গ্রেফতার না করে পুলিশ কেন তিন শতাধিক ‘দুষ্কৃতিকারীকে’ চট্টগ্রামে ঢুকতে নিষেধ করছে?

সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ

সুপ্রভাত ডেস্ক »

চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় ঢোকা ও অবস্থান নিষিদ্ধ করে তিন শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে পুলিশ, যা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ইতিহাসে নজিরবিহীন একটি ঘটনা।

গত শনিবার ওইসব ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা উল্লেখ করে একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম যেমন রয়েছে, তেমনি দেখা যাচ্ছে একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতাদের নাম। খবর বিবিসি বাংলার।

তাদের মধ্যে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সংখ্যাই বেশি, যাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

তালিকায় বিএনপি’র কয়েকজন স্থানীয় নেতার নাম রয়েছে। সেইসঙ্গে রয়েছে, কারাগারে বন্দি ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ইসকন) নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নামও।

আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সিএমপি কমিশনার।

“এগুলো হচ্ছে সন্ত্রাসী। এদের বিরুদ্ধে তো নিয়মিত মামলাসহ নানান ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তো আমি চিন্তা করলাম যে, এটা এমন একটা এক্সট্রা কাজ যেটা করে রাখলে ভালো,” বিবিসি বাংলাকে বলেন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ।

এর আগে, গত নভেম্বরে ‘অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারের নির্দেশ’ দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা মি. আজিজ।

তার এবারের পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

“পুলিশ যদি কাউকে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে বা কারো বিরুদ্ধে যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে পুলিশের উচিৎ তাকে আটক করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। কিন্তু সেটা না করে যেভাবে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, সেটি রীতিমত হাস্যকর এবং আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো,” বিবিসি বাংলাকে বলেন মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন।

গ্রেফতারের পরিবর্তে এলাকায় অবস্থান ও প্রবেশ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে বলেও আশঙ্কা করেছেন কেউ কেউ।

“সন্ত্রাসীদের মধ্যে যারা এতদিন চট্টগ্রামে অবস্থান করছিলেন, সিএমপির এমন আদেশের ফলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, এখন তারা অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারেন। তখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম।