কবিতা

অনুবাদ কবিতা

প্রতিধ্বনি

ক্রিস্টিনা রোসেটি
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল

রাতের নিস্তব্ধতায় আমার কাছে এসো;
স্বপ্নে কথা বলার নীরবতায় এসো;
কোমল ভরাট গাল এবং উজ্জ্বল চোখ নিয়ে এসো
স্রোতের ওপর সূর্যের আলোর মত;
অশ্রুসজল চোখে ফিরে এসো,
হে স্মৃতি, আশা, বিগত বছরগুলোর প্রেম ।
ওহ্ স্বপ্ন, কী মধুর, বড্ড মিষ্টি, খুব বেশি তিক্ত-মধুর,
যার জাগরণ স্বর্গে হওয়া উচিত ছিল,
যেখানে ভালোবাসায় পরিপূর্ণ আত্মারা বাস করে আর মিলিত হয়;
যেখানে তৃষ্ণার্ত আকুল চোখ
ধীর গতির দরজাটি দেখে
যে খোলা পথ দিয়ে ভেতরে ঢোকা যায়, বের হওয়া যায় না ।
তবুও স্বপ্নে আমার কাছে এসো, যেন আমি বাঁচতে পারি
মৃত্যুর শীতলতায় জমে গেলেও আমার প্রাণ আবার জেগে উঠবে:
স্বপ্নে আমার কাছে ফিরে এসো, যাতে আমি দিতে পারি
প্রতিটি স্পন্দনের জন্য স্পন্দন, নিঃশ্বাসের জন্য নিঃশ্বাস:
আস্তে কথা বলো, নিচু হয়ে ঝুঁকে বসো,
কত যে আগে, আমার প্রিয়তম, কত দিন আগের কথা ।


ক্রিস্টিনা জর্জিনা রোসেটি ছিলেন একজন ইংরেজ লেখিকা, যিনি রোমাঞ্চকর, ভক্তিমূলক এবং শিশুদের জন্য কবিতা লিখতেন। তার জন্ম ৫ই ডিসেম্বর ১৮৩০ এবং মৃত্যু ২৯শে ডিসেম্বর ১৮৯৪। ক্রিস্টিনা রোসেটি ভিক্টোরীয় যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইংরেজ কবিদের মধ্যে একজন। তার দৃষ্টিভঙ্গির গভীরতা, কথ্য ভাষার শৈলী এবং কবিতার গীতিময় গুণ আজও আমাদের কাছে শক্তিশালী আবেদন রাখে এবং অনুপ্রাণিত করে। তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে গবলিন মার্কেট এবং রিমেম্বার। এই বিখ্যাত ‘প্রতিধ্বনি’ কবিতাটি হচ্ছে তার একটি অনন্য সৃষ্টিকর্ম। ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে এই অসাধারণ কবিতাটি প্রকাশিত হয়। প্রতিধ্বনি একটি বিষাদপূর্ণ প্রেমের কবিতা, যা হারানো ভালোবাসাকে স্বপ্নে ফিরে পাওয়ার আকুতি প্রকাশ করে। ক্রিস্টিনা রোসেটি জীবনের একটি সময় বিষণ্ণতায় ভুগেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিয়ে করেননি । নিজের জীবনকে কবিতা ও ধর্মীয় বিশ্বাসে উৎসর্গ করেছিলেন।

[ছবি: গুডরিডস.কম
তথ্যসূত্র: ইংরেজি সাহিত্য]


 

নিয়নের মেয়ে

দ্বীপ সরকার

নিয়নের মেয়ে, আমাদের ছাদশহরে আসো
টিকোটিন মিশ্রিত কুয়াশার মৌতাত ফুটবে
তোমার ভৈরবী কেশকুঞ্জে
খোলসমুক্ত কিছু স্বর্ণলতিকা
পরজীবী বৃক্ষের মতো
চোরাগলিতে, আক্ষেপ ছড়িয়ে যায়-
সকালে পুরোদোস্তর সোঁদালী পিরিচে রঙ চা
বিবিক্ত মোড়ে, আবেগ উড়ে য়ায়
কিছু জ্যাম, আটকে দিয়েছে
দুঃখ সড়কে-দুঃখবাহী যান্ত্রিক বাস
নিয়নের মেয়ে, তমি আসতে পারো

চন্দ্রহননের জোছনাদূরে ডিউক উঠেছে আজ
মিনারের কাছে নন্দিত ঝালরে ফুটেছে আযান
কেউ নেই, প্রশ্ন তুলবার
কতকাল আগে, সঁপেছি তোমাতে-আমার পাঁজর
তোমার, নিকেলের চুড়িবন্ধনিতে
বায়োস্কোপের মতো চিকচিক অভিনয়
আমি জানি-এইসব ফসলের ধান
আমাদের এই গলিতে, কুকুর নেই
কিছু মুখ ভাসে,ওড়ে, কাঁপে-হৃদয়ে
আসো, এসেই দেখো
শহরের ধুলোবালিতে কার পদচিহ্ন দেখা যায়।

 

বাদল রহমান-এর তিনটি কবিতা

কোন ভরসায়

জল ছলাৎ ছলাৎ
ভাঙে একূল ওকূল,
ভাঙে বসত ;
ভাঙে স্বপ্ন।
পাড়ের কড়ি নাই
কোন ভরসায় পাটনী বসে থাকে তার নায়।
আমিও উপকূলে বসে থাকি নিত্য সকাল-সন্ধ্যা
কোন পবনের আশায় …

 

দুই গ্রামের গল্প

ওগ্রামে রোজ বিকেলে বৃষ্টি নামে দুখ
যে ছিলো বাল্যের শিউলি বকুল
সে বিচ্ছেদ আগুনে পোড়াচ্ছে বুক।
ওগ্রামের দীঘলাঙ্গী কিশোরী
এগ্রামে এক বধূ
আঁচলে বেঁধেছে চাবির সুখ ।

 

একটু খবর

ও নীলাকাশের তারা
নীলার খবর জানো
নীলার একটু খবর আনো
কীর্ত্তনখোলায় নীলার বইছে কেমন ধারা …