কবিতা

হালখাতা

রহমান মুজিব

ট্যাপ খোলা জলের অপচয় আমি
ঢালুর ডাকে গড়াচ্ছি পতন অভিমুখে

আমার চোখে রাতজাগা ম্যারাথন বেঁধে
দীর্ঘশ্বাসের চাবুক ভাঙছে বুকের মিনার
আর আগাছায় ভরে উঠছে অভিমানের
বারোমাসি জমি

এভাবে অবজ্ঞারা জোড়াচোখে পুঁতে রাখে
নদীর ভাষা, পথিক তবুও অতীতের আলপথে
খোঁজে জীবনের হালখাতা

 

রাতের ঘনত্ব এখন গুপ্তঘাতকের হাতে

মোহাম্মদ ইসমাইল

রাতের ঘনত্ব এখন গুপ্তঘাতকের হাতে
অস্বাভাবিক মৃত্যু এসে তাই কথা কয় সব বন্ধুদের সাথে!
লক্ষ্মীপেঁচার মতন সমস্ত আড়ালের আবডাল থেকে
পাথরের মূর্তির মতো যতই চাই নিজেদের সমস্ত ভয়কে
সেই দূরে কোথাও লুকাতে ;
পরাধীন এক বন্দুকের নল এসে যেন কথা কয়;
আমাদের এ-ই স্বাধীন মাথাতে!

 

নিবেদিত নৈবেদ্য

হাসনাত চৌধুরী

কাঁধ ঢেকে দেয়া রঙিন বাবরিকেশী
তপস্বী আপনি নেমে আসুন।
এমন অবরোহন দিবসে অন্তত দেখা হোক
সম্ভাব্য প্রণয় প্রকল্পের প্রাক্কলিক ব্যয় বিষয়ে
বিশেষ আলোচনার দাবি রাখে
প্রণতিরত এ প্রতারিত চোখ
কোথাও উৎসব হবে কি?
পাললিক শিলার প্রতিক্ষা কি ফুরাবে আদৌ?
প্রস্ফুটিত সুঢৌল! বিশ্রাম শুষে নিক
অকোমল হাতের নিবেদিত নৈবেদ্যে।
আমাদের দেখা হোক, চোখের অণুবীক্ষণে
ত্বকের মানচিত্র খুঁটে বের করি প্রাচীন প্রাচুর্য।
বহুমূল্য বাহন থেকে আপনার রাজসিক
অবতরণ অথচ প্রতিবারই আমি দেখি –
ঝলসানো এক ময়ূরাত্মা নি:স্ব, পাণ্ডুর
লুটেরা পাঁজরে লীন হবার প্রতিক্ষায়।
নাকি এ চোখ কেবলই ভুল বকে?
কবে আর নিজের প্রতি সদয় হবেন আপনি?
মায়ের মতো মমত্বে বাঁধে যে ঐশী আবেশ –
আসমানী আকাঙ্খা প্রকৃষ্ট প্রেম
এ দীনহীন কবে আর স্বাদ চাখবে সেই তহুরামৃতের?

 

অবহেলা

অমল বড়ুয়া

তোমার দুরত্বে ব্যবধান বাড়ে
এক অদ্ভুত অদৃশ্য অসুখে
বেহাত হতে থাকে সম্পর্কের সমস্ত খতিয়ান
ক্ষয়ে যায় আনচান পাগলপারা অনুভব
আর্কষণ কিংবা ভালো লাগা অথবা প্রেম;
বুকের গভীরে বাসা বাঁধে বিষাদ।

স্মৃতির মর্মর ধুলায় ঢাকা পড়ে
আমাদের দিনগুলো, উচাটন ভাবনারা
অতঃপর একদিন বিস্মৃতির আবাহনে
ফুরিয়ে যায় ধাবমান সময়, মনের দায়
সম্পর্কের সমস্ত দেনা অনিষ্পন্ন ঋণ।