আজও লিখতে হয় দীর্ঘশ্বাসের কবিতা
মিজান মনির
এই সময়ে দাঁড়িয়ে তোমার চলে যাওয়ার দিনটাও ভুলে যাচ্ছি!
ঠিক মনে নেই কখন চলে গেলে
শুধু মনে আছে, সে দিনটার ইতিহাস
যে— দিনটা এলে আমি অনেক কাঁদি; নিভৃতে চিৎকার করে,
কিন্তু জোর করে, খু-উ-ব জোর করে, বন্ধুরা আমাকে হাসায়!
যাতে কেউ মুখস্থ করতে না পারে-
আমার ভেতরের করুণ ইতিহাস মুছতে বসেছে ধীরে ধীরে!
মনে হয়— সেই দিনের বাতাস একটু হালকা ছিল!
হয়তো তুমিও হতে চেয়েছিলে তুলোর মতো; অথচ—
মায়ের সবুজ-ভালোবাসা রেখে চলে গেলে।
তারপর— বহু ক্ষণ, প্রহর, দিন, মাস, বছর যে পার হলো
তুমি নেই, এটা বোঝানোর জন্য
আমাকে কারও কিছু বলার দরকার হয়নি।
আমার কথাবলা থেকে, হাঁটাচলা থেকে, নিঃশ্বাস ফেলার ভঙ্গি থেকে
আচার-ব্যবহার থেকে, স্বভাব-সংস্কৃতি থেকে, ওরা বুঝে নিয়েছিল—
আমি অর্ধেক, না! না! না! তারও কম। বিন্দু যেন!
এখন আমাদের সামনে তুমি সারাক্ষণ বলো
তোমার প্রিয় সেই স্বপ্নের কথা— ছেলে হারানো, বোন হারানোর ব্যথা
যা কেউ কোনোদিন, কোনোভাবেই শুনবেও না কখনও!
তুমি মিশে আছো সর্বত্র, অথচ আমি ধূসর দেখি
তুমি গেঁথে আছো গানে গানে, অথচ আমি বধির!
তুমি লেগে আছো সোঁদামাটির ঘ্রাণে, অথচ তারা ফলায় শ্যাওলা-ছত্রাক
দাদার ঘরের দেওয়ালে ঝুলে থাকা পুরোনো একটি পাখির পালক! স্বপ্ন দেখাতো—
তোমার প্রিয় শব্দগুলো আমি হতে চেয়েছিলাম, সোনার স্বপ্ন বুনি—
আনন্দে-শোকে, স্মৃতিতে-গীতিতে, সবটা দিয়ে—
ইচ্ছেগুলোকে গলাটিপে হত্যা করেছে মানবরূপী নরপিশাচ
অথচ, একদিন রাজপথ রক্তে রাঙিয়ে, আকাশ-বাতাস ভারী করে
সব কিছু দিয়ে— যা ছিলো মমতাময়ী মায়ের বুকে
বিছিয়ে দিলে সোনা রঙের শীতল পাটি।
তারপরও—
আমার এখন কিছুই ভালো লাগে না!
অথচ, সব কিছু ঠিক আগের মতোই আছে
রাতের পর ভোর হয়, পুবে উদিত হয় রক্তিম সূর্য, তবে আতংকে
তুমি নেই—
তবুও আছো—
দাদার ব্যথাভরা শরীরে, কৃষক বাবার গল্পে, মায়ের স্বপ্নআাঁকা চোখে,
বোনের না বলা কথার ভেতরে-
এগুলো আজ আমি দেখতে পারি না! সইতে পারি না—!
এখন শুধু নীরবতা
কারণ মা কোনো গল্প বলে না!






















































