ওবায়দুল সমীর »
সকালে খুকি বারান্দায় বসে খেলছিল। তার হাতে ছিল মায়ের বানানো মজার মুড়কি মোয়া। হঠাৎ সে শুনতে পেল ফড়ফড় শব্দ। তাকিয়ে দেখে, একটা ছোট্ট পাখি বারান্দার রেলিংয়ে বসেছে। কিছুক্ষণ পর আরেকটা, তারপর আরেকটা, মোট তিনটি পাখি!
খুকি বিস্মিত হয়ে বলল, “ওরে! তোমরা এসে গেছো? নাম কী তোমাদের?”
একটা ছোট্ট পাখি পাখনা ঝাঁকিয়ে হেসে বলল, “আমি টুনটুনি! তুমি কি আমাদের বন্ধু হবে?”
দ্বিতীয় কালচে খয়েরি পাখি ডানা মেলে বলল, “আমি শালিক! আমিও বন্ধু হতে চাই!”
তৃতীয় ধুসর খয়েরি পাখিটা মাথা নেড়ে বলল, “আমি চড়ুই! তোমার সাথে গল্প করতে এসেছি!”
খুকি আনন্দে হাততালি দিয়ে বলল, “তোমরা কোথায় থাকো?”
“আমরা তোমাদের আশেপাশেই থাকি।” চড়ুই বলল।
“আহা! কত সুন্দর তোমরা! আসো আসো, আমার সাথে খেলো।”
পাখিরা একটু একটু করে খুকির কাছে এগিয়ে এল। খুকি তাদের দিকে মুড়কি মোয়া বাড়িয়ে দিল।
টুনটুনি একটু চেয়ে থেকে বলল, “আমরা কি একটু খেতে পারি?”
খুকি হাসিমুখে বলল, “নিশ্চয়ই! বন্ধুদের সঙ্গে খাবার ভাগ করে খেতে হয়! মা বলেছেন।”
পাখিরা খুকির হাত থেকে মিষ্টি মুড়কি টুক করে নিয়ে খেতে লাগল। খুকির মুখে ঝলমলে হাসি ফুটে উঠল। তার মনে হলো, এত মজার মুহূর্ত সে আগে কখনো পায়নি।
হঠাৎ মা ঘরের ভেতর থেকে ডেকে উঠলেন, “খুকি, কী করছো বাইরে?”
আর তখনই ঘটল বিপত্তি! টুনটুনি, শালিক আর চড়ুই ভয়ে ফুরুৎ করে উড়ে গেলো বারান্দার গ্রিলের ফাঁক দিয়ে। খুকি হতভম্ব হয়ে চেয়ে রইল। পাখিরা কোথায় গেল!
মা এসে বারান্দায় উঁকি দিলেন। মায়ের উপস্থিতি পাখিরা মেনে নিতে পারেনি।
“তুমি কেন এখানে এসেছো?” বলেই খুকি কান্না জুড়ে দিল।
খুকির মুখটা দেখে মায়া হলো মায়ের। তিনি কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “এত কাঁদছ কেন খুকি?”
খুকি চোখ মুছে বলল, “মা, আমার নতুন তিন বন্ধু এসেছিল। ওরা মুড়ি মুড়কি খাচ্ছিল আর গল্প করছিল। তুমি ডাকতেই ওরা ভয় পেয়ে উড়ে গেল!”
মা হেসে বললেন, “ওরা তো ছোট পাখি মা। মানুষ দেখলেই ভয় পায়। তাই পালিয়ে গেল। কিন্তু মন খারাপ করো না। পাখিরা আবার আসবে যদি তুমি তাদের ভালোবেসে আদর করে ডাকো। ভালোবাসা, ধৈর্য আর বিশ্বাসই তো বন্ধুত্বের আনন্দ।”
খুকি মুচকি হেসে বলল, “তাহলে আমি চুপচাপ বসে থাকবো। আর ওদের ডেকে বলবো, ভয় পেয়ো না। আমরা বন্ধু।”
মা আদর করে খুকির মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, “ঠিক তাই। প্রকৃত বন্ধু কখনও ভয় দেখায় না। ভালোবাসা দিয়ে ডাকলেই বন্ধুরা কাছে আসে। আর মনে রেখো, প্রকৃতির সকল প্রাণী, পাখি, গাছ, পশু আমাদের বন্ধু। তাদের স্নেহ দিয়ে ভালোবাসতে হয়।”
খুকির চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। সে নতুন করে বারান্দায় গিয়ে বসল। এবার আর জোরে ডাকল না। ধীরে ধীরে বলল, “টুনটুনি, শালিক, চড়ুই, ফিরে এসো। আমি তোমাদের জন্য মুড়কি রেখেছি। ভয় পেয়ো না।”
একটু সময় যেতে না যেতেই দূর থেকে দেখা গেল তিনটি ছোট পাখি আবার উড়ে আসছে। তারা বারান্দার এক কোণে বসে টু টু শব্দ করছে। খুকি এবার আর হাত বাড়িয়ে ধরল না। শুধু মুড়কির থালাটা মাটিতে রেখে হাসিমুখে চেয়ে রইল। পাখিরা সাহস করে এসে খাবার খেতে লাগল।
সেদিন থেকে খুকি রোজ বারান্দায় বসে তার নতুন তিন বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করত। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে গড়ে উঠল গভীর মিষ্টি সম্পর্ক ভালোবাসা আর বিশ্বাসের বন্ধন।




















































