট্টগ্রাম চায় যেখানে তারা নির্ভয়ে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে পারবে। নাগরিক অধিকার রক্ষায় প্রশাসনকে এখন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।