মাটিশয্যা
প্রণব মজুমদার
অনূঢ়া একাদশী মিলনাসক্ত হবার আগে
বুঝতে পারেনি ফেলতে যাচ্ছে ফাঁদে পা!
ভেবে নিয়েছে শরীরানন্দই জীবনের স্বর;
কুমারীত্ব চলে গেলেও প্রাপ্তি মেলবে ঘর।
হননকারীর অবজ্ঞা পেয়ে এবার নিজকে
কয়লার মতো অঙ্গার করার কথা ভাবে !
চিন্তায় থেকে থেকে রাত্রি জেগে জেগে-
মেয়েটি মাটিবাসর রচনা করতে চলেছে।
বেলাশেষের নতুন ট্রেন
সাঈদুল আরেফীন
চোখের দুই কোণে জমাট বাঁধা অশ্রুবিন্দু,
আছে নিভৃত অজস্র শব্দ ঝংকার
না বলা কথার প্রতিধ্বনি
সমুদ্রপথ ডেকে নিয়ে যায় অতল জলরাশির ভেতর
প্রতিদিন, প্রতিদিন ভোরের আলোয় জেগে ওঠা কিম্বা
যখন খররোদ মাখিয়ে নিই করিডোরে
শরতের বিশালাকাশে, দেখি শ্বেতশুভ্র মেঘের ছড়াছড়ি;
আনমনা হই, খুঁজি অন্য আলোর ভুবন, খুঁজি রং, ক্যানভাস
জীবন মানে ছন্দ নিরানন্দ খেলা বিষাদী মন আর উড়ে যাওয়া বকপক্ষী;
প্রতিদিন আরো দেখি-
সকালের ভেজা রাজপথ, বৃষ্টি ধোয়া বালিয়াড়ি
নিরব নিথর বোবাকান্না
সবুজ উপত্যকার ভেতর পাহাড়ী কন্যার বিষাদী মেলোডি সুর।
নেই সেই বৈসাবি উৎসব, হারানো বিকেলের গল্প, তবুও জমাট বাঁধে
রক্ত হিম করা আগুন ঝরানো ঘুম ভাঙা সকাল, হারানো রোদ্দুর
তখনই ছুটি, ছুটে যাই, ছুটে যেতে ইচ্ছে করে
আত্ম ইস্টিশানে। পূঞ্জিভূত মেঘের কোলে সবুজ উপত্যকায়
ছুটে আসবে হয়তো বেলাশেষের নতুন ট্রেন ?
আলো হয়ে থেকো
ইফতেখার রবিন
তুমি চাঁদের মতো-
এই তো ভালো,
তুমি নীরব আলো ঢেলে রাখো চারিদিক;
নিষ্পলক তাকালে
ডুবে যাবে যেকোনো প্রেমিক।
এই তো ভালো-
আজ রাতে যদি তুমি দূরে সরে যাও,
অন্ধকার নেমে আসবে আমার ভেতর;
তবু ভোর হলে
তোমার নামের নরম আলোয়
আবার জেগে উঠবে হৃদয়ের প্রহর।
রঙের পদযাত্রা
আলী আকবর বাবুল
বৈশাখ আসে আগুনের পাখা মেলে, ধুলোর ভেতর লাল সূর্যের ঢেউ
শহরের বুকে বাজে ঢাক- একটি প্রাচীন হৃদয়ের পুনর্জন্ম
মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে রঙিন নদী, মুখোশেরা ইতিহাসের চোখ পরে
কাঠের বাঘ হেঁটে যায়, যেন ভয়কে শাসন করে মানুষের হাসি।
শঙ্খের শব্দে আকাশ একটু নিচু হয়ে আসে, স্পর্শ করতে চায় কোলাহল
রঙের ফিতেগুলো উড়ে যায়-মুক্তির মতো, বাঁধনহারা বাতাসে
মাটির গন্ধে লেখা থাকে হাজার বছরের প্রতিরোধের গান
মানুষের ভিড়ে আমি দেখি একটি জাতির উত্থানের নীল নকশা।
সূর্যের তাপে ঘাম ঝরে, তবু আনন্দের ভিতরে শীতল নদী বইছে
বৈশাখ মানে নতুন করে দাঁড়ানো, ছাই থেকে জেগে ওঠা বৃক্ষ
মুখোশের আড়ালে লুকানো নয়- বরং প্রকাশের সাহসী উৎসব
এই পদযাত্রা সময়ের বিরুদ্ধে মানুষের অনন্ত জয়ের প্রতীক।
রিকনসিলিয়েশন
মাসুম মোরশেদ
হুঁ হুঁ করো, মত দাও, বসো না যে?
শক্ত হ্যান্ডশেক করো, বুকটা মেলাও।
ভয়ের কী? উষ্ণতা, উ. ষ্ণ.. তা…
কিংবা ঘামলে
মুখে বুকে ফুঁ ফুঁ করি।
শান্তি, শা.. ন্তি…
মুখে কথা নেই। কুলুপ আঁটলে?
ভয় করে? কিসে ভয়?
বাতাসে বার্তা সন্ধির আকছার।
আজ কথা হোক, দোষ ভুল তুলে রাখো
মাচায় টাঙানো সিকিয়ায়।
রিকনসিলিয়েশন দরকার
তোমার আমার।
আমাদের কথা না বুঝে, না জেনে
বলে যায় কেউ চায়ের টেবিলে,
পাড়ার মোড়ে বটের তলে।
কত কথা হয়, বাহুল্য সব।
ভেতরের খবর কজন জানে?
মত দিতে পারো; সঙ্কোচহীন।
দুই ভোট। হ্যাঁ, না আছে। হোক সব বন্দোবস্ত।
খেয়াল করেছো নিশ্চয়, বাম বলে, ডান!
ডান বলেছে, হুর রে!
বহুদোষে দুষ্ট, পরিপুষ্ট গুণও।
মধ্যপন্থা; মধ্যস্থতা!
ক্ষমতা! ক্ষমতা!!
রিকনসিলিয়েশন হয়ে গেছে কারও।






















































