কাঁচের গ্লোব
মুন্সী আবু বকর
কাচের গ্লোবের ভেতর
তুষার নয়-
নামে নামে দেশগুলো ঝরে পড়ে।
হাত ঘোরালেই
রাজধানী কাঁপে,
রাষ্ট্রপ্রধান ঘুম ভাঙে শিকলে।
গ্লোবের গায়ে লেখা-
“শান্তি”
ভেতরে চাপা শব্দ
বুটের।
ইতিহাস তাকিয়ে থাকে,
কাচ ভাঙে না-
শুধু ভেতরের পৃথিবীটা
বারবার বদলে যায়।
সুকুমার বড়ুয়া ও নদীর ভিতর নদী
জাকির সেতু
নিঃশব্দে নদীর ভিতর নদী বয়ে যায়! প্রশস্ত পাড়ে এলোমেলো শব্দেরা কথা বলে ওঠে।
পাহাড়ের নির্ঘুম যন্ত্রণার ভিতর রোদের কুসুম
দুর্ভাবনার চিলেকোঠায় রংধনু ছড়া-সম্রাট আঁকেন নির্ভাবনায় মেঘ ও বসন্তের ছবি।
প্রতিটি বাস্তব নির্মাণশৈলী আহ্বান করে ! প্রজাপতির ডানায় উড়ে যেতে নির্ঘুম হালদা পাড়ে অজস্র স্বপ্নগুলি
তারা খসে পড়ে ছড়ার ! পাতায় ফুলেরা নেচে ওঠে দুরন্ত কিশোরের ঠোঁটে।
ভাবনার মেঠো পথে বসে চাঁদের মেলা
মেলায় হারিয়ে যাওয়া নক্ষত্রের খোঁজে বিষণ্নতায় ছেয়ে যায় শ্রদ্ধামাখা হৃদয় যার মায়ায় বর্ষিত হয় পুষ্পাঞ্জলি।
উষ্ণতর পৃথিবীর খোঁজে
নুরুল ইসলাম বাবুল
তোমাদের শহরের মতো
এইসব গ্রামেও শীতেরা বেঁধেছে বাসা,
শীত আমার পছন্দ নয়;
তবু বিষন্ন সন্ধ্যার মতো পড়ে থাকি
এই শীত-সংসারে।
মাঝে মাঝে পরিযায়ী পাখির ডানায়
উড়ে যেতে চাই-
উষ্ণতর পৃথিবীর খোঁজে।
প্রিয় অবহেলা
সাজ্জাদ সাদিক
ভালোবাসার চেয়ে অধিক ভালোবাসি অবহেলা
গোলাপের চেয়ে অধিক প্রিয় বিরহের কবিতা
তাই আমাকে তুমি ভালোবাসা কিংবা
ভ্রান্ত গোলাপ দিও না,
আমাকে বরং নিরেট অবহেলা দিও ।
একেকটিবার তোমার অবহেলা পেলে আমি
পেয়ে যাই সহস্রাধিক মোলায়েম কবিতা ।
জানি তোমার কাছে অবশিষ্ট নেই ভালোবাসা
কিংবা শুকিয়ে গেছে গোলাপের সব পাপড়ি ।
তোমার অবহেলা পেলে হেমন্তের পর্ণমোচী বন
থরে থরে ঢাকা পড়ে লাল পাতায়,
তোমার অবহেলা পেলে আকাশের তারাগুলো
খসে খসে পড়ে আমার প্রিয় অমাবস্যায়।
আনন্দ বাজার
এম আব্দুল হালীম বাচ্চু
এখানে আনন্দ বিক্রি হয় না, তবু নাম আনন্দ বাজার একটি সাইনবোর্ডের ভেতর মানুষের আনন্দ-বেদনা ঝুলে থাকে। লক্ষ্মীপুরের সরল মুখগুলো দরদাম করতে করতে জীবনের দামটা বেমালুম ভুলে যায়।
পাশ দিয়ে বয়ে গেছে এক নদী,
নৌকার পাটাতনের শব্দ নেই যার বুকে!
চৈতালী খরায় যার তলানী শুকিয়ে চৌচির হয়!
এখানে সুখ আসে কাঁচা মরিচের গন্ধে,
দুঃখ লুকিয়ে থাকে খোলা দাঁড়িপাল্লায়।
এক পাশে চাল, অন্য পাশে অনিশ্চিত কাল। এখানে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় নীরবতা; আর সবচেয়ে কম লেনদেন হয় আনন্দ! তবুও এর নাম আনন্দ বাজার!
কালচক্রে কৃষক
মামুন চাকলাদার
আর্দ্র দেশের মাটিতে, জীর্ণ পত্রের ঘ্রাণে
ভোরের অন্তর্হিত আলো বয়ে আনে
অজানা শিশিরের ক্ষীণ পদচিহ্ন।
যেখানে হৈমন্তিক পাখির বলয়- ভঙ্গের ধ্বনি,
কৃষকের ক্লান্ত শরীরে বাজায় ঘুমের রজনী!
শস্যরাশি ছুঁয়ে নির্জন দুপুরের নিঃশ্বাস- গন্ধ;
শিরোভূষণে তাঁর জ্বলজ্বল করুক ফলনের বিজয়ছন্দ।
আমি মৃত্তিকা- হেমন্তের স্বর্ণধান হয়ে
হাসি ফোটাতে চেয়েছি কৃষকের ম্লান মুখে।
আমি বারিস্রোত- জৈব সার হয়ে
তার দারিদ্র্য-পীড়িত হস্তের স্পর্শ পেতে
হিমেল হাওয়ায় ভর করে আসতে চাই প্রাঙ্গণে।
আমি প্রাকৃতিক লাঙল-
কেঁচো হয়ে হাঁটতে চাই মাটির স্তনে
এক বিন্দু সলিল, একবার নিড়ানি হতে-
জন্মের চক্রাবর্তনে কতবার ফিরতে হয়?
পবিত্র কৃষকের ললাটে যা লেখা,
আমি কালি হয়ে হয়ে যাবো তার অক্ষর।
শিশিরকণার সাথে কথা বলতে বলতে বুঝেছি-
যুগের বিরাম-প্রারম্ভেও
কালচক্রে কৃষকের ললাটে থাকা স্বেদুসৌরভ
অবিনশ্বর।






















































