কবিতা

আমার কোনো বসন্ত নেই

অমল বড়ুয়া

বসন্ত লেগেছে আজ তোমার মনে
আমি কিন্তু অথৈ শূনতায়
হাবুডুবু খাই রঙহীন হৃদয়ের গহীণ সাগরে
শিমুল-পলাশের বিরানভূমে
হেঁটে চলি কপর্দকহীন কন্দর্প,
আমার এখানে ঘোর বরিষণের হিমতুষার
আমবস্যার সুনিপুণ নির্মল নবীন দীপ্ত আঁধার
উদ্দেশ্যহীন জীবনের বন্ধনহীন
এই মর্মর ধূসর দ্রাঘিমায় বসে থাকি
একজন ‘তুমি’র অপেক্ষায়

আমার কিন্তু কোনো বসন্ত নেই
বুকের আলোয় গেরস্থি তিমির শূন্যতার।

 

 

বিষণ্ন আরতি

রূপক বরন বড়ুয়া

তোমার কাছে কেমনে যাবো সব দরজা খিল লাগানো
যখন তুমি মুখ ফেরালে তখন থেকে বিষণ্নতা! গুমোট মনে ভোর সন্ধ্যা না হয় গেলো! দীঘল রাত পার করছি দুঃখের পাখি সঙ্গে রাখি অনেক কথা ব্যথার কোলে অনিদ্রাতে অস্থিরতা একলা খাটে, একলা কাটে শূন্য মনে।
পূর্ণিমাটা দেখবো রাতে কি আর বলি আকাশটাকে পর করেছি! অমবস্যার অলংকারে আপাদমস্তক জড়িয়ে আছি গৃহকোণের অন্ধকারে ঘুম খুঁজেছি, মুখ গুঁজেছি বালিশ বুকে! সীমাবদ্ধ জীবনটাতে একটা ছবি কেবল ভাসে তুমি তখন অন্যবাসে!
কেমন করে এ দূরত্ব ঘুচিয়ে নিয়ে তোমার কাছে আবার যাবো! ইতোমধ্যে দূরত্বটা নৈকট্যতে বাঁধ সেধেছে! তবে প্রেমটা যদি পেতাম ফিরে জগতটাকে নতুন করে চিনে নিতাম! ফুলের ঠোঁটে চুমু খেতাম, নদী সাগর পাড়ি দিতাম, আকাশটাকে বলে দিতাম একটা চাঁদ না হয় রেখো হরহামেশা হৃদয় মাঝে রাত্রি জুড়ে।
অনেক কথা ভাবছি শুধু কল্পনাতে তোমার ছায়া আর পড়ে না বয়োবৃদ্ধ রেটিনারই কারসাজিতে নিদ্রাহীন আরশিটাতে।

 

 

হারানো কবিতা

জাকিয়া রহমান

আমি অধীর আবেগে অনেক প্রত্যাশায়
আবার বুঝতে চাই সে হারানো কবিতার মর্ম,
ছন্দ কি সেখানে লিখেছিল
আমাদের ব্যথিত বিরহের কাহিনী?
আচমকা সব কিছু ফেলে দূরে চলে যাওয়া,
দুজনের মনের মাঝে দেয়াল গড়ে ওঠার কথা।

আজ এখানে মেঘের অবয়বে অপূর্ব রঙ আলোর খেলা,
কী বিচিত্র এক চিত্র এঁকেছে রহস্য তুলি!
জানো কী লেখা আছে আজ দিগন্তে মেঘের গায়ে?
এক ঝাঁক পাখি উড়ে চলে গেল,
কে জানে কোথায়?
নিশ্চয়ই অতদূর যেতে পারবে না, আছ যেখানে-
আমার মনের কথাগুলো বলতে।
আর বললেও কি তুমি বুঝবে?
চেষ্টাও করোনি বোঝার কখনও।

যে আশা করেছিল হৃদয় আর স্বপ্ন দেখেছিল-
সাঁতার কাটতে চেয়েছিল ওই
শরতের আকাশে মেঘের ভেলায়,
সে স্বপ্ন শুকিয়ে যাওয়া শিশিরের মত-
সব আশা নিয়ে পড়েছিল লুটায়ে ঘাসের বুকে।
যেন বড় অসহায়! কেঁদে নিয়েছে বিদায়
আর এসেছিল সন্তর্পণে নতুন জীবনের গান।