চুপকথার দহন
মুহম্মদ নুরুল আবসার
বুকের ভেতরে মনের গহীনে
চুপকথারা চুপ থাকে না,
উথাল-পাতাল তরঙ্গের মতো
কেবল লাফায়, শুধুই লাফায়।
আমি বলি— চুপকথা তুমি স্থিত হও
নর্তন-কর্দন তোমায় মানায় না।
নীল সমুদ্রের উত্থাল তরঙ্গমালায়ও
থাকে কিছু কিছু চুপকথা
সুনামীতে আরো বেশি।
ঝিনুকের খোলসে
কান পাতলেই শোনা যাবে
চুপকথার দহন যন্ত্রণা।
জলি কর্মকার
শাহীন মাহমুদ
চুলের সিঁথি ধরে হেঁটে যায় কুহক
পাহাড়টা কাঁদে শুধু জলে ভরে চোখ
বাউন্ডেলে হৃদয় নাটাই ছেঁড়া ঘুড়ি
অরণ্য ডেকে বলে এসো হাতটা ধরি।
পাহাড় জানতো কতো জল তার বুকে
ওষ্ঠের আকুতি তাই দিয়েছে সে রুখে।
চুলের সিঁথি ধরে নেমে আসে ঘড়ি
কে কাকে ছুঁতে চায়- আমিও তো ধরি
নেউটা হৃদয় খোঁজে নিউজ পেপার
পঞ্চম পৃষ্ঠায় ঝুলে থাকে জলি কর্মকার।
যখন বেড়ে যায় কদর
মিজান মনির
একদিন-
সকল সর্ম্পকে কাঁদাবো! শোকের ফ্রেমে বাঁধাবো!
দেশপ্রেম, পরতে পরতে স্বজন-প্রীতি, কেউ গাইবে শোকগীতি!
সৃষ্টির প্রতিটি রূপ পড়ে থাকবে ঘরে কিংবা অগোচরে…।
অনুপস্থিতির অন্তরালে তোতাপাখির কিচির মিচির,
এত এত নির্মাণসামগ্রী; রাখবে কে! কোথায়?
দাঁত না থাকলে কদর বেড়ে যায়- পূর্বে নয়।
কিছু দাঁতের মূল বা কামড় খাঁটি কিংবা
শক্ত বলেই উপস্থিত-অনুপস্থিতিতেও বাড়ে কদর,
গ্রাম-শহর-বন্দর…।
ঈর্ষারও পালক ভিজে যায় শরমে!
ঘোর কুয়াশাও পারে না লুকোতে…
ভেসে ওঠে রং করা মুখ।
কিছু নেই-
কেবল যৎসামান্য সৃষ্টি। ওপথেই থাকবো চিরকাল।
মানব প্রেম-বনে ঈশ্বর খোঁজে।
নিঃশব্দে পা ফেলি দীর্ঘ ঘুমের ওমে…!
এই কি জীবন
গোলাম রববানী
আমার ভাই বিবেক আমাকে তাড়াতে থাকে
তাড়াতে তাড়াতে শ্মশানের কাছে নিয়ে যায়;
নদীর কিনারে নিয়ে যায়, একলা দাঁড়িয়ে থাকি
পড়ে থাকা কালো পিত্ত সবুজ পিত্ত বোঝাই।
বোঝাতে বোঝাতে নদীবুকে চুনিশিলা ভাসে
শ্মশানের নীরবতা দেখে শেষ ছাইভস্ম ওড়ে
বুকঘড়ি টিকটিক কানে বাজে, হাঁটতে হাঁটতে
কবরের দেবে যাওয়া মাটির স্তূপ দৃষ্টি কাড়ে।
আমার ভাই বিবেক তাড়াতে তাড়াতে আমাকেই
সমুদ্র সৈকতে নিয়ে আসে, পদচিহ্ন আঁকে
বালুকাবেলায় চিলতে মেঘের সম্ভোগে দেখি
দেখতে দেখতে ফুরিয়েই যায় পদচিহ্নখানি
এই বালিজল, এই শ্মশানের ছাই, নদীজলস্রোত
যখন অসহ্য মনে হয়; কবরমাটি নিরবে ডাকে
আয়, আয়, তবু পথে যেতে বড় কষ্ট হয়-
থাকতে আমি ভালোবাসি, এতটাই ভালোবাসি।
সেন্টিয়েন্স
বশির আহমেদ
আমি খুব পাষাণ হয়ে গেছি
আমার কনসায়েন্স আমাকে বাধ্য করে আপনজনের
কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে,
যাদের কোনো সেন্টিয়েন্স নেই আমি বহুদিন
তাদের সাথে হেঁটেছি।
কিছু পথ হাঁটলেই মানুষ চেনা যায়!
নম্রতাকে দুর্বল ভেবে কেউ কেউ সাঁতার কাটে বোকার নহরে,
আমি জল সাঁতারের দৃশ্য দেখি।
পাথরের শরীর থেকে খুঁজে বের করি ফুলের ঘ্রাণ,
হিউমাসের অভাবে কিছু রুক্ষ পাথর নিজেই
নিজের ল্যাটারেট চেনায়!
নিজ চরকায় তেল
বিটুল দেব
বঙ্কিম চন্দ্রের সাধনা দেখে
পাগলা কুকুর করে ঘেউ ঘেউ
কামড় দেওয়াকে ভাবে মহান আজাদী।
দুপুরলতার কিঞ্চিৎ ছায়া নিয়ে
উপহার দিতে চায় বিষদাঁত;
এরূপ দৃশ্য দেখেছিল পর্দায়
মেলা জন সবুজ স্বাক্ষী।
কুকুরটি ভালো হবে না ভ্যাকসিনে
ভালো হবে না মুগুরে।
সুপ্রভাত বলে যতক্ষণ খুঁজবে না
স্বয়ং বিষ্ঠার দর্শন।






















































