ব্যক্তির চেয়ে রাষ্ট্রের সীমাবদ্ধতা হচ্ছে রাষ্ট্র চাইলে প্রতিবেশী বদলাতে পারে না। মিয়ানমার আমাদের এমন একটি প্রতিবেশী যেটা সুবিধার চেয়ে কয়েক শত গুণ ক্ষতি করেছে বেশি। একদিকে সে দেশের নাগরিক রোহিঙ্গাদের ভরণপোষণ অন্যদিকে সে দেশের মাদকের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করা।
প্রতিনিয়ত অভিনব কৌশলে মাদক কারবারিদের বিভিন্ন চক্র মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে মূলত ইয়াবার বড় চালান নিয়ে আসছে। গত প্রায় ৯ মাস ধরে দেশ থেকে ওষুধ, খাদ্য, নির্মাণসামগ্রী, কৃষি উপকরণসহ বিভিন্ন পণ্যের বিনিময়ে মায়ানমার থেকে ইয়াবা, আইসসহ আরো মাদকদ্রব্য নিয়ে আসতে সংশ্লিষ্ট চক্রগুলোর তৎপরতা বেড়েছে।
কোস্ট গার্ড, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, এসব পণ্যের বিনিময় হয় সাগরের মায়ানমার অংশে। বিশেষ করে মাছ ধরার নৌযানে পণ্য নেওয়া হয় মায়ানমারের আরাকান আর্মির সদস্যদের কাছে।
এসব পণ্যের বিনিময়ে সেখান থেকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য নৌযানে আনা হচ্ছে সাগর ও নদী ব্যবহার করে। এ দেশ থেকে মায়ানমারে পণ্য পাচারকালে কোস্ট গার্ড গত এক মাসে কমপক্ষে চারটি চালান আটক করেছে।
বাংলাদেশ থেকে চোরাইপথে মিয়ানমারে যাচ্ছে ভোজ্যতেল, ডাল, আদা, আলু, কাপড়, সিমেন্ট ও খাদ্যসহ নিত্যপণ্য। বিনিময়ে দেশে আসছে ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক। শুক্রবার কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গা এবং পুলিশের সমন্বয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন কয়লা ডিপো পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন কর্ণফুলী চ্যানেলে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে একটি সন্দেহজনক কার্গো বোটে আটকের পর তল্লাশি করা হয়। কার্গো বোটে অবৈধভাবে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা প্রায় ৫১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ৬২০ বস্তা ডাল, ১০ বস্তা আদা, ৪৮০টি লুঙ্গি, ৪০০টি শাড়ি উদ্ধার করা হয়। এ সময় পাচারকাজে ব্যবহৃত কার্গো বোটসহ ৭ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।
এর আগেও গত ১৮ আগস্ট মিয়ানমারে মাদকের বিনিময়ে পাচারের সময় ৫০০ বস্তা আলু এবং একটি ফিশিং বোটসহ ১১ জন পাচারকারীকে আটক করে কোস্ট গার্ড। কুতুবদিয়া থানাধীন আলী আকবর ডেইল সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।
এতে দুভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ। বিদেশি অর্থ খরচ করে দেশের জনগণের জন্য আমদানি করা পণ্য চলে যাচ্ছে অন্যদেশে আর তার বিনিময়ে আসছে মাদক। এই প্রক্রিয়া বন্ধ করতে না পারলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে।